প্রচ্ছদ বাংলাদেশ জেলা

গাড়ল-ভেড়াই তার সম্বল

17
গাড়ল-ভেড়াই তার সম্বল
পড়া যাবে: 2 মিনিটে

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি

‘এই গাড়ল-ভেড়াগুলোই আমার সম্পদ। এদের লালন-পালন করেই সংসার চলে। এরা ভালো থাকলে আমি ভালো থাকি। এরা অসুস্থ হলেই আমি অসহায় হয়ে পড়ি। অসুখ হলে ওষুধ বাবদ অনেক টাকা খরচ হয়ে যায়। এতেও কষ্ট নেই। কারণ ওরা বেঁচে থাকার ওপরই নির্ভর করে আমি ও আমার পরিবারের বেঁচে থাকা।’ কথাগুলো বলছিলেন ঝিনাইদহ কালীগঞ্জ উপজেলার সিংদহ গ্রামের গাড়ল-ভেড়া খামারি মোস্তাক। শারীরিক ভাবে অসুস্থ থাকায় অন্য কোনও কাজ করতে অক্ষম হওয়ায় মোস্তাক পশুপালন শুরু করেন। ২০ বছর ধরে গাড়ল-ভেড়া পালন করছেন তিনি। বর্তমানে বছরে কমপক্ষে ২লাখ টাকা আয় করেন। যা দিয়ে ছেলে-মেয়ের লেখাপড়ার খরচসহ সংসারের যাবতীয় খরচ মেটান তিনি।

মোস্তাকের নিজের বলতে ৫ শতাংশ জমি আছে। যেখানে তার বসতবাড়ি ও খামার। স্ত্রী, ২ ছেলে ও ১ মেয়ে নিয়ে তার সংসার। বড় ছেলে রজব আলী (১৮) মাদ্রাসা থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ে গ্যারেজে কাজ করে। বড় মেয়ে নাছরিন (১৪) অষ্টম শ্রেণিতে এবং ছোট ছেলে তাজমীন (৮) ২য় শ্রেণিতে পড়ে। মেয়েকে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করতে চান তিনি। 

মোস্তাক জানান, বাত, অ্যাজমা, এলার্জি ও হার্টের রোগী তিনি। ভারী কোনও কাজ করতে পারেন না। তাই ভেড়া পালন বেছে নেন। ২০ বছর আগে ১০-১২ টি শঙ্কর জাতের গাড়ল ও ভেড়া নিয়ে খামার  শুরু করেন। কিছু বুঝে ওঠার আগেই এক বছরেই ১৯টি ভেড়া মারা যায়। শুধু একটি গর্ভবতী ভেড়া বেঁচে ছিল। সেই ভেড়া থেকে আজ খামারে ৪০টি গাড়ল- ভেড়া (শঙ্কর) হয়েছে।

আরও পড়ুন:  এ্যাড. অনুপ কুমার নন্দীর ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ

মোস্তাক বলেন,  ‘আমাদের দেশি ভেড়া ১৪ মাসে তিনবার বাচ্চা দেয়। প্রতিবার ২-৩টি করে বাচ্চা দেয়। কিছু জাতের গাড়ল আছে যারা বছরে একবার একটি করে বাচ্চা দেয়। কিছু জাতের গাড়ল ১৪ মাসে দুবার বাচ্চা দেয়। প্রতিবার ১-২টি বাচ্চা দেয়। গাড়লের ক্ষেত্রে অসুবিধা হলো জাত চেনা। কারণ বিভিন্ন জাতের গাড়ল পাওয়া যায়। ভালো জাতের না হলে বেশি বাচ্চা পাওয়া যায় না।’ খামার ব্যবস্থাপনা নিয়ে তিনি বলেন, ছাগল, ভেড়া কিংবা গাড়লের থাকার ঘর দ্বিতল বিশিষ্ট হতে হবে। উপর তলায় ওদের থাকার ব্যবস্থা করতে হয়। যারা খামারে আবদ্ধ রেখে ভেড়া পালন করতে চান তাদের একটি ভেড়ার জন্য দিনে খড়, ভূষি মিলিয়ে ৩০ টাকা খরচ করতে হবে। আর যারা মাঠের ঘাস খাইয়ে পালন করতে চান তাদের ভেড়াগুলোকে দিনে দুই বেলা মাঠে খাওয়াতে হবে। রোগ বালাই নিয়ন্ত্রনে বছরে দু’বার পিপিআর ভ্যাকসিন, কৃমির ওষুধ, পক্সের টিকা দিতে হবে বলে তিনি জানান।  

আরও পড়ুন:  হাজত বাস করেও প্রতি মাসে পুরো টাকা তুলছেন শরনখোলার এক স্কুল শিক্ষক

ভেড়ার বাজারজাতকরণ নিয়ে তিনি বলেন, অধিকাংশ সময়ে ক্রেতারা খামার থেকেই ভেড়ার বাচ্চাগুলো কিনে নিয়ে যান। বড় ভেড়াগুলো স্থানীয় বারোবাজার হাটে বিক্রি করা হয়।

মোস্তাক বলেন, ‘বিভিন্ন সময়ে সরকারি প্রণোদনা আসার কথা শুনি, কিন্তু আজও পর্যন্ত সরকারিভাবে কোনও সুযোগ সুবিধা পায়নি। সরকারিভাবে আর্থিক সুবিধা পেলে খামারটি বড় ও আধুনিকায়ন করার ইচ্ছা আছে।’

উপজেলা প্রাণীসম্পদ অফিসার এ এস এম আতিকুজ্জামান জানান, উপজেলায় প্রায় ৯৫ হাজার গরু, ১ লাখ ছাগল পালন করা হয়। এছাড়া হাঁস-মুরগি তো আছেই। অথচ উপজেলায় কোনও ভেটেরিনারি সার্জন নাই। এই কারণে আমরা যথাযথ সেবা দিতে পারছি না।

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সাম্প্রতিক খবর আপনার মুঠোফোনে পেতে এখনি প্লে-স্টোর থেকে Bangla Magazine সার্চ করে ডাউনলোড করুন বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান নিউজ ম্যাগাজিন অ্যাপটি। অথবা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন এখানে। ভালো লাগলে অবশ্যই রেটিং দিয়ে উৎসাহী করুন।

  • 4
    Shares