প্রচ্ছদ Featured News জিজ্ঞাসাবাদে সাত হাই প্রোফাইল নেতার নাম-পরিচয় বলে দিলেন সম্রাট

জিজ্ঞাসাবাদে সাত হাই প্রোফাইল নেতার নাম-পরিচয় বলে দিলেন সম্রাট

214
পড়া যাবে: 5 মিনিটে
advertisement

যুবলীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি (বহিষ্কৃত) ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটকে জি’জ্ঞাসাবা’দে বেরিয়ে আসছে অজানা সব তথ্য। কাদেরকে তিনি সুবিধা দিতেন এবং বিনিময়ে নির্বিঘ্নে ক্যা’সিনো সা’ম্রাজ্য ও চাঁ’দাবা’জি টি’কিয়ে রেখেছিলেন তা জানিয়েছেন সম্রাট। ক্লাবগুলোতে অ’বৈধ ক্যা’সিনো কা’রবার এবং চাঁ’দাবা’জি চালিয়ে যেতে প্রভাবশালী সংসদ সদস্য, যুবলীগ নেতা ও পুলিশ কর্মকর্তাদের নিয়মিত টাকা দিয়েছেন।

advertisement

এই সুবিধার বিনিময়ে তিনি কোনো সমস্যায় পড়লে তাঁরা সহযোগিতা করতেন। তিনিও তাঁদের নাম ভাঙিয়ে চলতেন। র‌্যাবের জি’জ্ঞাসাবা’দে এসব কথা বলেছেন সম্রাট। সু’বিধাপ্রাপ্তদের মধ্যে সাতজনকে ‘খুঁটির জোর’ বলে দাবি করেছেন তিনি।

একাধিক র‌্যাব সূত্র জানিয়েছে, সম্রাট তাঁর খুঁটি হিসেবে যাদের নাম-পরিচয় দিয়েছেন তারা হলেন- গোপালগঞ্জের একজন সংসদ সদস্য (এমপি), যুবলীগের চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী,  প্রেসিডিয়াম সদস্য ও ভোলার এমপি নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মোল্লা মো. আবু কাওছার, বর্তমানের এক এমপি যিনি আগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তা ছিলেন, ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা (ডিবি) পূর্ব বিভাগের একজন অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) এবং মতিঝিল অপরাধ বিভাগের আরেকজন এডিসিকে সবচেয়ে বেশি সুবিধা দিয়েছেন সম্রাট।

তাঁর দাবি, এ সাতজনই ছিলেন ক্যা’সিনোস’হ তাঁর সব কারবারে খুঁটির জোর। সম্রাটের অ’পকর্মের সঙ্গে এই সাত ব্যক্তির সম্পর্ক খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। এরই মধ্যে মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরে সম্রাটের বিপুল পরিমাণ টাকা পা’চারের তথ্য পাওয়া গেছে। তাঁর বিরুদ্ধে মা’নি ল’ন্ডারিং আইনে মা’মলা দা’য়েরের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানায় সংশ্লিষ্ট সূত্র।

আরও পড়ুন:  এবার গ্রে*ফতার হচ্ছেন ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট

সূত্র আরো জানায়, গ্রে’প্তারের পরই সম্রাট তাঁর সাত খুঁটির জো’রের কথা বলেছেন। এরপর রি’মান্ডে জি’জ্ঞাসাবাদে’ও একই ধরনের দাবি করেছেন। তিনি বলছেন, ‘টাকা তো অনেকে খেয়েছে! আমি একা ফাঁ’সব কেন?’ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা (সাবেক) মাগুরার এক নেতাকে প্রতি মাসে টাকা দিতেন সম্রাট। ওই ‘ভাইয়ের’ সঙ্গে সম্পর্ক থাকার কারণে অনেকে তাঁকে সমীহ করত। সম্রাটের দাবি করা সেই ‘বড় ভাই’ এখন এমপি।

ক্যা’সিনো কা’রবারে ওয়ান্ডারার্স ক্লাবের টাকার বড় ভাগটি নিতেন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মোল্লা কাওছার। তাঁকে সেখান থেকে আয়ের ৩৫ শতাংশ টাকা পকেটে নেওয়ার ব্যবস্থা সম্রাটই করে দেন। একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, সম্রাট অনেক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে তাঁর অ’বৈধ আয় থেকে ডোনেশন দিয়েছেন। অনেক ব্যক্তি তাঁর কাছে গিয়ে টাকা নিয়ে এসেছেন।

তবে অ’বৈধভাবে ক্যা’সিনো চা’লাতে এবং চাঁ’দাবা’জি অব্যাহত রাখতে তিনি কয়েকজন ব্যক্তিকে নিয়মিত ১০ লাখ থেকে অর্ধকোটি টাকা পর্যন্ত মাসে ‘নজরানা’ দিয়েছেন। এই তালিকায় সবার ওপরে গোপালগঞ্জের একজন প্রভাবশালী এমপি, যাঁর সঙ্গে সম্পর্ক আছে প্রকাশ করে প্রভাব দেখাতেন সম্রাট। যুবলীগের চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরীকে টাকা দেওয়ার পাশাপাশি তাঁর বিভিন্ন প্রয়োজনও মেটাতেন সম্রাট।

আরও পড়ুন:  এখান থেকেও চাঁদা পেতে হবে ? এটা আমি সহ্য করবো না।

কর্মী ও ক্যা’ডার সরবরাহ করার দায়িত্বও ছিল সম্রাটের। নুরুন্নবী চৌধুরী শাওনকে কখনো ‘বস’, কখনো ‘লিডার’ কখনো ‘গুরু’ বলে ডাকতেন সম্রাট। কাকরাইলে তাঁর দ’খল করা ভূঁইয়া ট্রেড সেন্টারের পাঁচতলায় শাওনের জন্য আলিশান অফিস করে দেন সম্রাট। এ ছাড়া চাঁ’দাবা’জিসহ অনেক কাজে শাওনের সহায়তা নেন তিনি। শাওনও বিভিন্ন কাজে সম্রাটকে ব্যবহার করতেন।

ভিক্টোরিয়া ক্লাবে কাউন্সিলর সাঈদের মাধ্যমে সংগৃহীত টাকার একটা অংশ যেত শাওনের হাতে। গত মঙ্গলবার ঢাকা মুখ্য মহানগর হাকিম আদালত দুই মা’মলায় সম্রাটের পাঁচ দিন করে ১০ দিন এবং আরমানের এক মা’মলায় পাঁচ দিনের রি’মান্ড মঞ্জুর করেন। ওই দিন বিকেলেই দুজনকে ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়। বুধবার মা’মলার ত’দন্তভার র‌্যাবে হস্তান্তর করা হলে বৃহস্পতিবার আদালতের নির্দেশে দুজনকে জি’জ্ঞাসাবাদে’র জন্য র‌্যাব-১ কার্যালয়ে নেওয়া হয়। গতকাল ছিল সম্রাট ও আরমানের রিমান্ডের চতুর্থ দিন।

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সর্বশেষ আপডেট

  • 291
    Shares
advertisement