প্রচ্ছদ আওয়ামী লীগ শুদ্ধি অভিযানে তদবিরের শঙ্কায় কমিউনিস্ট থেকে নিরাপদ দূরত্বে শেখ হাসিনা

শুদ্ধি অভিযানে তদবিরের শঙ্কায় কমিউনিস্ট থেকে নিরাপদ দূরত্বে শেখ হাসিনা

328
পড়া যাবে: 6 মিনিটে
advertisement

আওয়ামী লীগে যারা কমিউনিস্ট পার্টি বা ছাত্র ইউনিয়ন থেকে এসেছেন তাদেরকে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা কমিউনিস্ট নেতা হিসাবেই জানেন। এটাও কারো অজানা নয় আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা দলে যে সমস্ত কমিউনিস্ট আছে তাদের ওপর অনেক বিষয় নির্ভর করেন।

advertisement

তাদেরকে বিশ্বাস করেন। বিভিন্ন দু:সময়ের সম্পর্কে আওয়ামী লীগের এই কমিউনিস্টরাই শেখ হাসিনার পাশে দাঁড়ান। তবে এবার একটা বিষয় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এবার আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে দলের শুদ্ধি অভিযান শুরু করেছেন সেই প্রক্রিয়ায় দূরে রাখা হয়েছে কমিউনিস্টদের। কমিউনিস্ট হিসাবে পরিচিত আওয়ামী লীগারদের।

শু’দ্ধি অ’ভিযানের পর থেকেই দলের কমিউনিস্টদের পা’ত্তা দিচ্ছেন না, কমিউনিস্টদের এড়িয়ে চলছেন। রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে তিনি যখন বিভিন্ন অনানুষ্ঠানিক কথা বলছেন সেখানেও কমিউনিস্টদের উপস্থিতি নেই। গতকাল যুবলীগের সঙ্গে বৈঠকের সময়ও কোন কমিউনিস্ট নেতা উপস্থিত ছিলেন না।

অথচ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিভিন্ন সময়ে দলের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কমিউনিস্টদের সঙ্গে পরামর্শ করতেন। বেশি দূরে যাওয়ার দরকার নেই, ওয়ান ইলেভেনের সময় বেগম মতিয়া চৌধুরী, নুরুল ইসলাম নাহিদ, আব্দুল মান্নান খানসহ কমিউনিস্টরা শেখ হাসিনার পক্ষে দাঁড়িয়েছিলেন। পরবর্তীতে ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে মন্ত্রিসভা কমিউনিস্ট অধ্যুষিত হয়েছে বলে আওয়ামী লীগের মধ্যেই গুঞ্জন ছিল।

আরও পড়ুন:  নৌকার বিপক্ষে কাজ করলে কোনোভাবেই তাদের মেনে নেওয়া হবে না

আওয়ামী লীগের মধ্যে যারা কমিউনিস্ট হিসেবে পরিচিত তাদের মধ্যে রয়েছে বেগম মতিয়া চৌধুরী, তিনি শেখ হাসিনার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। শুধু ওয়ান ইলেভেনের সময় না বিডিআর বি’দ্রোহের সময় যখন শেখ হাসিনার তাঁর জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ক্যান্টনমেন্টের দরবারে যোগ দিয়েছিলেন তখন তারসঙ্গে একমাত্র রাজনৈতিক ব্যক্তি ছিলেন মতিয়া চৌধুরী। কিন্তু এবার শুদ্ধি অভিযানের পর বেগম মতিয়া চৌধুরীকে শুধু একদিন গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে দেখা গেছে।

আরেকজন প্রেসিডিয়াম সদস্য আব্দুল মান্নান খান ছাত্র রাজনীতি থেকে এসেছেন। তিনিও শেখ হাসিনার দুঃসময়ে অত্যন্ত পাশে ছিলেন। ওয়ান ইলেভেনের সময় তিনি শেখ হাসিনার পক্ষে একটি বড় কণ্ঠস্বর ছিলেন।

নূহ আলম লেলিনকে বড় আদরে আওয়ামী লীগে এনেছিলেন শেখ হাসিনা। তিনি একসময় দলের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক ছিলেন, প্রেসিডিয়াম সদস্য ছিলেন এখন দলের উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য। তিনি শেখ হাসিনার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত হলেও শুদ্ধি অভিযান এবং সংগঠনগুলোর পুনর্বিন্যাসের সময় তিনি নূহ আলম লেলিনকে এড়িয়ে চলছেন।

ইয়াফেস ওসমান আওয়ামী লীগ সভাপতির অত্যন্ত ঘনিষ্ট এবং তিনি তিন মেয়াদে মন্ত্রী থাকার বিরল কৃতীত্ব অর্জন করলেও সম্প্রতিক বিভিন্ন সমস্যা এবং সংকটে তাকেও ডাকছেন না আওয়ামী লীগ সভাপতি। বিশেষ করে বুয়েটের ঘটনার পর প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এক ভিপিকেও  শেখ হাসিনা ডাকেননি এবং তাকে কোনো দায়িত্ব দেননি।

আরও পড়ুন:  শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত ডাইরীতে অভিযুক্ত যে সব মন্ত্রী-এমপিদের নাম

নুরুল ইসলাম নাহিদ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়ামের সদস্য, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী এবং তিনি ডুব নেতাও ছিলেন সেকারণেই যুব লীগে যখন শুদ্ধি অভিযান শুরু হয় অনেকে মনে করেছিল হয়তো নুরুল ইসলাম নাহিদকেও ডাকা হবে, কিন্তু নুরুল ইসলাম নাহিদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ নেই সে অনেক দিনের কথা।

কেনো কমিউনিস্টদের থেকে নিরাপদ দূরত্বে আছেন শেখ হাসিনা? সংশ্লিষ্ট সূত্র গুলো বলছে যে, আওয়ামী লীগ সভাপিত মনে করছে যে, আওয়ামী লীগকে শুদ্ধ হতে হবে আওয়ামী লীগ দ্বারাই। এবং আওয়ামী লীগকে আওয়ামী লীগের চরিত্র বৈশিষ্ট্য রেখেই শুদ্ধ হতে হবে।

এজন্য ছাত্রলীগকে ছাত্র ইউনিয়ন ও যুব ইউনিয়ন বানানো যাবে না। সেজন্যই তিনি কমিউনিস্টদের থেকে দূরে থাকছেন। আর তাছাড়া ইদানিং শেখ হাসিনার জরুরি বিষয় ছাড়া রাজনীতিবিদদেরকে তেমন আশ্রয় প্রশ্রয় দিচ্ছে না। কারণ কে কোথা থেকে শুদ্ধি অভিযানের বিষয়ে কোন তদবির করে এই আশঙ্কায়। সম্ভবত এই দুইটি কারণেই কমিউনিষ্টদের থেকে নিরাপদ দূরত্বে রয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সর্বশেষ আপডেট

  • 307
    Shares
advertisement