প্রচ্ছদ ক্রিকেট ক্ষোভে’র বিস্ফোরণ ও পেছনে’র গল্পগু’লো

ক্ষোভে’র বিস্ফোরণ ও পেছনে’র গল্পগু’লো

79
পড়া যাবে: 6 মিনিটে
advertisement

ভারতীয় উপমহাদে’শে জনপ্রিয় খেলা ক্রিকে’ট। এ অঞ্চলে’র মানুষকে এক কথায় ক্রিকেট পাগল বললে’ও অত্যুক্তি হবে না। বাংলাদেশে ক্রি’কেট নিয়ে মাতামাতি’টা একটু বেশিই। এদেশের মানুষ যেনো ক্রিকে’টে খায়, ক্রিকেটে ঘুমায়। সব ধরণের ভেদাভে’দ ভুলে জাতিগত’ভাবে এক ক্রিকেটে’র নিচেই একত্রিত হয় বাংলাদেশে’র মানুষরা।
এই আবেগ’কে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন সময় সুবিধা নিয়েছে নানা মহ’ল। জনপ্রিয়তা’র সুযোগ নিয়ে দিনে দিনে বেড়েছে দুর্নী’তি। যে ক্রিকেটারদে’র পারফরমেন্সে’ এতো এগিয়ে চলা, তাদেরকে নিয়মের বে’ড়াজা’লে বেঁধে ফেলা হচ্ছিল ক্রমান্বয়ে। তাই ধীরে ধীরে হ’লেও ক্ষোভে’র সঞ্চার হচ্ছিল শোষিত ক্রিকেটারদে’র মনে। সেই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ যে বিস্ফোরণে’র মতো হবে সে কথা জানাই ছিল।

advertisement

শেষ পর্যন্ত আকস্মি”ক সংবাদ সম্মেলন ডাকলেন ক্রিকেটার’রা। জোটবদ্ধ হয়ে জানালে’ন তাদের দাবি-দাওয়া। আগ্নেয়গিরি’র লাভার মতো বেড়িয়ে এলো ভেতরে’র সব না বলা কথামা’লা আর আক্ষেপগু’লো। কিন্তু কি সেই কারনগুলো? আসলেই কি এমন কি’ছু হয়েছে?’ সেসব ভেবে পাওয়া উত্তরগুলো সাজানো হলো দাবির ক্রমানুসারে।

ক্রিকেটারদে’র প’ক্ষে প্রথম দাবি উত্থাপন করেন নাঈ’ম ইসলাম। তিনি বলেন, আমাদের প্লেয়ারদে’র উন্নয়নের যে অ্যাসোসিয়েশ’ন আছে (ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-কোয়াব) আমরা কখনো দেখিনি তারা আমাদের পক্ষে কথা বলেছেন। অতএব কোয়াবের প্রেসি’ডেন্ট, সেক্রেটা’রি যারা আছেন তাদের অনতিবিল’ম্বে পদত্যাগ করতে হবে। আমাদের প্রেসিডে’ন্ট, সেক্রেটারি কে হবেন সেটা আমরা প্লেয়াররা নির্বা’চনের মাধ্যমে ঠিক করব। বাস্তবে দেখা যায় কোয়াবের প্রেসিডেন্ট, সেক্রেটারি উভয়েই বিসিবির পরিচালনা পর্ষদের সদস্য। ফলে বিসিবিতে তারা ক্রিকেটার’দের পক্ষের কোনো দাবি তোলেন না। এ যে’নো ‘বিড়ালের গলায় ঘন্টা বাধবে কে’ অবস্থা।

দ্বিতীয় দাবি ‘বলেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। তার আঙ্গুল’ ছিল ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের দিকে। তিনি বলেন, বিগত বেশ’ কয়েক বছর ধরে আপনারা জানেন ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের অবস্থাটা কি। যেভাবে প্রিমিয়ার লিগ হচ্ছে তাতে সব প্লেয়ারই অসন্তোষ প্রকাশ করছে। পারিশ্রমিকের’ এক’টা মানদন্ড বেধে দেওয়া’হচ্ছে এ’বং’ অনেক সীমাবদ্ধতা এখানে আছে। আমরা যেভাবে আগে প্রিমিয়ার লিগ খেলতাম এবং প্লেয়াররা যেভাবে ক্লাব অফিসিয়ালদের সাথে ডিল করত সেট এখন আর নেই। আমা’দের দাবি হচ্ছে আগে যেভাবে প্রিমি’য়ার লিগটা চলত সেভাবে যেন আমরা পাই।

এখানে ‘দেখা যায়, আগে ক্রিকেটাররা কোনো ক্লাবের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হওয়ার আগে নিজেদের চাহিদা মোতাবেক ‘পারিশ্রমিক ঠিক ক’রে নিতো। এছাড়া পছন্দসই ক্লাবও বেছে নিতে পারতো সবা’ই। কিন্তু বিসিবি’ এই নিয়’ম পরিবর্তন করে প্লেয়ার্স ড্রাফট চালু করে। এতে ক্রিকে’টাররা যেমন পছন্দের ক্লাব পান না, তেমনই পারিশ্রমিক নিয়েও থাকে অতৃপ্তি।’

জাতীয় দলের উইকে”টরক্ষক ব্যাটসম্যান মুশফি’কুর রহিম তৃতীয় দাবি জানান। বিপিএল নিয়ে নিজেদে’র’ কথা জানান তিনি। মুশি বলেন, আ’পনারা জানেন এবারের বি’পিএল অন্য ‘নিয়মে হচ্ছে। কিন্তু আমাদের যেটা মূ’ল দাবি সেটা হলো বিপিএল ‘যেন আগের নি’য়মে’ চলে আসে এবং আমাদের স্থানীয় প্লেয়ারদের ন্যায্য মূল্যটা যেন বিদেশি প্লেয়া’রদের সঙ্গে থাকে। আমরা দেখি যে বিপিএলে বিদেশি প্লেয়াররা আসে এবং তাদে’র অনেক পারিশ্রমিক’ দেয়া হয়। কিন্তু স্থানী’য়রা সেটা পায় না। বিসিবিকে সেই ”নিশ্চয়তা দিতে হবে। আপনারা খেয়াল ‘করে দেখবেন বিশ্বের’ অন্যান্য ফ্র্যাঞ্চাইজি’ লিগগুলো’তে যে প্লেয়ার থাকে তারা নি’লামেই নিশ্চিত করে যে কোন গ্রে’ডে থাকবে’। আমা’দের মনে হয় আমাদেরও সেই সম্মানটা দেওয়া উচি’ত। এমনটাই হওয়া উচিত’, তার’পর যদি কোনো ফ্র্যাঞ্চাই’জি না নিতে চায় সেটা আলাদা ব্যাপার।’

ঢাকা প্রি’মিয়ার লিগের’ মতো এখা’নেও অনেকটা একই সমস্যার সম্মুখী’ন দেশীয় ক্রি’কেটাররা। বোর্ড নি’জেদে’র মতো করে গ্রেডিং সিস্টে’ম তৈরির পর নিজেদে’র মতো করে প্লেয়ারদের ‘সাজিয়ে রাখে। এছাড়া প্রতিবা’রই দেশিদের চেয়ে বিদেশীদে’র মূল্য বেশি দে’য়া থাকে। এমন বৈষম্যে’র ফলে ক্ষোভের সৃষ্টি হয় ক্রিকেটারদের মাঝে।’

চতুর্থ ও পঞ্চ’ম দা’বি উত্থা’পন করেন সাকিব আল হাসা’ন। এক্ষেত্রে প্রথমে খেলোয়াড়’দের পারিশ্র’মিক ও অন্যান্য মৌলিক সুবিধা’র বিষয় তুলে আনেন। টাইগার অলরাউন্ডা’র ব’লেন, আমাদের প্রথম শ্রে’ণির ক্রিকেটে প্লেয়ারদের বেতন এক লা’খ টাকা হওয়া উ’চিত। আমরা এই দাবিটা অবশ্যই জানাচ্ছি। আমাদের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটের প্লেয়ার’দের বেতন অনেক কম। সেটা নুন্যতম ৫০ ভাগ বাড়াতে হবে। অনুশীলন সুবি’ধা ‘বাড়াতে হবে। জিম, ইনডোর, মাঠ সব কিছুর সুবিধা বাড়া’তে হবে। ১২ মাস কো’চ, ফিজিও, ট্রে’নার নিয়োগ দিতে হবে। আমরা চাই এটা আসছে মৌসু’মের আগেই ‘নিশ্চিত করতে হবে। আমরা চাই না প্রতিটি অনুশীলনই ঢাকাতে হোক। ঢাকার বাই’রে বরিশাল তাদের হোম ভেন্যুতে, খুলনা তাদের হোম ভেন্যুতে অনুশী’লন করবে ‘তাই’লেই ক্রিকেটের প্র’সার বৃদ্ধি পাবে।

আরও পড়ুন:  আম'রা মনোযোগ হারিয়ে ফেলে'ছিঃ মুমিনুল

সরেজমি’নে গিয়েও এই ক’থা’র সত্যতা পাওয়া যায়। বিসি’বি যেনো শুধু ঢাকার মাঝেই ক্রিকেটকে সীমা’বদ্ধ’ করে ফেলেছে। আঞ্চলিক ভেন্যুগু’লোতে নেই পর্যাপ্ত জিম, ইনডোর বা অনুশীলনে’র সুবিধা। মাঠগুলোর অবস্থাও করুণ। ঢাকা ছাড়া আর কোথাও ফিজিও, ট্রেইনারদের’ দেখা পাওয়াই ভা’র। ফ’লে যথাযথ স্বাস্থ্য ও ফিজিক্যাল পরা’মর্শ নেয়ার সুযো’গ পা’ননা বাইরের ক্রি’কেটাররা।

পঞ্চম দাবিতে ক্রি’কেট বল, খা’দ্য ও বাসস্থানের বিষয় তু’লে ধরেন সাকিব। এ ব্যাপা’রে তিনি বলেন, আমরা ‘প্রথম শ্রেণির ক্রিকে’টে যে বল দিয়ে খেলি আন্তর্জাতি’ক ক্রিকেটে সেই বল ‘দিয়ে খেলা হয় না। ফলে আমা’দের নতুন করে বলের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে হয়’। এই জিনি’সটা যেন আমাদের না করতে হ’য়। এখানে বিসিবির খামখেয়ালিপনাই ‘উঠে আসে। কারণ মান’সম্পন্ন ক্রিকেট বলের ব্যবস্থা করতে খুবভ’ কষ্ট হওয়ার ‘কথা নয় তাদের। অথচ তারা সরব’রাহ করে নিম্নমানের বল। যা থেকে কিভা’বে ভা’লো খেলা আশা করা যায়?

দৈনিক ভাতা’র ক্ষেত্রে মাত্র ১৫শ’ ‘টাকা দেয়া হয় ক্রিকেটার’দের। ফিটনেসের ব্যাপারে বেশ সরব হয় বি’সিবি, কিন্তু’ এই টাকায় ফিটনে’স উন্নত করার মতো খা’র খাওয়া সম্ভব নয় বলে জানান সাকিব’। এ ব্যাপারে তার বক্তব্য, আ’মার মনে হয় না এটা আমাদের জন্য পর্যাপ্ত। যে ফি”টনেস লেভেল বিসিব প্লেয়ারদে’র থেকে দাবি করে মনে হয় না সেটা ১৫শ’ টা’কায় সম্ভব। স্বাভা’বিক ভাবেই তাদের স্বাস্থ্যসম্মত খাবা’র খেতে হবে এবং ভালো’ হোটেলে থাক’তে হবে। সেটা বিবেচনা করে যে টাকা দিলে ভালো হয় বিসিবি সেটা ‘যেন করে।

ভ্রমনে’র ব্যাপারেও আক্ষেপ ঝড়ে প’ড়ে তার’ কন্ঠে। সাকিব বলেন, এটা বড় একটি ই’স্যু। ভ্রমন বাবদ যে টাকা দে’য়া হয় সেটা’ পর্যাপ্ত না। আমাদের ২’৫শ’ টাকা দেওয়া হচ্ছে এক বিভাগ থেকে আরে’ক বি’ভাগে ভ্রমণ বাবদ। আপনা’রা বলতে পারেন ২৫শ’ টাকা’য় বাস ছাড়া অন্য কোনো’ ভাবে সে পৌঁছাতে পারে? অতএ’ব বিসিবি থেকে যেন বিমান ভাড়া দেয়া হয় সেই নি’শ্চয়তা দিতে হবে।

হোটেলে জি’ম এবং সুইমিং পুল অবশ্যই থাক’তে হবে। কা’রণ চার দিনের ম্যাচ শেষে প্রতিটি প্লেয়ারের অনে’ক কষ্ট হয়। তো ‘এখানে অবশ্যই রিকভা’রির জায়গা থাকতে হবে। টু স্টার বা থ্রি স্টার হোটেলে প্লেয়া”রদের থাকা সম্ভব নয়।

বাসের ব্যাপা’রেও আপ’ত্তি জানান সাকিব। তার’ ভাষায়, আপ’নারা দেখেন আমরা কি বাসে চলা’ফেরা করি। এটা প্লেয়ারদের জ’ন্য একবা’রেই আরামদা’য়ক নয়। এতএব একটা এসি বাস অবশ্যই যেন থাকে।’

বা’স্তবিকপক্ষে তার প্রায় সব কথাই সত্য। তবে প্রতিবেদক জাতীয় লিগের ম্যাচ চলা’কালীন যথেষ্ট খাবারের ব্যবস্থা দেখেছেন। তাই এ বিষয়ে বিসিবি আসলেই খা’বা’রের ব্যাপা’রে খেয়াল রাখে কিনা এ নিয়ে কথা বলার জায়গা রয়েছে। বাকি ব্যাপা’রে বলা যায়, ক্রিকেটারদে’র থাকার জায়গা ও বাসের ক্ষেত্রে দায়সা’রা কাজ করতে’ চায় বিসিবি। এক্ষেত্রে নিরাপত্তা ঝুঁকিরও ব্যাপার থাকে।

এনা’মু’ল হক জুনিয়র ষষ্ঠ দাবি তুলে ধরেন। তার বিষয় ছিল চুক্তি’বদ্ধ খেলোয়াড়ের সংখ্যা।’ এনামুল বলে’ন, জাতীয় দলের চুক্তিবদ্ধ প্লেয়ার’দের সংখ্যা বাড়াতে হবে। বিশ্বব্যা’পী যদি আপনারা চিন্তা করেন তাহলে মনে হয় আমাদের চুক্তিভুক্ত প্লেয়ার’দের সংখ্যা কম। আমাদের মনে হয় চুক্তিভুক্ত প্লেয়ার’দের সংখ্যা কমপক্ষে ৩০ জ’ন করা উচিত এবং করতে হবে।

বর্তমা”নে মাত্র ১৭ জন চুক্তিবদ্ধ রয়েছে বিসিবি’র সঙ্গে। সারাদেশের খেলোয়াড়দের তুলনায়’ যা আসলে’ই কম। তবে জাতীয় দলের বড় অংশই দলে আসা যাওয়া’র মধ্যে থা’কে। তাই এক্ষেত্রে কেন্দ্রী’য় চুক্তির আওতায় কাকে আনা হবে এ নিয়ে নিশ্চিত ‘কো’নো ধারণা দিতে পারেননি তিনি।

সপ্তম ‘দাবি’তে দেশসেরা ওপেনার তামিম ইকবাল তুলে ধরেন কোচ ও গ্রাউন্ডস”ম্যানদের কথা। সাংবাদিকদের উদ্দে’শ্যে তিনি বলেন, শুধু ক্রিকেটারদের ব্যাপারই ‘নয়। গ্রাউন্ডসম্যানদের দেখেন, বিসিবিতে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কাজ করে মাস ‘শেষে ৫ বা ৬ হাজার টাকা পায়। কোচের কথা বলে’ন। আমরা নিজেরাই বাংলাদেশি’ কো’চদের দাম দিচ্ছি না, বিদেশি কোচ’দের বেতন আমা’দের ২০টা কোচের বে’তনের সমান। দেখুন, সম্প্রতি একটা সফ’রে দেখবেন বাংলাদেশে’র কোচের অধী’নে দল ভালো করে’ছে; কিন্তু পরের সফরে’ই তিনি নেই।

আরও পড়ুন:  বিপিএলের আফ্রিদি-গেইলরা

এখানে ‘কোচে’র ব্যাপারে মূলত টাইগার’দের সাবেক কোচ স্টি’ভ রোডসের কথাই তুলে ধরা হয়েছে’। তার ‘অধীনে দারুণভাবে গুছি’য়ে উঠেছিল দল। কিন্তু বিশ্বকা’পে আশানু’রূপ ফলাফল না আ’সায় সব দোষ দেয়া হয় তার উপর। একইস’ঙ্গে বরখাস্ত’ করে বিদায় দেয়া হয় তাকে। গ্রাউন্ডসম্যান’রাও দীর্ঘদিন যাবত বিসিবির বৈষম্যে’র ‘শিকার। প্রচুর খাটুনির পরেও তাদের চলাটা’ই কঠিন হয়ে পড়ে স্বল্প বেতনের জন্য।’ বিশ্বের চতুর্থ ধনী ক্রিকেট বোর্ডে’র কাছে এসব বিষয়ে উন্নতি’ করা কোন কঠিন ব্যা’পারই নয়।

আম্পায়া’রদের বেত’ন নিয়েও অভিযোগ করেন তা’মিম। তিনি যোগ করেন, আম্পা’য়ারিং নিয়ে স’মালো’চনা আছে। কিন্তু আপ’নারা জানেন, আম্পায়া’রিংকে পে’শা হিসেবে নিতে ‘হলে তাদের তো একটা আর্থিক সিকিউ’রিটি দিতে হবে। সেটা দেয়া হয় না। সব মি’লিয়ে আ’মাদের মূল দাবি, বাংলাদেশি’দের যেন প্রাধান্য দেয়া হয়। এখা’নে বিসিবি’র বিদেশী প্রীতিকেই কুঠারা’ঘাত করেছেন এ হার্ডহিটার ব্যাটস’ম্যান।’

অস্টম দাবি”তে এনামুল হক বিজয় তুলে আনেন ঘরোয়া ক্রি’কেটে অপর্যাপ্ত একদিনের ম্যা’চের কথা। তিনি বলেন, ঘরো’য়া ক্রিকেটে আমরা দুই ধরনের লঙ্গার ভার্সন খেলি। এ’গুলো হলো বিসিএল ও এনসিএল। কিন্তু ওয়ানডে’তে আমরা একটা মাত্র ভার্স’ন খেলি। এই সংখ্যাটি আরও বাড়ানো উচিত। টি-টোয়েন্টিতে আমরা বিপিএল ‘নামক মাত্র একটি টি-টোয়েন্টি লিগ খেলি। আমার মনে হয় বিপিএলে আরো ‘ভালো করতে’ অন্তত আরো একটি টি-টোয়েন্টি টুর্নামে’ন্ট খেলা উচিত। জাতীয় লি’গে আম’রা আগে একটি ওয়ানডে খেলতাম। যা এখন আমরা পাই না। সেটা বাড়ানো ‘হোক।

বছর কয়েক আগে’ অবশ্য প্রথ’ম শ্রেণির ক্রিকেটেও মাত্র একটি টুর্নামেন্ট ছিল। অথচ খে’লায় বেশি ‘বেশি উন্নতি করতে চাইলে সেই ফর’ম্যাটে বেশি বেশি ম্যাচ ও টুর্নামেন্ট খেলার বিক’ল্প নেই। সারাবছর মিডিয়ার সামনে উপস্থিত থাকলেও বিসিবির কর্তা ব্যক্তিরা ঘরোয়া ‘ক্রিকেটের এ মৌলিক চাহিদার ব্যাপারে বরাবরই অনীহা প্রকাশ করে এসেছেন।’

উইকেটকিপার ব্যাটস”ম্যান নুরুল হাসান সোহান নবম দাবি’তে ঘরোয়া ক্রিকেটের জন্য এক’টি নির্ধারিত ক্যা’লেন্ডার চান। এটা হলে ক্রি’কেটাররা আগে থেকে প্রস্তুতি নিতে পারবে’ ব’লে জানান তিনি। এ বিষয়টিও কোনো বোর্ডের অবশ্য’পালনীয় কর্তব্যের মধ্যে’ একটি। অথচ প্রায় প্রতিবছরই টুর্নামেন্ট আয়োজন নিয়ে ধোঁয়াশায় থাকে বিসিবি। তা’ই নির্ধারিত সময়ে খুব কম গোছালো ভাবে টুর্নামেন্ট শুরু করে তারা। অ’ধিকাংশ সম’য় টুর্নামেন্টগু’লো শেষ হয় দায়সারাভাবে। পর্যাপ্ত প্রস্তু’তির অভাবে ক্রিকেটাররাও ‘তাদের সেরাটা তুলে ধ’রতে পারেন না।

খেলোয়াড়’দের এই পারিশ্রমিক ‘পাওয়া নিয়ে প্রতিব’ছরই দ্বন্দ্ব লেগে থাকে। যা খেলোয়াড়দের জন্য অস্বস্তিকর। ১’০ম দাবি’তে এই বিষয় তুলে আনেন জাতীয় দলের সাবেক ব্যাটসম্যান জুনায়েদ’ সিদ্দিকী। তিনি বলেন, ডিপিএলে প্রিমিয়ার ‘লিগের যে বকেয়া টাকা সেটা যেন ‘নির্দিষ্ট সময়ে পাই। যেমন গত ব’ছর ১০টি দল টাকা ক্লিয়ার করেছে। কিন্তু আমরা ‘ব্রাদার্স ইউনিয়নের ৪০ পারসেন্ট টাকা পাইনি। বোর্ডে অনেকবার গিয়েছি, ক্লাবকেও’ নক করা হয়েছে। জাতীয় দলের একজন খেলোয়া’ড় হিসেবে আমরা এটা ডিজা”র্ভ করি না, এটা খুবই দৃষ্টিকটু। এমন যেন না হয়।’

ফর’হাদ রে’জা ক্রিকেটারদের পক্ষে শেষ দাবি তু’লে ধরেন। এখানেও দেখা যায় বিসি’বি’র নিয়মে বাঁধা পড়েছেন ক্রিকেটাররা। ফ্র্যাঞ্চা’ইজি লিগে খেলার ক্ষেত্রে বিসি’বি’র নিয়ম হলো একজন কোন বছরে দুটি’র বেশি ফ্র্যাঞ্চাই’জি লিগে খেলতে পার’বে না। যা পৃথি’বীর আর কোনো বোর্ডেই দেখা যায়না। এমন নিয়ম তুলে দেয়ার দাবি’তে স্বাভাবিক’ভাবেই উচ্চ ছিল ক্রিকেটারদের কন্ঠ।

ক্রিকে’টা’দের মুখপাত্র হিসে’বে শেষে ফের কথা বলেন সাকি’ব আল হাসান। এ দাবিগু”লো না মানা পর্যন্ত সব ধরণের ক্রিকেট থেকে এক’যোগে বিরতি’র ঘোষণা দেন ক্রি’কেটাররা। বাস্তবিকপক্ষে যা দেশের ক্রিকে’টেরে জন্যই মঙ্গলজনক। প্রতিটি দা’বি ছিল সুস্পষ্ট এবং অতি প্রয়োজনীয়।

দাবিগু’লো’ মানা হলে দেশের ক্রি’কেট এগিয়ে যাবে অনেক’দূর। দীর্ঘদিন বঞ্চনার শিকার ক্রি”কেটাররা দেশের স্বার্থে এই দাবি’গুলো জানিয়েছেন। বিসি’বি যত দ্রুত এসব বাস্তবা’য়ন করবে, ততো ‘দ্রুত মাঠে ফিরবেন ক্রিকেটাররা। একই’সঙ্গে বড় পরিবর্তন সূচী’ত হবে দেশের ক্রি’কেটেও।

ক্রিকে’টের ‘সোনালী দিনের স্বপ্নে বিভোর টাইগার ভক্তরা দাবিগুলো দেখে ভবিষ্য’তের জ’ন্য আশাবাদী হতেই পারেন।’

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সর্বশেষ আপডেট

  • 59
    Shares
advertisement