প্রচ্ছদ জেলা অ’পরাধীদের আ’গুনে পু’ড়িয়ে মা’রা হোক যাতে বুঝতে পারে আ’গুনের পো’ড়া য’ন্ত্রণা কত...

অ’পরাধীদের আ’গুনে পু’ড়িয়ে মা’রা হোক যাতে বুঝতে পারে আ’গুনের পো’ড়া য’ন্ত্রণা কত ক’ষ্টের

84
পড়া যাবে: 3 মিনিটে

ফেনীর সোনাগাজীতে মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে আ’গুনে পু’ড়িয়ে হ’ত্যা মা’মলার রা’য় ঘো’ষণা করা হবে আগামীকাল বৃহস্পতিবার। গত ৩০ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিখণ্ডন শেষে রায়ের তারিখ নির্ধারণ করেন নারী ও শিশু নি’র্যাতন দ’মন ট্রা’ইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশীদ। শুধু ফেনীর আদালত নয়; বাংলাদেশের ইতিহাসে এত অল্পসময়ের মধ্যে মা’মলার রায়ের তারিখ নি’র্ধারণ হয়নি। নুসরাত পরিবারের দাবি আ’সামিদের সর্বোচ্চ শা’স্তি হবে। তবে আসামিপক্ষের আইনজীবী বলছেন, অভিযুক্তরা ন্যায়বিচার পাবে।

গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে সরেজমিনে নুসরাতের বাড়িতে গেলে কথা হয় তার মা শিরীন আখতারের সঙ্গে। মেয়েকে হ’ত্যা মা’মলার রায় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই। তার কারণে মা’মলাটি খুব তাড়াতাড়ি নিষ্পত্তি হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীসহ বিচার বিভাগের কাছে আমার অনুরোধ অ’পরাধীদের ফাঁ’সি না দিয়ে আ’গুনে পু’ড়িয়ে মা’রা হোক। যাতে করে বুঝতে পারে আ’গুনের পো’ড়া য’ন্ত্রণা কত ক’ষ্টের।

আমার মেয়ে মাংস নিয়ে ক’বরে যেতে পারেনি। আমার মেয়ে পানি পানি বলে চি’ৎকার করেছে, পা’নি খেতে পারেনি। অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনলে অন্য কোনো মায়ের বুক এভাবে খালি হবে না।’ নুসরাতের ক’বরের কাছে গেলে তার কবরের ওপর সাদা ফুল ফুটেছে দেখতে পান। নুসরাতের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনাতেই হয়তো ফুলগুলো সুভাস ছড়াচ্ছে।

এ সময় স্থানীয়দের একজন বলেন, ‘বাংলাদেশে হ’ত্যাকা’ণ্ডের মতো নানাবিধ অ’পরাধ ঘটলেও সে সকল মা’মলা আলোর মুখ দেখতে বছরের পর বছর সময় লাগে। কিন্তু ব্যতিক্রম নুসরাত হ’ত্যা মা’মলা। নুসরাতের এই ক’বরটি অক্ষত থাকা অবস্থায় মা’মলার নিষ্পত্তি হচ্ছে। বাংলাদেশের সব অপরাধের মা’মলা এরকম তাড়াতাড়ি নিষ্পত্তি হলে অ’পরাধ প্’রবণতা অনেকাংশে কমে যাবে।’

মা’মলার বা’দী পক্ষের আইনজীবী শাহজাহান সাজু জানান, মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হ’ত্যা মা’মলার সাড়ে ৬ মাসের মাথায় রা’য়ের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। গত ১০ জুন মা’মলার অভিযোগপত্র আ’মলে নেওয়ার পর মাত্র ৬১ কার্যদিবসে রা’য়ের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। ৯২ জন সা’ক্ষীর মধ্যে ৮৭ জন সা’ক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন। এতে করে সকল আ’সামির অ’পরাধ প্রমাণ করতে পেরেছেন রাষ্ট্রপক্ষ।

আরও পড়ুন:  আমার কাছে প্রমাণ আছে নুসরাত আ’ত্মহ’ত্যা করেছে

অপরদিকে আ’সামিপক্ষের আইনজীবী গিয়াস উদ্দিন নান্নু বলেন, ‘রাষ্ট্রপক্ষ আ’সামিদের অ’পরাধ প্রমাণ করতে পারেনি। ২৪ অক্টোবর রায়ে আ’সামিরা ন্যায় বিচার পাবে। নুসরাত মৃ’ত্যুর আগে আ’ত্মহত্যা করতে চেয়েছিল; সে চিঠি পুলিশ জব্দ করেছে। এ ছাড়া মেডিকেল রিপোর্টে ডাক্তাররা এটিকে হ’ত্যা বলেনি।’

ফেনী জেলা সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘এ রকম সকল মা’মলায় অল্প সময়ের মধ্যে আ’সামিদের আইনের আওতায় এনে সা’জার মুখোমুখি করলে অ’পরাধের মাত্রা কমে যাবে। মা’মলার কার্যক্রম দীর্ঘদিন পড়ে থাকলে অন্য অ’পরাধীরা অ’পরাধ করতে সুযোগ পায়।’

এদিকে রায়কে কেন্দ্র করে আদালত পাড়ায় পুলিশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়ানো হবে বলে জানিয়েছেন ফেনীর পুলিশ সুপার খোন্দকার নূরনবী। তিনি বলেন, ‘শুধু আদালত পাড়া নয়; নুসরাতের বাড়িতেও নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়ানো হয়েছে। শহরে কাউকে জড়ো হতে দেওয়া হবে না। যদি কেউ বি’শৃংখলা করতে চায় তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।’

নুসরাত জাহান রাফি হ’ত্যা মা’মলার চা’র্জশিটভু’ক্ত অভিযুক্তরা হলেন- সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার সাবেক অধ্যক্ষ এসএম সিরাজ উদ দৌলা (৫৭), নুর উদ্দিন (২০), শাহাদাত হোসেন শামীম (২০), কাউন্সিলর ও সোনাগাজী পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাকসুদ আলম ওরফে মোকসুদ কাউন্সিলর (৫০), সাইফুর রহমান মোহাম্মদ জোবায়ের (২১), জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন (১৯), হাফেজ আব্দুল কাদের (২৫), আবছার উদ্দিন (৩৩), কামরুন নাহার মনি (১৯), উম্মে সুলতানা ওরফে পপি (১৯), আব্দুর রহিম শরীফ (২০), ইফতেখার উদ্দিন রানা (২২), ইমরান হোসেন ওরফে মামুন (২২), সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও মাদ্রাসার সাবেক সহসভাপতি রুহুল আমিন (৫৫), মহিউদ্দিন শাকিল (২০) ও মোহাম্মদ শামীম (২০)।

১৬ জন আ’সামির মধ্যে ১২ জন ১’৬৪ ধা’রায় স্বী’কারো’ক্তিমূল’ক জ’বানব’ন্দি দিয়েছেন। যারা দেননি তারা হচ্ছেন- মাকসুদ আলম ওরফে মোকসুদ কাউন্সিলর, আবছার উদ্দিন, রুহুল আমিন, মোহাম্মদ শামীম। কি’লিং মি’শনে যে পাঁচজন অংশ নেন তারা হচ্ছেন- শাহাদাত হোসেন শামীম, জাবেদ হোসেন, জোবায়ের আহম্মদ, উম্মে সুলতানা পপি, কামরুন নাহার মনি।

আরও পড়ুন:  আদালতে অধ্যক্ষ সিরাজের চোখে চোখ পরতেই জ্ঞান হা*রালেন নুসরাতের মা

প্রায় ৮০৮ পৃষ্ঠার সামগ্রিক নথিটি গত ২৮ মে ফেনীর জ্যেষ্ঠ বিচার বিভাগীয় হাকিম জাকির হোসাইনের আদালতে দাখিল করেন পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই)।

আদালত ও আইনজীবী সূত্রে জানা গেছে, মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার যৌ’ন নি’র্যাতনে’র প্র’তিবাদ করায় গত ৬ এপ্রিল মাদ্রাসার ছাদে নিয়ে নুসরাতের শ’রীরে আ’গুন দেয়া হয়। ১০ এপ্রিল চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকা মেডিকেলের বা’র্ন ই’উনিটে মা’রা যান নুসরাত জাহান রাফি। ঘটনার পর ৮ এপ্রিল আটজনের নাম উল্লেখসহ অ’জ্ঞাত চারজনকে আ’সামি করে সোনাগাজী থানায় মা’মলা করেন নুসরাতের ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান।

শুরুতে থানা পুলিশ তদন্ত শুরু করলেও পরে পিবিআইকে হ’স্তান্তর করা হয়। তদন্তের ৫০ দিনের মাথায় ১৬ জনের বিরুদ্ধে চা’র্জশটি দেয় পিবিআই। এতে উল্লেখ করা হয় কি’লিং মি’শনে সরাসরি অংশ নেয় পাঁচজন। জে’ল থেকে হ’ত্যার নি’র্দেশ দেন মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলা। আর অর্থ যোগনদাতা হিসেবে উঠে আসে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রুহুল আমিন ও কাউন্সিলর মাকসুদ আলমের নাম।

এর আগে দায়িত্বে গাফিলতির অভিযোগে সাময়িক ব’হিষ্কার করা হয় সোনাগাজী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোয়াজ্জেম হোসেন, এসআই ইউসুফ ও এসআই ইকবালকে। প্র’ত্যাহার করা হয় ফেনীর পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলমকে।

গেল ১০ জুন আদালত মা’মলাটি আ’মলে নিলে শুরু হয় যুক্তিতর্ক। ২০ জুন অভিযুক্ত ১৬ জনের বিরুদ্ধে অ’ভিযোগ গঠন করা হয়। ২৭ ও ৩০ জুন মা’মলার বা’দী নুসরাতের ভাই মাহমুদুল হাসানকে জে’রার মধ্যে দিয়ে বিচার কাজ শুরু হয়। এরপর ৯২ সাক্ষীর মধ্যে ৮৭ জন সা’ক্ষ্য দেন আদালতে। ৩০ সেপ্টেম্বর রায়ের তারিখ নির্ধারণ হয়। আগামীকাল মঙ্গলবার আলোচিত এ মামলাটির রায় ঘোষণা করবেন আদালত।

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সর্বশেষ আপডেট:

  • 159
    Shares