প্রচ্ছদ আইন-আদালত আমার কাছে প্রমাণ আছে নুসরাত আ’ত্মহ’ত্যা করেছে

আমার কাছে প্রমাণ আছে নুসরাত আ’ত্মহ’ত্যা করেছে

376
প্রভাষক আফছার উদ্দিন
পড়া যাবে: 4 মিনিটে
advertisement

ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হ’ত্যা মা’মলায় মৃ’ত্যুদণ্ডপ্রা’প্ত আ’সামি আফসার উদ্দিন দাবি করেছেন, তিনি নির্দোষ। তার কাছে প্রমাণ আছে যে, নুসরাত আ’ত্মহ’ত্যা করেছে। আজ বৃহস্পতিবার এ মা’মলার রা’য় ঘোষণার পর আ’সামিদের প্রিজন ভ্যানে তোলার সময় সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার প্রভাষক আফসার চিৎকার করে এ কথা বলেন। তিনি আরও বলতে থাকেন, ‘আমরা ন্যায়বিচার পাইনি। আমাদের ফাঁ’সানো হয়েছে।’

advertisement

আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা ৮ মিনিটে এই রায় পড়ে শোনান ফেনীর নারী ও শিশু নি’র্যাত’ন দ’মন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মামুনুর রশিদ। রায়ে ফাঁ’সির দ’ণ্ডপ্রা’প্তরা হলেন, সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা, সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভাপতি রুহুল আমিন, সোনাগাজী পৌরসভার কাউন্সিলর মাকসুদুল আলম, মাদ্রাসার শিক্ষক আবদুল কাদের, প্রভাষক আফসার উদ্দিন, মাদ্রাসার ছাত্র নুর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীম, সাইফুর রহমান মোহাম্মদ যোবায়ের, জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন জাবেদ, কামরুন নাহার মনি, উম্মে সুলতানা পপি ওরফে তুহিন, আবদুর রহিম শরিফ, ইফতেখার উদ্দিন রানা, ইমরান হোসেন মামুন, মোহাম্মদ শামীম ও মহি উদ্দিন শাকিল। তারা সবাই মামলার অভিযোগপত্রভুক্ত আ’সামি।

আরও পড়ুন:  সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনকে সা’জা না দিয়ে কৌশলে আড়াল করা হচ্ছে

মৃ’ত্যুদ’ণ্ডপ্রা’প্ত আরেক আ’সামি সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভাপতি রুহুল আমিন প্রিজন ভ্যান থেকে বলেন, ‘আমি নির্দোষ। আমি কোনো অ’পরাধের সঙ্গে জড়িত ছিলাম না। আমাকে ফাঁ’সানো হয়েছে। উচ্চ আদালতে ন্যা’য়বিচার পেয়ে আমি বেরিয়ে আসব।’

আ’সামিপ’ক্ষের আইনজীবী গিয়াসউদ্দিন নান্নু বলেন, ‘এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হবে। এটি সা’জানো রায়। এই রায়ে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়নি। উচ্চ আদালতে এটা টিকবে না। সবাই খা’লাস পাবে।’ এর আগে আদালতের এ’জলাসে রায় শোনার পর আ’সামিরা চিৎকার-চেঁ’চামেচি শুরু করেন। কেউ কেউ কাঁ’দতে শুরু করেন।

গত ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে নুসরাতের শ্লী’লতাহানি করেন। এ ঘটনায় তার মা শিরিনা আক্তার বা’দী হয়ে সোনাগাজী থানায় মা’মলা করলে অধ্যক্ষকে গ্রে’প্তার করে পুলিশ। মা’মলা তুলে না নেওয়ায় ৬ এপ্রিল মাদ্রাসার প্রশাসনিক ভবনের ছাদে ডেকে নিয়ে নুসরাতের হাত-পা বেঁধে গা’য়ে কেরোসিন ঢে’লে আ’গুন লা’গিয়ে দেয় বোরকা পরা পাঁচ দুর্বৃত্ত। ১০ এপ্রিল ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বা’র্ন অ্যান্ড প্লা’স্টিক সা’র্জারি ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অ’গ্নিদগ্ধ নুসরাতের মৃ’ত্যু হয়।

আরও পড়ুন:  প্র’কাশ্যে আ.লীগ নেতার মা’রধ’র করার অপমানে কৃষকের আ’ত্মহ’ত্যা

এ ঘটনায় নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান (নোমান) সোনাগাজী থানায় মা’মলা করেন। পরে মা’মলাটি হ’ত্যা মা’মলায় রূপান্তরিত হয়। গত ২৮ মে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তদন্ত শেষে মাদ্রাসার অধ্যক্ষসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে আদালতে ৮৬৯ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্র দাখিল করে। মাত্র ৬১ কার্যদিবসে মা’মলার কার্যক্রম শেষ হয়। আর মা’মলার তদন্ত কার্যক্রম শেষ করতে পিবিআইয়ের লাগে ৩৩ কার্যদিবস।

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সর্বশেষ আপডেট

  • 294
    Shares
advertisement