প্রচ্ছদ Featured News আখাউড়ায় একনায়কতন্ত্র এলাকা প্রতিষ্ঠা করেছে যুবলীগ নেতা ও মেয়র খলিফা কাজল

আখাউড়ায় একনায়কতন্ত্র এলাকা প্রতিষ্ঠা করেছে যুবলীগ নেতা ও মেয়র খলিফা কাজল

107
আখাউড়ার একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছে যুবলীগ নেতা ও মেয়র খলিফা কাজল
পড়া যাবে: 7 মিনিটে

এককথায় আখাউড়ার কর্তা তিনি। দল-প্রশাসন সবই চলে তার কথায়। আর সে কারণেই ‘একনায়কতন্ত্র’র এলাকা হিসেবে পরিচিত ছোট্ট শহর আর আখাউড়া উপজেলা। নানা অভিযোগ-আলোচনার কেন্দ্রে থাকা এই শাসক আখাউড়া যুবলীগ আহ্বায়ক তাকজিল খলিফা কাজল। তাকে ঘিরেই সরগরম এখন আখাউড়া। এবার আওয়ামী লীগ সভাপতির পদ কব্জা করতে চান তিনি। দলের অনেক সিনিয়র নেতাকে রেখেই এ পদের জন্য হাত বাড়িয়েছেন কাজল। এই ঘোষণা দিয়ে সরব মাঠে।

আখাউড়ার পথে পথে নির্মিত হয়েছে তার সমর্থনে অর্ধশত তোরণ। পোস্টার-ফেস্টুনে সয়লাব এলাকা। আওয়ামী লীগ সভাপতির পদ করায়ত্তে তার এই যাত্রায় নীরব-নিশ্চুপ আখাউড়া আওয়ামী লীগের প্রবীণ-ত্যাগী নেতারা। পদের জন্য লড়াই দূরে থাক ভ’য়ে মুখে রা-ও করার সাহস পাচ্ছেন না কেউ। দলের অনেক নেতাই জানিয়েছেন- এমনিতে সব কিছুতেই তার কর্তৃত্ব্ব। পৌরসভার মেয়র তিনি। এরপর দলের সভাপতি হলে তার ওপর কথা বলার আর কেউ থাকবে না। পরোয়া করতে হবে না কাউকে।

সে কারণে প্রায় ৫ বছর পর হতে যাওয়া এই সম্মেলনকে কেন্দ্র করে দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে যে উৎসাহ-উদ্দীপনা থাকার কথা সেটি নেই। বরং সেখানে ভর করেছে উদ্বেগ-আতঙ্ক। যুবলীগের এই নেতার হাতে বিভিন্ন সময় শারীরিকভাবে লা’ঞ্ছিতও হয়েছেন আওয়ামী লীগের অনেক সিনিয়র নেতা। বাদ যাননি দু’বার নির্বাচিত এলাকার সাবেক এমপি অ্যাডভোকেট শাহ আলমও। কাজল তার পাঞ্জাবি ছিঁ’ড়ে অপদস্থ করেন। আখাউড়ার মানুষ এ ঘটনাকেই তার জীবনের টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে দেখেন।

সরেজমিন খোঁজখবরে গেলে অনেকেই জানান, ২০১৪ সালের পর থেকেই ক্রমশ তার আধিপত্য বাড়তে থাকে। এর আগে ২০১২ সালে উপ-নির্বাচনে আখাউড়ার মেয়র নির্বাচিত হন তিনি। তখন উপজেলা যুবলীগের সদস্য ছিলেন। এরপর আবারো মেয়র নির্বাচিত হন ২০১৫ সালে। ওই নির্বাচনের চেহারা ছিল অবশ্য অন্যরকম। মাথায় সাদা ফিতা পরা তার সমর্থকরা সব কেন্দ্রই দ’খল করে নিয়েছিল। সময় পরিক্রমায় যুবলীগের এই নেতা হয়ে উঠেছেন এখন আখাউড়ার সবকিছুর কাণ্ডারি।

নানা অভিযোগ তার বিরুদ্ধে। শুধু একা নন, গোটা পরিবার নিয়ে আখাউড়া নিয়ন্ত্রণ করছেন তিনি। আখাউড়ায় গড়ে তুলেছেন খলিফা সাম্রাজ্য। বন্দর, রেলজংশন, ঠিকাদারি রেল থানা, বেঙ্গল থানা, কাস্টমসের নিলাম কোথায় নেই তাদের নিয়ন্ত্রণ। আছে মা’দক ব্য’বসা পরিচালনা, রেলের তে’লচুরি এবং সরকারি জায়গা দ’খলের অভিযোগ। আলোচনা আছে স্থানীয় রেল থানা থেকে ট্রেনে ডিউটিতে কোনো পুলিশ সদস্য যাবে সেটিও ঠিক করে দেন এক খলিফা।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদরের কোড্ডা গ্রামের আবদুস সাত্তার খলিফার (ঠান্ডু মিয়া) ৫ ছেলের মধ্যে চতুর্থ তাকজিল খলিফা কাজল। বাকি ভাইদের মধ্যে নেসার আহম্মেদ খলিফা আমেরিকা প্রবাসী। দেশে থাকা তার অপর ৩ ভাই ও ভাতিজারা খলিফা সাম্রাজ্যের নানা দায়িত্বে রয়েছেন। কে কোন সেক্টর দেখেন সেটি স্থানীয় লোকজনের মুখস্থ। কাস্টমসের নিলাম, রেলজংশন, জিআরপি থানা এগুলো দেখেন হানিফ খলিফা।

আরেক ভাই দানিছ খলিফা গোটা এলাকায় সালিশ করে বেড়ান। তার এক ছেলে হাসান খলিফা নির্মাণ সামগ্রী ব্যবসায়ী। আখাউড়ায় যেকোনো সরকারি কাজের মালামাল তার কাছ থেকেই ক্রয় করতে হয়। নিম্নমানের মালামাল সরবরাহের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ২২ কোটি টাকা ব্যয়ে আখাউড়া-ধরখার সড়ক নির্মাণ কাজের মালামাল সরবরাহ করছে সে। আরেক ছেলে সাগর খলিফা জড়িত মা’দক ব্যবসায়।

সম্প্রতি বিজিবির হাতে ধরা পড়ে সে। এরপর ভ্রাম্যমাণ আদালত সাজা দেন তাকে। ভাগিনা শাওনকেও গ্রে’প্তার করে পুলিশ। আরেক ভাই ফোরকান খলিফা আখাউড়া খড়মপুর বাইপাস সড়কের পাশে সরকারি জায়গা দ’খল করে মার্কেট বানিয়েছেন। জায়গা দ’খল করে বালুর ব্যবসাও করছেন তিনি। ২০১৫ সালে রেলের জায়গা দখলের অভিযোগে আখাউড়া থানায় একটি এ’জাহার হয় তার বিরুদ্ধে। ফোরকান আখাউড়া স্থলবন্দর সিএন্ডএফ এজেন্ট এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক।

অভিযোগ রয়েছে ভাইয়ের প্রভাবে তিনি সাড়ে ৩ বছর ধরে এই পদে আছেন। লাইসেন্স থাকলেও বাস্তবে বন্দরে তার কোনো ব্যবসা-বাণিজ্য নেই। সাবেক মেয়র নূরুল হক ভূঁইয়াকে সরিয়ে তাকে স্থানীয় টেকনিক্যাল আলীয়া মাদ্রাসার সভাপতিও করা হয়েছে। আখাউড়া শহরের ৬টি স্ট্যান্ড ও অবৈধ ইজিবাইক থেকে মাসে লাখ লাখ টাকা চাঁদা উত্তোলন করা হয়।

আর এসব দেখার দায়িত্বে রয়েছেন মেয়র কাজলের চাচাতো ভাই শ্রমিকলীগ নেতা মাসুদুর রহমান খলিফা লাকসু। তাদের সবার খুঁটি মেয়র কাজল। সাবেক মেয়র নূরুল হক ভূঁইয়া বলেন, রেলের জায়গা, আখাউড়া বাইপাস সড়কের পাশের জায়গা দ’খল। সবই তারা করছে। আমাকে সরিয়ে দিয়ে তার ভাইকে মাদ্রাসা কমিটির সভাপতি করা হয়েছে। আমার আর তার ভাইয়ের মর্যাদা কী এক! আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক গাজী আবদুল মতিন বলেন, তার পরিবার লু’টপা’ট করে আখাউড়াকে শেষ করে দিচ্ছে।

২০১৫ সালে দ্বিতীয় মেয়াদে পৌরসভার মেয়র পদে নির্বাচনের সময় তাকজিল খলিফা কাজল যে হলফনামা দিয়েছিলেন সেটি খুব মনে রেখেছেন আখাউড়ার মানুষ। তার নিজ নামে কোনো বাড়ি বা অন্য সম্পদ নেই। তিনি মাত্র পৌনে এক শতক অকৃষি জমির মালিক। পেশা আমদানি-রপ্তানি ব্যবসা হলেও ব্যবসা থেকে তার কোনো আয় নেই। মেয়র হিসেবে তিনি বছরে সম্মানী ভাতা পান ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা।

আরও পড়ুন:  ক্ষো*ভের বি*স্ফোর*ণ ঘটলে জা*লিম সরকার টিকবে না

তার স্ত্রীর ২১ ভরি স্বর্ণ, নগদ ৩৫ হাজার টাকা ও ব্যাংকে ১০ হাজার টাকা রয়েছে। আরো বলেছিলেন, নির্বাচনের খরচ হিসেবে যে দুই লাখ টাকা ব্যয় করবেন সেটিও তার প্রবাসী ভাইয়ের কাছ থেকে প্রাপ্ত। কিন্তু এই ক’বছরে কাজল অনেক সহায়-সম্পদের মালিক হয়েছেন এমন আলোচনা রয়েছে দলের নেতাদের ও আখাউড়ার সাধারণ মানুষের মুখে মুখে।

পৌরশহরের প্রাণকেন্দ্রে নির্মাণাধীন তার ৮ তলা বাড়ি। এই বাড়িটি তার সম্পদশালী হওয়ার অন্যতম উদাহরণ হয়ে উঠেছে আখাউড়ার মানুষের কাছে। এ বাড়ির পাশেই রয়েছে তার পুরাতন বাড়িটি। সময় পরিবর্তনের তুলনা করার সুযোগ রয়েছে যা দেখে। বহুতল ভবন করার জায়গাটি এক কোটি ৬০ লাখ টাকায় ক্রয় করা হয়েছে বলে জানান, আখাউড়া আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী।

তিনি আরো জানান, এরপর আরো কয়েক কোটি টাকা খরচ করে এখানে বিল্ডিং করা হচ্ছে। এটি তার আমেরিকা প্রবাসী ভাইয়ের বলেই সবার কাছে বলেন মেয়র। আসলে এই জায়গা ও বিল্ডিং দুটোই মেয়রের। এছাড়াও মেয়রের আরো অনেক জায়গাজমি রয়েছে বলে জানান আখাউড়ার অনেকেই। বিপদে পড়ে এখানকার এক সরকারি কর্মকর্তা অনেক সম্পদ খুইয়েছেন। কলেজপাড়ায় ৯ শতক জায়গা, দুর্গাপুরে সাড়ে ৬ বিঘা বাগানবাড়ি, খড়মপুর চৈতনা বিলে ৫২ শতাংশ জমি, খড়মপুর মাজারের পাশে সাড়ে ৫ বিঘা জমি কে হা’তিয়েছেন সেটিও জানেন সবাই।

ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ২০১১ সালে মা’ম হয়। সেই মা’মলা থেকে বাঁচতে এই সম্পদ খোয়ান তিনি। বিষয়টি বেশ আলোচিত আখাউড়ায়। ছোট্ট পৌরসভায় বিলাসী এক গাড়ি হাঁকিয়ে চলেন মেয়র কাজল। দ্বিতীয় মেয়াদে নির্বাচিত হওয়ার পর ২০১৭ সালে পৌরসভার তহবিল শূন্য করে ৭০ লাখ ৩০ হাজার টাকায় মিতসুবিসি স্পোর্টস জিপটি কেনা হয়। এই অর্থ জোগান দেয়া হয় পৌরসভার রাজস্ব তহবিল থেকে।

এ যাত্রায় মেয়র হওয়ার পর বে’পরোয়া হয়ে উঠেন তিনি। ভেঙে-গুঁড়িয়ে দেন সরকারি বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র। সরকারি ওই জায়গা দখল করে মার্কেট বানাতে তৎপর হন। এক্ষেত্রে জেলা প্রশাসনের বিধিনিষেধ, থানা-আদালতে মা’মলা-মো’কদ্দমা কোনো কিছুরই প’রোয়া করেননি। শহরের সবচেয়ে উঁচু জায়গা সড়কবাজারে ছিল প্রায় ৩শ ফুট লম্বা এবং ৩৫ ফুট প্রস্থের এ বন্যা আশ্রয়কেন্দ্রটি।

সেটি নিশ্চিহ্ন করে দেন মেয়র। আনুমানিক ১০ লাখ টাকা মূল্যের পাকা স্থাপনার বিভিন্ন্ন মালামাল ইট, টিন, কাঠ তার গ্রামের বাড়িতে সরিয়ে নেয়া হয় বলে আলোচনা রয়েছে। যদিও পরে তিনি সেখানে মার্কেট করতে ব্যর্থ হন। কিন্তু বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র ভাঙা বা এর মালামাল লু’টের দায়ে তাকে কোনো বিচারের সম্মুখীন হতে হয়নি আজ পর্যন্ত। এই জায়গাটি বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে জেলা প্রশাসকের নামে রেকর্ডভুক্ত। জায়গাটিতে মার্কেট নির্মাণ কাজের জন্য পৌরসভা ২০১৩ সালের ৪ঠা আগস্ট দরপত্র আহ্বান করে এবং ঠিকাদার নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে। এরপরই মেয়রের থাবা থেকে জায়গাটি রক্ষায় আইনি পদক্ষেপ নেয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর।

থানায় মা’মলা, আদালতে স্থায়ী নি’ষেধাজ্ঞার মা’মলা করা হয়। মেয়র কাজলকে এসব মা’মলায় বি’বাদী করা হয়। সরকারি ও বিরোধপূর্ণ জায়গায় একের পর এক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ার উদ্যোগের কারণেও হালে আলোচিত হয়ে উঠেছেন কাজল। পৌর এলাকার শহীদ স্মৃতি কলেজ সংলগ্ন গরুর বাজারের পাশে ব্যক্তিমালিকানাধীন ও আখাউড়া দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদের বিরোধপূর্ণ একটি জায়গায় জো’রপূর্বক একটি বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছেন তিনি। গরুর বাজারের পাশের জায়গাটির ব্যক্তি মালিকানাধীন অংশ নিয়ে আদালতে দুটি মা’মলা চ’লমান থাকা অবস্থাতেই সেখানে বিদ্যালয় ভবন করার কাজ শুরু হয়। এ জায়গার পরিমাণ প্রায় ৫০ শতক।

এই স্কুল নির্মাণে পৌরসভার এডিবির বরাদ্দের ৬০ লাখ টাকা দেয়া হয় বলে এক আওয়ামী লীগ নেতা জানান। রাধানগর এলাকায় ৫৬ শতকেরও বেশি জায়গার একটি পুকুর ভরাট করা হয়েছে দু-বছর আগে। এই জায়গায় মেয়র তার পিতার নামে স্কুল করবেন। এই পুকুর ভরাটের জন্য পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমতি নেয়ারও তোয়াক্কা করেননি তিনি। পুকুর মালিকরা ১৫ শতক জায়গা পৌরসভাকে দান করেছে বলে মেয়র তখন সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন। আখাউড়া নাছরিন নবী স্কুলটি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৬৪ সালে।

২০১১ সালে এটি কলেজ হয়। এরপর নাম হয় আখাউড়া নাছরিন নবী স্কুল অ্যান্ড কলেজ। ২০১৮ সালে স্কুলের উত্তর পাশের একটি ভবনে কলেজটি স্থানান্তরিত হয়। নামও পাল্টে যায়। কলেজটি আলাদা করতে ভবন ছাড়াও স্কুল কম্পাউন্ডের ভেতর ১০ শতক এবং বাইপাশ সড়কের পাশে থাকা ৬৫ শতক স্কুলের মালিকানাধীন জায়গা কলেজের নামে দলিল করে দেয়া হয়। স্কুলের সভাপতি হিসেবে মেয়র কাজল এই উদ্যোগ নেন। অন্য নামে কলেজের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে তার নাম খচিত হয়েছে। স্কুলটির প্রতিষ্ঠাতা এমএ তাহের। পুরনো এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির নাম পরিবর্তনে আখাউড়ার মানুষের মনে ভীষণ দাগ কেটেছে। কিন্তু এ নিয়ে কথা বলার সাহস পাননি কেউ।

আরও পড়ুন:  ‘পয়সা লাগবে না চকলেট দেব, ভেতরে আয়’ ... এরপর

সরেজমিন ওই স্কুল অ্যান্ড কলেজে গিয়ে দেখা গেছে, সেখানে নতুন ভবন করা হচ্ছে। কিন্তু এতে ছোট হয়ে গেছে স্কুলের মাঠ। বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ক্লাসে করা হয়েছে শিক্ষকদের বসার জায়গা। প্রধান শিক্ষকসহ অন্যান্য শিক্ষকদের দেখা পাওয়া যায় সেখানেই। প্রধান শিক্ষক দেবব্রত বণিক বলেন- ক্লাসের কোনো সমস্যা হচ্ছে না। নতুন ভবন হচ্ছে। প্রকল্পের নামে অর্থ লো’পাটের অভিযোগও উঠে মেয়রের বিরুদ্ধে।

২০১৫ সালে এলজিইডির গুরুত্বপূর্ণ নগর অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প (আইইউআইডিপি) পরিচালকের কাছে এমন একটি অভিযোগ দেন মসজিদ পাড়ার আবুল খায়ের ভূঁইয়া। সম্প্রতি একই প্রকল্পের ৮টি গ্রুপে ৬ কোটি ৮০ লাখ টাকায় ড্রেন-রাস্তা নির্মাণ কাজের দরপত্র আহ্বান করা হয়। এরমধ্যে ১ ও ৮নং গ্রুপের ২ কোটি টাকার কাজের দরপত্র সিডিউল দেয়া হচ্ছে না বলে এক ঠিকাদার জানান। তবে পৌরসভার প্রকৌশলী ফয়সাল আহমেদ জানান, ইজিপি টেন্ডারে এই ধরনের সুযোগ নেই।

যুবলীগের এই নেতাকে ঘিরে সাব-রেজিস্টার বদলি এবং নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগও আলোচিত। আওয়ামী লীগের এক নেতা বলেন, বলা হয় টাকা ছাড়া চাকরি হয় এই এলাকার মানুষের। তবে যার কথায় চাকরি হয় তার কাছে গিয়ে আমি টাকা দিয়ে চাকরি নিয়েছি এমন ১০ জনের নাম বলেছিলাম। কিন্তু সেটি তিনি আমলে নেননি। একজন মুক্তিযোদ্ধা তার ২ সন্তানের চাকরির জন্য জমি বিক্রি করে টাকা দিয়েছেন বলে আমি জানি।

মতের বিরুদ্ধে গেলেই হা’মলা-মা’রধর। দলের নেতা-জনপ্রতিনিধি কারোরই রক্ষা নেই। জেলা পরিষদ সদস্য পদের উপনির্বাচনে গত ২৫শে জুলাই আখাউড়া কেন্দ্রে ভোট দিতে গিয়ে হা’মলার শি’কার হন বিজয়নগর উপজেলার ৩ জন ইউপি চেয়ারম্যান ও ৫ জন সদস্য। যুবলীগ নেতা কাজল সমর্থিত একেএম আতাউর রহমানের (হাতি) পক্ষে প্রকাশ্যে ভোট দিতে রাজি না হওয়ায় এ হা’মলা চালানো হয়। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী মোহাম্মদ আলী ভূঁইয়া (তালা প্রতীক) ও তার স্ত্রীও হামলার শি’কার হন।

এ ঘটনার পর ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেস ক্লাবে এসে তারা সংবাদ সম্মেলন করেন। এর আগে ১১ই মার্চ আখাউড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ব্যবসায়ী মনির হোসেন বাবুলের ওপর হা’মলা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে নগদ ১ লাখ ৮৩ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়া হয়। এই হা’মলাতেও জড়িত যুবলীগ নেতার অনুসারীরা। তাদের মধ্যে শাহিন ও দেবাশীষ ঘোষ হৃদয়কে চেনা গেছে। ২০১৮ সালের আগস্টে দলের অফিসেই হা’মলার শি’কার হন মোগড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগের সাবেক আহ্বায়ক মনির হোসেন। মনির হোসেন জানান, দলের অফিসে গেলে কাজল তাকে দেখে বলে এই লোক এখানে কেন।

এ সময় উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক জয়নাল আবেদীন মনির এখানে থাকবে বললে কাজল তার লোকজন নিয়ে সেখান থেকে বেরিয়ে যান। এর কয়েক মিনিট পরই কাজলের অনুসারীরা দা-র’ড নিয়ে সেখানে এসে মনিরের ওপর হা’মলা করে। থানা থেকে কয়েক মিনিটের দূরত্বে এ ঘটনা ঘটলেও পুলিশ এগিয়ে আসেনি। অন্য সূত্র জানিয়েছে, মনির জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরীর ছবি ব্যবহার করে পোস্টার করেছিলেন। সেটাই ছিল তার অ’পরাধ। মনির জানান, এর আগে তার কাছ থেকে যুবলীগের পদও কেড়ে নেয়া হয়। তিনি বলেন, এখানকার সবকিছু কাজলই চালাচ্ছে।

তবে মেয়র তাকজিল খলিফা কাজল সব অভিযোগ ডাহা মি’থ্যা বলে দাবি করেন। বলেন, আমার ভাইয়েরা কী নিয়ন্ত্রণ করবে। তারা ব্যবসা-বাণিজ্য করে খায়। আখাউড়াতো এমন জায়গা নয় যে, এখানে গডফাদার আছে। বাহিনী আছে। আমাদের পরিবার যদি এরকম করতো তাহলে মানুষ আমাদের পছন্দ করতো না। আমার পরিবারের লোকজন মানুষের ওপর অ’ত্যাচার করবে সেটা আমি মেনে নেব না।

সম্পদের বিষয়ে বলেন, আমি ‘নাই’ বংশের মানুষ না। সহায়-সম্পদ যথেষ্ট আছে। একেবারে খালি হাতে রাজনীতি করতে আসিনি। বহুতল বাড়িটি তার ভাই নেসার আহমেদ খলিফার বলে জানান তিনি। বিতর্কিত জায়গায় কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান করছেন না বলেও দাবি করেন কাজল। পৌরসভার জায়গা এবং জায়গা কিনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান করছেন। তিনি আরো বলেন, আওয়ামী লীগ করার মতো বয়স আমার হয়েছে। আমার বয়স এখন ৫০ বছর। বিভিন্ন ইউনিয়নে মিটিং করে সবাই আমাকে সমর্থন দিয়েছে।

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সর্বশেষ আপডেট:

  • 498
    Shares