প্রচ্ছদ অপরাধ

রীতিমতো ক্যাম্প বানিয়ে গাজওয়াতুল হিন্দ যু’দ্ধের জন্য ট্রেনিং নিচ্ছিল ৩৩ জ’ঙ্গি

133
পড়া যাবে: 2 মিনিটে

পার্বত্য চট্টগ্রামের বান্দরবানে রীতিমতো ক্যাম্প বানিয়ে প্রশিক্ষণ নিচ্ছিল নি’ষিদ্ধঘোষিত জ’ঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামের ৩৩ জন জ’ঙ্গি। বান্দরবনের আগে তারা সুন্দরবনে শারীরিক প্রশিক্ষণ নিয়েছিল।

অর্থ সংগ্রহের জন্য এই গ্রুপের দলনেতা শাহীন আলম ওরফে ওমর শরীফ এবং তার দুই সহযোগী হানিফুজ্জামান তারেক ও সাইফুল ইসলাম বান্দরবান থেকে ঢাকায় গেলে সেখানে তারা কা’উন্টার টে’রোরিজম অ্যান্ড ট্রা’ন্সন্যাশনাল ক্রা’ইম (সিটিটিসি) ইউনিটের জালে ধরা পড়ে। জি’জ্ঞাসাবাদে তারা এই নি’ষিদ্ধ সংগঠনের তৎপরতার কথা জানায়।

গত ১০ অক্টোবর গ্রে’প্তার হওয়া তিনজনের বিরুদ্ধে ঢাকার যাত্রাবাড়ী থানায় স’ন্ত্রাসবিরো’ধী আইনে একটি মা’মলা দা’য়ের করা হয়। পরে রি’মান্ডে নিয়ে জি’জ্ঞাসাবা’দ শেষে তিনজনকে আদালতে সোপর্দ করা হলে গত ১৭ অক্টোবর তারা স্বীকারোক্তিমূলক জ’বানব’ন্দিতেও বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছে।

জ’বানব’ন্দিতে এই তিন জ’ঙ্গি জানিয়েছে, নি’ষিদ্ধঘোষিত জ’ঙ্গি সংগ’ঠন আনসার আল ইসলামের একটি সেল ‘দারুল জান্নাতের’ ব্যানারে ৩৩ জন জ’ঙ্গি ‘কোড’ নামে সংগঠিত হচ্ছিল। ‘কোড’ নামেই ছিল একে অন্যের পরিচয়। তারা প্রত্যেকেই নিজেদের প্রকৃত নামের আড়ালে একেকটি ‘কোড’ নাম ব্যবহার করতো। এ, বি, সি, ডি—এই চারটি কোড এ থেকে এ-৯ পর্যন্ত শুরা সদস্য, অন্য সদস্যরা বি, সি ও ডি কোড ব্যবহার করতো।

আরও পড়ুন:  মাদরাসা ছাত্রীকে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন করে শ্লীলতাহানী

‘দারুল জান্নাত’ নামের এই গ্রুপটিতে যোগ দিতে কথিত হিজরতের নামে ঘর ছেড়েছিল এই তরুণরা। এর মধ্যে ময়মনসিংহ থেকে সম্প্রতি নটরডেম কলেজে ভর্তি হওয়া সাফায়েত নামে এক শিক্ষার্থী এবং সাতক্ষীরা থেকে এক পুলিশ কনস্টেবলের অষ্টম শ্রেণী পড়ুয়া ছেলে মোহায়মিনুল ইসলামও ছিল।

গত ১৩ সেপ্টেম্বর রাতে বাড়িতে একটি চিরকুট লিখে বাসা থেকে বেরিয়ে যায় মোহায়মিনুল ইসলাম। এরপর থেকে নিখোঁজ ছিল সে। ১৪ সেপ্টেম্বর মধ্যরাতে চট্টগ্রাম নগরীর বন্দর এলাকা থেকে মোহায়মিনুলকে উদ্ধার করা হয়। এরপর তাকে সাতক্ষীরায় ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। মোহাইমিনুল ‘হিজরতের’ মাঝপথ থেকে বাড়িতে ফিরে গেলেও সাফায়েত গ্রে’প্তার হয় কা’উন্টার টে’রোরি’জম ইউনিটের হাতে।

‘দারুল জান্নাত’ সেলের নেতৃত্বে রয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া ফেরত এক তরুণ- শাহীন আলম ওরফে ওমর শরীফ। ঢাকার আদাবরের মিশন ইন্টারন্যাশনাল কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করে স্কলারশিপ নিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার হানসিও বিশ্ববদ্যালয়ে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে অনার্স পড়ছিলেন তিনি।

আরও পড়ুন:  বেরিয়ে এল ছেলে ধ*রা স*ন্দেহে গ**র শি*কার তরুণীর আসল রহস্য

‘ভাঙ্গা ত’রবারী’ নামে একটি ফেসবুক আইডি পরিচালনা করতেন তিনি। পরে তিনি আনসার আল ইসলামের হয়ে ‘দারুল জান্নাত’ নামে একটি ফেসবুক গ্রুপ খোলেন। এই গ্রুপের সদস্যরা একে অন্যের নাম জানতো না। নির্দিষ্ট ‘কোড’ নামে একে অন্যের সঙ্গে পরিচিত ছিলেন।

‘দারুল জান্নাত’- এর মূল নেতা শাহীন আলম ওরফে ওমর শরীফ তার জ’বানব’ন্দিতে জানিয়েছেন, গাজওয়াতুল হিন্দ বলে ভারতীয় উপমহাদেশে কথিত যে যু’দ্ধের কথা উল্লেখ রয়েছে, ওই যু’দ্ধের জন্য তিনি মুসলমানদের সংগঠিত করার চেষ্টা করছিলেন। তার ভাষায়, ‘ওই গ্রুপের সূত্র ধরে তারেক, সাইফুল ও হানিফুজ্জামানদের সঙ্গে আমার খুব ভালো সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

গত ২৯ আগস্ট পরিবারকে না জানিয়ে দেশে ফিরে হানিফুজ্জামানের সঙ্গে যোগাযোগ করি। তারেকসহ সবাই সাভারে গিয়ে একত্র হয়ে প্রথমে খুলনায় যাই। সেখানে সাইফুল নামে আরেক সহযোগীসহ সবাই সুন্দরবনে যাই। এরপর সেখান থেকে বান্দরবনের আলীকদমে গিয়ে অর্থ আয়ের জন্য একটি জমি লিজ নিয়ে একটি ক্যাম্প গড়ে তুলি।’

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

  • 380
    Shares