প্রচ্ছদ আইন-আদালত রি’মান্ডে প্রভাবশালী ২৫ ব্যক্তির নাম বললেন সম্রাট,আছে প্রশাসনের কয়েক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা

রি’মান্ডে প্রভাবশালী ২৫ ব্যক্তির নাম বললেন সম্রাট,আছে প্রশাসনের কয়েক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা

237
পড়া যাবে: 4 মিনিটে
advertisement

সম্রাটের ক্যাশিয়ার হলেন- ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের বহিষ্কৃত সহসভাপতি এনামুল হক আরমান। ক্যা’সিনো, চাঁ’দাবা’জি ও টে’ন্ডারবা’জির টাকার বড় একটি অংশ আরমানের কাছে রাখতেন সম্রাট। সম্রাটের টাকা সম্পর্কে ও আরমানের কর্মকাণ্ড জানতে গত সোমবার আরমানকে দ্বিতীয় দফায় পাঁচ দিনের রি’মান্ডে নেয়া হয়েছে। তার কাছ থেকে সম্রাটের ওই টাকার বিষয়ে জানার চেষ্টা চলছে।

advertisement

দুদক সূত্র জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত সম্রাটের এক কোটি ৮৩ লাখ টাকার নথিপত্র পাওয়া গেছে। এই তথ্যের ভিত্তিতে মা’মলা করলে কমিশন প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে। কারণ যে বিপুল অর্থসম্পদ তার রয়েছে, সেই তুলনায় দুদকের পাওয়া এই তথ্য খুবই কম। তাই সম্রাটের আরও সম্পদের তথ্য বের করতে দু’দক ২৪টি প্রতিষ্ঠান বা সংস্থাকে চিঠি দেবে।

সম্রাট ঢাকার অন্তত ১০ ক্যা’সিনো নিয়ন্ত্রণ করতেন। তার হয়ে এগুলো দেখাশোনা করতেন স্বেচ্ছাসেবক লীগ থেকে বহিষ্কৃত সভাপতি মোল্লা কাওছার, যুবলীগ নেতা খালেদ মাহমুদ, এনামুল হক আরমান ও কাউন্সিলর মমিনুল হক সাঈদ।

আরও পড়ুন:  সম্রাট ও আরমানকে যুবলীগ থেকে বহিস্কার, র‌্যাবের সদরদপ্তরে সম্রাট

এদিকে রি’মান্ডে জি’জ্ঞাসাবা’দে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন সম্রাট। তার অবৈধ আয়ের সুবিধাভোগী হিসেবে অন্তত ২৫ জন প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম বলেছেন এই ক্যাসিনো সম্রাট। এদের মধ্যে রয়েছেন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের প্রভাবশালী নেতা এবং প্রশাসনের কয়েক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা।

রাজনৈতিক নেতা নামধারী অনেকেই সম্রাটের দফতরে হাজির হতেন জু’য়ার টাকার ভাগ নিতে। প্রতি মাসে ব্যাগভর্তি করে জুয়ার টাকা নিয়ে তারা বেরিয়ে যেতেন। সিসি ক্যামেরায় ধারণ করা ভিডিও ফুটেজেও এর প্রমাণ রয়েছে। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের বিভিন্ন নেতা ছাড়াও টাকার ভাগ পেতেন পল্টন, মতিঝিল ও ফকিরাপুল এলাকার প্রভাবশালীরা।

র‌্যাবের জি’জ্ঞাসাবাদে সম্রাট তার চাঁ’দাবাজি’র টাকার ভাগ নেয়া প্’রভাবশালী যাদের নাম বলেছেন, তাদের মধ্যে রয়েছেন ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মোল্লা আবু কাওছার এবং যুবলীগের একজন শীর্ষ নেতা।

আরও পড়ুন:  এবার গ্রে*ফতার হচ্ছেন ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট

র‌্যাবের জি’জ্ঞাসাবাদে নিজের জু’য়ার নে’শা থেকে শুরু করে ঢাকার ক্যা’সিনো সাম্রাজ্যের আদ্যোপান্ত সবিস্তারে খুলে বলছেন সম্রাট। তার গ’ডফাদার কে, কীভাবে তিনি ক্যা’সিনো জ’গতে এলেন এবং জু’য়ার টাকা কার কার পকেটে গেছে সবার নামই তিনি বলছেন। জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া নামগুলোর তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। যাচাই-বাছাই শেষে নামের তালিকা পাঠানো হচ্ছে সরকারের উচ্চপর্যায়ে।

মা’মলার তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জি’জ্ঞাসাবাদে সম্রাট জানিয়েছেন মতিঝিলের ছয়টি ক্লাবের ক্যা’সিনো থেকে তিনি প্রতি সপ্তাহে অন্তত ৫০ লাখ টাকা চাঁ’দা পেতেন। ক্যা’সিনোর পাশাপাশি গুলিস্তানের ছয়টি মার্কেট থেকে তোলা চাঁদার টাকাও তার কাছে আসত। মতিঝিল ও গুলিস্তানের ফুটপাত থেকে প্রতি সপ্তাহে পাঁচ–ছয় লাখ টাকা করে পেতেন তিনি।

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সর্বশেষ আপডেট

  • 1.2K
    Shares
advertisement