প্রচ্ছদ ফেসবুক থেকে ডার্ক রেস্টুরেন্টের নামে সে’ক্স রেস্টুরেন্ট!

ডার্ক রেস্টুরেন্টের নামে সে’ক্স রেস্টুরেন্ট!

351
পড়া যাবে: 5 মিনিটে
advertisement

চট্রগ্রামে ডার্ক রেস্টুরেন্ট নামে কিছু জায়গা আছে, যেখানে স্কুল কলেজের বাচ্চা ছেলে-মেয়েরা গিয়ে সে’ক্স করে। কি’স বা হা’গ না, ডাইরেক্ট সে’ক্স। যারা করে তাদের বেশিরভাগ ভার্সিটি লেভেলেও যায়নি, স্কুল-কলেজের ছাত্রী। এরা হিজাব পড়ে ঢুকে, সে’ক্স করে বেরোয়।

advertisement

কিছুদিন আগে আমি এটা জেনে অবাক হই। ৪ দিন আগে প্রথমবারের মত কিছু রেস্টুরেন্টে নিজের চোখে প্রমাণ দেখে আসি। অনেক স্কুল পড়ুয়া মেয়েদের সরাসরি সে’ক্স করা অবস্থায় পাই। বয়স্ক লোকের সাথে সে’ক্স করতে দেখে মহসিন কলেজের একটা মেয়ের বাসায় কল করে তার আম্মুকে সাবধান করে দেই। পরে এই ঘটনা বন্ধ করার জন্যে উচ্চপদস্থ একজন পুলিশের সাথেও যোগাযোগ করি।

গতকাল যা ঘটেছিল, কোন প্ল্যান ছাড়াই। বের হয়েছিলাম, নিউ মার্কেট যাবো। হঠাৎ ছোট্ট একটা মেয়েকে হিজাব নিকাব পড়া অবস্থায় সেই ডার্ক রেস্টুরেন্টের সামনে দেখি। আমার সাথে থাকা বন্ধুটি বলে, এই মেয়ে সে’ক্স করতে আসছে। আমি বিশ্বাসই করি নাই।

আমি বলিঃ এত ছোট একটা মেয়ে! হিজাব-নিকাব পড়া, এগুলা করবে না। কিন্ত একটু পর যখন দেখি মেয়েটা আসলেই একটা ছেলের সাথে সেখানে যাচ্ছে আমার বন্ধুটি হঠাৎ রাগ সামলাতে না পেরে বাধা দিতে যায়। ২টা রেস্টুরেন্টের মধ্যে কমপক্ষে ১০ জোড়া ছাত্র-ছাত্রীকে সেক্স করা অবস্থায় পাই আমরা। সম্পুর্ন বি’বস্ত্র, পাশে বোরকা-হিজাব। নীচে পড়ে আছে ক’ন্ড’ম। অন্ধকার জায়গায় চারিদিক ঘেরা দিয়ে ছোট ছোট স্পেসে অপেন সে’ক্সের ব্যবসা চলছে। এগুলা আবাসিক হোটেল না, রেস্টুরেন্টের নামে তরুণ প্রজন্মকে সহজে সে’ক্সে উৎসাহিত করার কৌশল। অথচ, এই সমাজেই আপনাদের ছোট বোনরাও থাকে। কোচিং ফাকি দিয়ে প্রেম না, ডাইরেক্ট সে’ক্স ক’রতে চলে আসে!

আরও পড়ুন:  ‘ওদের জানা উচিত, কথা দিয়ে কথার বরখেলাপ আমি করি না।’

এরপরেই আমরা বাধার সম্মুখীন হই। নীচে মানুষ জমে গেছে, বোরকা পড়া মেয়েরা পালাচ্ছে। পুলিশকে ডেকে ঘটনা জানাই। পুলিশ মাত্র ১ জন। হঠাৎ কিছু বুঝার আগেই ডার্ক রেস্টুরেন্টের কর্মচারীরা ৪/৫ জন এক হয়ে মা’রতে শুরু করে আমাদের। আমাদের চো’র, চা’দাবা’জ বলে মা’রতেছে, সাধারণ মানুষ কিছু বাধা দিলেও পেটে বুকে প্র’চন্ড ঘু’ষি খাই। আমার বন্ধুটি দোকানে ঢুকে যায়। সাথে সাথে কলাপসিবল গেট আটকে দেয় অন্যরা। এরমধ্যে ডার্ক রেস্টুরেন্টকে শেল্টার দেয়া কিছু স’ন্ত্রাসী এক হয়ে গ’ণধো’লাইয়ে’র আয়োজন করে ফেলছিল। আমি একা হয়ে যাই। বারবার পুলিশের সামনেই আমাকে ছি’নিয়ে নিয়ে মা’রার চেষ্টা করে তারা। এরপর থানার ওসি চলে আসে এবং আল্লাহর রহমতে অল্পের জন্যে প্রাণে বেচে যাই। আমাকে পুলিশের গাড়িতে করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। আশেপাশে বহু সাধারণ মানুষ ছিল, কেউ কিছু বলেনি। হয়তো স’ন্ত্রাসী’দের ভয়েই। এভাবেই তো চলছে দেশ..

থানায় নেয়ার পর শুরু হয় অন্য রাজনীতি। আমাকে চিনে যায় অনেকে। কোটা সংস্কার আন্দোলন করেছিস বলে গা’লাগা’লি শুরু হয়। খবর পেয়ে বিভিন্ন গ্রুপ চলে আসে৷ তাদের অনেকদিনের ক্ষোভ আমার উপর। মানুষের ঘৃণ্য রুপ দেখে বা’করুদ্ধ হই, সেসব প্রকাশ করারও রুচি নাই। নির্দোষ জেনেও সবাই একসাথে গা’লি দিচ্ছে। “কোটা আন্দোলন করিস, তোকে তো থানায় না এনে পি’টিয়ে মে’রে ফেলা উচিত ছিল।” আমি একা আর সবাই মিলে আমাকে ফা’সানোর অনেক চেষ্টা করে৷

আরও পড়ুন:  ছাত্র আন্দোলনের নেতা নূরু ও রাশেদ খানকে প্রকাশ্যে পিস্তল ঠেকিয়ে হত্যার হুমকি

IIUC ছাত্রলীগের নাম বেচা গু’ন্ডাগু’লা এই সুযোগ কেন ছাড়বে? তারা তাদের পেইজে অপপ্রচার চালায়, “ডিবি পরিচয়ে চা’দাবা’জি করার সময় কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতা মুনতাসির গ্রে’ফতার!”

দ্রুত তারা থানায় চলে আসে। ঘৃণ্য অনেক খেলা চলে সেখানে। আমার জন্যে যারা গিয়েছিল তাদেরকে মে’রে তাড়িয়ে দেয় ছাত্রলীগের পোলাপান। চট্রগ্রামের কোটা সংস্কার আন্দোলনের অনেকের মোবাইল চেক করে, গা’লি দিয়ে থানার সামনে থেকে সরিয়ে দেয় আমার ক্যাম্পাসের কথিত ছাত্রলীগ নেতারা। কিন্ত কেন ??

তারা নাকি আমাকে বাচাতে আসছে! আমি যেখানে কোন অ’পরাধ’ই করি নাই, সেখানে তারা কিভাবে বাচাবে আর ১ জন চা’দাবাজ’কে বাচাতে আসার কি কারণ থাকতে পারে, যার বিরুদ্ধে একটু আগেই তারা পোস্ট দিছে! যদিও সেই পোস্ট পরে ডিলেট করে দেয়। সেই গল্প পরের পর্বে আসছে..

মুনতাসির মাহমুদ (চট্টগ্রাম কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতা)

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সর্বশেষ আপডেট

  • 207
    Shares
advertisement