প্রচ্ছদ রাজনীতি বিএনপি

জাতীয় প্রবৃদ্ধি নিয়ে সরকারের পরিসংখ্যান মিথ্যা :মির্জা ফখরুল

11
জাতীয় প্রবৃদ্ধি নিয়ে সরকারের পরিসংখ্যান মিথ্যা :মির্জা ফখরুল
পড়া যাবে: 3 মিনিটে

আজকে ভারত স্বীকার করে যে, আমার(ভারত) ১০% কমে গেছে প্রবৃদ্ধি । আর এরা(সরকার) বলেছে মিথ্যা কথা ৮-১০% বেড়ে গেছে। জাস্ট ইমাজিন। একটা সরকার কতটা দায়িত্বজ্ঞানহীন হলে তারা জনগনের সাথে মিথ্যা কথা বলে।কারণটা কী? তাদের জনগনের সাথে সম্পর্ক নেই। এই সরকার সম্পূর্ণভাবে জনবিচ্ছিন্ন সেই কারণেই জনগনের প্রতি তাদের দায়িত্বশীলতা নেই।প্রতিটি ক্ষেত্রে তারা(সরকার) মিথ্যাচার করছেন। প্রণোদনা। আমরা প্রথমে বলেছিলাম এটা শুভঙ্করের ফাঁকি। তারা বলছেন যে আমরা প্রণোদনা দিচ্ছে। এটা দিচ্ছেন ব্যাংক থেকে। ৮৭% তাদের ছিলো ব্যাংক থেকে প্রণোদনা। যাদেরকে টাকাটা দেবে যারা পাবে যদি ব্যাংক খুশি হয়, তারা সন্তুষ্ট হয়ে তাহলেই। ফলে কী হয়েছে? যারা সরকারের সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়, যারা ব্যাংকের সঙ্গে বিভিন্ন লেনদেনের সঙ্গে সম্পৃক্ত নয় তারা কিন্তু এই প্রণোদনা পাচ্ছে না। ফলে আমাদের ইনফারমাল সেক্টার যেটা এটা নিঃশেষ হয়ে গে্ছে, এদের পূঁজি হারিয়ে গেছে। গ্রামীন অর্থনীতিতে আরো ভয়াবহ অবস্থা হয়েছে, আরবান ইকনোমীতেও একই অবস্থা হয়েছে। এরা(সরকার) পুরো জিনিসটাকে ঢেকে রাখছে, মিথ্যা কথা বলছে।‘ আজকে এই সরকার আমার কাছে মনে হয়, কনসাসলি তারা এদেশের অবনীতিকে নষ্ট করে দেয়ার জন্য, এটাকে পরনির্ভরশীল করে দেয়ার জন্য দেশের অর্থনীতি যে ভিত্তি জিয়াউর রহমান সাহেব তৈরি করেছিলেন, বেগম খালেদা জিয়া তৈরি করেছিলেন সেই ভিত্তিগুলো তারা ভেঙে দিচ্ছে, নষ্ট করে দিচ্ছে।”দুর্ভাগ্য আমাদের, আমরা যে মূল রাজনৈতিক বিষয়ের জন্য লড়াই করেছিলাম, যুদ্ধ করেছিলাম সেই বিষয়টা অর্থাত গণতন্ত্রকে আমরা কোনোমতে আনতে পারছি না। এই গণতন্ত্র আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধের মূল চেতনা ছিলো, যেটার জন্য আমরা দীর্ঘকাল সংগ্রাম করেছি, লড়াই করেছি। যা আমরা অর্জন করেছিলাম নব্বই সালে। এই আওয়ামী লীগ সেই গণতন্ত্র বিরোধী শক্তির সাথে আতাঁত করে সেই গণতন্ত্রকে ধবংস করে দিয়েছে।আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘বিএনপি নেই, বিএনপি একেবারে শেষ হয়ে গেছে, নিঃশেষ হয়ে গেছে।’ যেখানে উনি বলছেন যে, বিএনপি নাই বিএনপি নাই। আপনার তো একটাই কাজ, আপনি তো দেশের অর্থনীতি, আপনার দলকে কিভাবে এগিয়ে নেবে- সেই সমস্ত কথা না বলেই দুইটা কথা বলেন, এটা হচ্ছে শেখ হাসিনা আরেকটা হচ্ছে বিএনপির বিরুদ্ধে। দ্যাট মিনস বিএনপি এতো বেশি করে আছে, এতো প্রবলভাবে আছে যে আপনাকে প্রত্যেকদিন এই কথা বলতে হচ্ছে।চতুদিকে কোবিডে আক্রান্ত। এখনো তো দুর্নীতি দুর্নীতি দুর্নীতি। চতুর্দিকে দুর্নীতি ছাড়া আর কিছু নেই। আপনি এই যে বলছেন স্বাস্থ্যখাতে। একটা কথাও সত্য বলে না। যে সরকারি যে ভাষ্য দেয় সেই ভাষ্যের সাথে বাস্তবতার কোনো মিল নেই। আমি তো আমার চতুর্দিকে দেখি যে সবাই কোবিডে আক্রান্ত হয়ে যাচ্ছে। আমরা ভাই হয়ছে আক্রান্ত, আমার চাচা হয়েছে, খালা হয়েছে আমরা পরিবারের। খবর নিয়ে দেখবেন যে, খুব কম পরিবার আছে যাদের কেউ না কেউ আক্রান্ত হয়েছেন। একটা পরিবারে ঢুকলে তাদের সবার হয়ে যায়। এই যে ঢাকা উত্তরের মেয়র তার গোটা পরিবারের ১৯জন একসাথে গেছে হাসপাতালে একসাথে বেরিয়ে আসছে। তারপরেও তারা বলবেন যে, এক হাজার, ১৯‘শ আক্রান্ত, সংক্রামিত হচ্ছে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে জেলাগুলোতে এখন কোনো টেস্ট হয় না এবং ট্রাম্পের যে কথা ছিলো নো টেস্ট নো করোনা। এখন নো টেস্ট নো করোনা হচ্ছে।পাবলিক এডমিনিস্ট্রেশনে জিডিপির ১৮.১৯% আর এগ্রিকালচারে ১. সামথিং। পাবলিক এডমিনিস্ট্রেশনে এতো টাকা কেনো? কারণটা হচ্ছে- একদলীয় শাসন ব্যবস্থা যদি তাদের রাখতে হয়, জনগনের ওপরে স্টিমরোলার চালাতে হয় তাহলে তো পাবলিক এডমিনিস্ট্রেশন বানাতে হবে। সবাইকে খুশি রাখতে হবে, সবাইকে একটার পর একটা প্রণোদনা দিতে হবে, গাড়ি দিতে হবে। ২০১৮ সালের নির্বাচনের আগে আগে বিশেষ বাহিনীর লোজজনকে ৩০ লক্ষ করে টাকা দিয়েছে গাড়ি কেনার জন্য যারা ফিল্ডে থাকবে, কাজ করবে। এখন ডেপুটি সেক্রেটারি পর্যন্ত গাড়ি। চোখ বন্ধ করে কিনবে এবং পরে ৫০ হাজার টাকা করে মাসে পাবে গাড়ির ম্যানটেইনেসসের জন্য।আর আমার কৃষক ভাই কী করবে? খাওয়া পাবে না। আমার যে ভ্যান চালায় সে খাওয়া পাবে না। এই যে বৈষ্যম সৃষ্টি করছে তারা সমাজের মধ্যে, অর্থনীতির মধ্যে এর ভয়াবহ পরিণতি।এক-এগারো আওয়ামী লীগ এনেছে। ১/১১ ‘র কথা বলে তারা। এক এগারো তো তোমরা করিয়েছো। তোমরা বলেছো যে, ১/১১ ‘র সরকার তোমাদের আন্দোলনের ফসল এবং তাদের সকলকে তোমরা বৈধ্যতা দিয়েছো। আজকে কোন মুখে তোমরা গণতন্ত্রের কথা বলো, কোন মুখে তোমরা জনগনের অধিকারের কথা বলো। যারা জনগনের ভোটের অধিকার ছিনিয়ে নেয়, যারা জনগনকে শুধুমাত্রা ক্ষমতায় থাকার একটা হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে চায়, জনগনকে মিথ্যা কথা বলে, প্রতারনা করে তারা বলে গণতন্ত্রের কথা। আওয়ামী লীগের কোনো অধিকার নেই গণতন্ত্রের কথা বলার, আওয়ামী লীগের কোনো অধিকার নেই বাংলাদেশের জনগনকে প্রতিনিধিত্ব করবার।তারা হারিয়ে গেছে, তারা দেউলিয়া হয়ে গেছে বলেই আজকে তারা বন্দুক-পিস্তল দিয়ে গায়ের জোরে তাদেরকে ক্ষমতায় টিকে থাকতে হচ্ছে।আসুন না নরম্যাল ইলেকশন করুন, ফেয়ার ইলেকশন করুন। আপনারা কোথায় কে টিকে আছেন, কোথায় কি জনগনের দরদী হয়ে গে্ছেন-দেখা যাবে। কেনো আপনারা ২০১৮ সালে আগের রাত্রে সব নির্বাচন করে নিয়ে চলে গেলেন? কেনো ২০১৪ সালের নির্বাচনে কোনো দলই অংশগ্রহন করলো না-আপনারা ১৫৪ জনকে অগ্রিম নির্বাচিত ঘোষণা করে দিয়ে আপনারা জনবিচ্ছিন্ন একটা সরকার প্রতিষ্ঠা করলেন? এই অবস্থার শেষ হবে, শেষ হতে বাধ্য। বাংলাদেশের জনগন কোনো দিনই পরাধীনতা মেনে তাদের অধিকারকে হারিয়ে তারা নিশ্চুপ থাকেনি। হয়ত সময় লেগেছে কিন্তু সেই সময়ের অবসান হয়েছে। আপনারা কখনোই হতাশার কথা বলবেন না। হতাশা দিয়ে কখনোই লড়াই জয় করা যায় না। লড়াই জয় করতে হলে আপনাদের আশা নিয়ে করতে হবে। সামনে সেই আশার লক্ষ্য রাখতে হবে। অবশ্যই বলতে হবে যে, সূরয উঠবেই, গণতন্ত্রের সূরয, জনগনের সূরয উঠবেই। আমি বলিনা যে, বিএনপির জন্য আপনারা এগুলো করুন। আমি বলি আপনাদের জন্য করুন, আপনাদের স্বাধীনতার জন্য, আপনাদের অধিকারের জন্য, আপনাদের ভবিষ্যত প্রজন্মকে রক্ষা করবার জন্যে আপনাদের সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে।জনগনকে নিয়ে গণতন্ত্রের পথে এগিয়ে যাওয়ার আহবান জানাই।
নিউজটি পড়া হয়েছে 17 বার

আরও পড়ুন:  অবিলম্বে মীর হেলাল সহ সকল রাজবন্দীর মুক্তি দিন; তোতন

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সাম্প্রতিক খবর আপনার মুঠোফোনে পেতে এখনি প্লে-স্টোর থেকে Bangla Magazine সার্চ করে ডাউনলোড করুন বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান নিউজ ম্যাগাজিন অ্যাপটি। অথবা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন এখানে। ভালো লাগলে অবশ্যই রেটিং দিয়ে উৎসাহী করুন।