প্রচ্ছদ রাজনীতি আওয়ামী লীগ

ত্যাগী নেতাকর্মীদের মাইনাস করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত যুবলীগের সাধারন সম্পাদক সীমান্তিক

117
পড়া যাবে: 2 মিনিটে

এক সময় গাড়ি চালাতেন। ছিলেন পেশাদার ড্রাইভার । ছাত্রজীবনে টিউশনি করে চালিয়েছেন পড়ালেখা। সে সময় ইসলামী ছাত্রশিবিরের রাজনীতির সাথে ছিলো দহরম মহরম। থাকতেন শিবির পরিচালিত ছাত্রাবাসে। তিনি এখন কোটিপতি। আছে একাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। থাকেন রাজপ্রাসাদে, বিলাসবহুল গাড়িও দৌড়ান। টাকার জোরে যুবলীগের বড় পদও বাগিয়ে নিয়েছেন। তিনি সীমান্তিক শামীম আহমদ। সিলেট জেলা যুবলীগের সাধারন সম্পাদক।

জকিগঞ্জের হাতিডহর গ্রামের রফু মিয়ার ছেলে শামীম আহমদ। পিতা ছিলেন মানসিক রোগী । ‘রফু’ পাগল বলেই এলাকায় ছিলো পরিচিতি। চাকুরী জীবনে তিনি জিন্দাবাজারস্থ হোটেল প্লাজায় চাকুরী করতেন । বলা যায় একটি মধ্যবিত্ত ঘরের সন্তান শামীম আহমদ। যার পরিচিতি মুলত সীমান্তিক শামীম নামেই ।

সীমান্তিক শামীমের উত্থান পর্ব শুরু হয় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা সীমান্তিককের হাত ধরে । শুরু করেছিলেন সহযোগী মাঠ কর্তা হিসেবে। এখন তিনি বড় কর্তা। চেয়ারম্যানের পরবর্তী দায়িত্বে নিয়োজিত। সীমান্তিকের নিয়োগ বাণিজ্য থেকে শুরু করে লোন বাণিজ্য সবই তার দায়িত্বে। সীমান্তিক সংশ্লিষ্ট সুত্রগুলো এমনটাই বলছে।

আহমেদ আল কবির রূপালী ব্যাংকের চেয়ারম্যান হওয়ার পর সীমান্তিক শামীমই দেখভাল করতেন বিভিন্ন বিষয়। নিয়োগ বাণিজ্য, ব্যাংক লোন পাইয়ে দেওয়া ইত্যাদি নানা কর্ম থেকে কমিশন হিসেবে হাতিয়ে নিয়েছেন কয়েক কোটি টাকা। লোন সংশ্লিষ্ট একটি ঘটনায় দুদকেও আছে তাদের বিরুদ্ধে একটি ফাইল। যা বর্তমানে ধামাচা’পা পড়ে আছে।

আরও পড়ুন:  স্বেচ্ছাসেবক লীগ থেকে কাওছার-পংকজ বাদ ও যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক গণভবনে নিষিদ্ধ

ভোট কিনে হয়েছেন সিলেট জেলা পরিষদেরও সদস্য । একসময় যার জীবন চলতো কোন রকমে তিনি এখন বেশ ক’টি বাড়ির মালিক । আছে বহুমুখী ব্যবসা । ‘ইউনিক’ ফার্মেসীর রয়েছে নগরীতে বেশ কিছু শাখা । ৩০ লক্ষ টাকা দামের এলিয়ন গাড়ী আছে তার । নিজবাড়িসহ বিভিন্ন স্থানে তার ও পরিবারের মালিকানায় আছে কয়েক,শ শতক জায়গা । অ’বৈধ কা’লোবাজা’রি হিসেবেও তার বেশ নাম ডাক আছে ।

সিলেটের আওয়ামী রাজনীতিতে হাইব্রিড হিসেবে পরিচিত যুবলীগ প্রেসিডিয়াম মেম্বার বহুল আলোচিত সমালোচিত নেতা ড. আহমেদ আল কবিরের সুযোগ্য উত্তরসূরী হয়ে শামীম আহমদ এখন সিলেট জেলা যুবলীগ নিয়ন্ত্রনের মিশন নিয়ে ব্যস্ত। পদ পদবি বিক্রি করছেন দেদারসে। জেলা যুবলীগের একাধিক সুত্র জানায়, সাবেক যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে এম আব্দুল মোমেনের নাম ব্যবহার করে শামীম যুবলীগ নিয়ন্ত্রনের চেষ্টা করছেন।

আরও পড়ুন:  অবশেষে যাদের হাতে যুবলীগের দায়িত্ব দিচ্ছেন আ’লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

যুবলীগের মাঠ পর্যায়ের অনেক নেতা অভিযোগ করে বলেন, একসময়ের শিবির নেতা শামীম জেলা যুবলীগকে জামায়াতের একটি প্ল্যাটফরম হিসেবে গড়ে তুলতে চান । আর এ লক্ষ্যে তিনি কাজ করে যাচ্ছেন । দীর্ঘদিনের ত্যাগী নেতাকর্মীদের মাইনাস করার ষড়যন্ত্র করছেন সুকৌশলে ।

সিলেট জেলা যুবলীগের এক শীর্ষ নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, আমরা যুবলীগের ত্যাগী নেতাকর্মীরা থাকতে কোনভাবেই শামিমের মিশন সফল হবে না । প্রয়োজনে রাজপথে নামবো কিন্তু শিবিরের একটি কর্মীর অনুপ্রবেশ ঘটতে দেয়া হবে না ।

শামীম আহমদের বিরুদ্ধে একটি হ’ত্যা মা’মলা আছে, একজন সাবেক সীমান্তিক কর্মী হিন্দু মহিলা এই মামলার বাদী ছিলেন, এমনটাও শোনা যায়। আছে জায়গা দখলেরও অভিযোগ। অনেকে দাবী জানিয়েছেন চলমান শুদ্ধি অভিযানে তাকে আ’টক করা হোক, হোক নিরপেক্ষ তদন্ত। বেরিয়ে আসুক সীমান্তিক শামীমের আসল চেহারা। তার বক্তব্য জানতে তার নাম্বারে বারবার ফোন করা হলেও, মোবাইল বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি । এমনকি তার ওয়াটসঅ্যাপ নাম্বারেও ফোন করলেও তিনি রিসিভ করেননি।

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

  • 172
    Shares