প্রচ্ছদ বিশ্ব সংবাদ কাশ্মীর সফরে যাওয়া ইইউ এমপিদের সবাই মুসলিম বিদ্বেষী ও বিজেপির সঙ্গে সম্পর্ক...

কাশ্মীর সফরে যাওয়া ইইউ এমপিদের সবাই মুসলিম বিদ্বেষী ও বিজেপির সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে

73
পড়া যাবে: 6 মিনিটে
advertisement

ভারত অধিকৃত জম্মু-কাশ্মীর রাজ্যের বিশেষ ব্যবস্থা তুলে নেয়ার পর থেকে কার্যত অবরুদ্ধ উপত্যকার বাসিন্দারা। টেলিফোন, ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ, নিয়মিত প্রকাশিত হচ্ছে না সেখানকার পত্রিকাগুলোও। ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর কড়া তল্লাশি ও নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে বিশ্ব থেকে এক প্রকার বিচ্ছিন্ন কাশ্মীরিরা। গত মাসে ভারতের বিরোধী দলীয় সাংসদদের একটি প্রতিনিধি দলকে কাশ্মীরে প্রবেশের অনুমতি দেয়নি উগ্র হিন্দুত্ববাদি মোদি সরকার।

advertisement

এ অবস্থায় এবার ইউরোপীয় ইউনিয়নের এমপি-দের একটি দলকে কাশ্মীরে যাওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে মোদি সরকার। খবর আনন্দবাজারের।

জানাগেছে, কাশ্মীরের মানবাধিকার ল’ঙ্ঘন নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক সমালোচনা ও চাপের মুখে ইইউ এমপিদের উপত্যকায় যেতে দিতে রাজি হয়েছে নয়াদ্দিল্লি। তবে সমালোচকরা মনে করছেন, মুসলিম ও অভিবাসী বিদ্বেষী হওয়ার কারণেই তাদের কাশ্মীর যেতে দিতে রাজি হয়েছেন মোদি।

সোমবার নরেন্দ্র মোদি ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের সঙ্গে বৈঠকের পরে ২৮ জনের এই প্রতিনিধিদলটি মঙ্গলবার কাশ্মীর সফরে যাচ্ছে বলে স্থানীয় এক সংবাদ মাধ্যম জানিয়েছে। তবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন নিজেই জানিয়েছে, এটি কোনো সরকারি সফর নয়। ইইউ দেশগুলোর এমপিরা সবাই বেসরকারি ভাবে এ দেশে এসেছেন।

এই প্রতিনিধিদলের অনেকেই আবার অতি-দক্ষিণপন্থী বা শরণার্থী-বিরোধী বলে পরিচিত দলের সদস্য। একই সঙ্গে মুসলিম বিদ্বেষী বলেও তাদের পরিচিতি রয়েছে।

তাই ভারতের বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, আন্তর্জাতিক মহলে চাপে পড়ে বিজেপি সরকার তাদের পছন্দনীয় ইইউ এমপিদের কাশ্মীর সফরে পাঠাচ্ছে। যাতে করে তাদের দেয়া ইতিবাচক রিপোর্টে আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেখাতে ও ৩৭০ ধারা বিলোপের পক্ষে সওয়াল করতে মোদির সুবিধা হয়।

আরও পড়ুন:  কাশ্মীর ‘আজাদ’ করতে উভয় বাংলায় জি*হাদের ডাক আ*ল কা*য়দার, ঘুম হারাম পূর্ববাংলার

ওই প্রতিনিধিদলের সদস্য বি এন ডান বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী মোদি আমাদের সবটাই ব্যাখ্যা করেছেন। কিন্তু আমরা সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে বাস্তব পরিস্থিতি জানার চেষ্টা করব।’ কাশ্মীরে সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ রদ এবং তার পরে যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ করে দেওয়ার পরে এই প্রথম কোনও বিদেশি প্রতিনিধিদল কাশ্মীরে যাচ্ছে।

ওই ইইউ প্রতিনিধিরা এমন সময়ে কাশ্মীর সফরে যাচ্ছে যখন ওই রাজ্যের তিন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি, ফারুক ও ওমর আবদুল্লাসহ গুরুত্বপূর্ণ সকল রাজনৈতিক নেতাকেই আ’টকে রাখা হয়েছে। কাশ্মীরের বাইরে থেকে কোনো রাজনীতিককে সেখানে যেতে দেয়া হচ্ছে না।

মোদি সরকারের এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে সোমবার কংগ্রেসের জয়রাম রমেশ বলেন, এটা দেশের সংসদ সদস্যদের জন্য অপমান। পিডিপি নেত্রী মেহবুবার অভিযোগ, কাশ্মীরে স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরে এসেছে বলে বোঝাতে মরিয়া সরকার অবিরাম কূটনৈতিক ভুল করছে। ফ্যা’সিবাদী, অতি দক্ষিণপন্থী ও শরণার্থী-বিরোধী ইউরোপীয় এমপিদের কাশ্মীরে যাওয়ার ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। ইউরোপীয় দলটিতে ব্রেক্সিট পার্টি, ল পেন’স পার্টি, বেলজিয়ামের ভিবি-র মতো অতি দক্ষিণপন্থী দলের এমপিরা রয়েছেন।

কিছুদিন আগেই কাশ্মীরের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে সোচ্চার হয়েছিলেন মার্কিন কংগ্রেস সদস্যরা। তারা তখন আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম ও মার্কিন কংগ্রেস সদস্যদের কাশ্মীর প্রবেশে বাধা দেওয়ারও তীব্র সমালোচনা করেছিলেন। এরপরই নিজেদের পছন্দনীয় ইউরোপীয় এমপিদের এই প্রতিনিধি দলকে কাশ্মীর সফরের আয়োজন করেছে ভারত।

আরও পড়ুন:  ভারতীয় রাষ্ট্রদূতকে বরখাস্ত করে ভারতের সাথে সকল বাণিজ্য বন্ধের ঘোষণা দিলো পাকিস্তান

ধারণা করা হচ্ছে, কাশ্মীর নিয়ে আন্তর্জাতিক চা’প কামাতে মার্কিন কংগ্রেস সদস্যদের বদলে নিজেদের বাছাই করা ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্যদের উপত্যকায় নিয়ে যাচ্ছে মোদি সরকার।

ভারত সরকারের এই কূটচাল নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মেহবুবা মুফতির মেয়ে সানা ইলতিজা জাভেদ। তিনি এক টুইটবার্তায় প্রশ্ন তোলেন, ‘ইইউ প্রতিনিধিরা কি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে পারবেন? ৩৭০ ধারা রদ করা যদি জম্মু ও কাশ্মীরকে ভারতের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয়, তা হলে রাহুল গান্ধীকে কাশ্মীরে ঢুকতে বাধা দেওয়া হচ্ছে কেন? তাহলে ফ্যা’সিবাদী না হলে, মনে মুসলিমদের প্রতি ঘৃণা না থাকলে কাশ্মীরের টিকিট পাওয়া সম্ভব নয়!’

বিজেপি নেতা সুব্রহ্মণ্যম স্বামীও এই সফর নিয়ে প্রশ্ম তুলেছেন। তিনি বলেন, ‘এটা জাতীয় নীতির বিকৃতি। অবিলম্বে এই অ’নৈতিক সফর বাতিল করা হোক।’

সিপিএম নেতা সীতারাম ইয়েচুরি বলেন, ‘এই বেসরকারি দলটি মূলত অতি দক্ষিণপন্থী ফ্যা’সিবাদীদের, যাদের সঙ্গে বিজেপির সম্পর্ক রয়েছে। এ থেকেই বোঝা যায়, কেন আমাদের সাংসদরা কাশ্মীরে ঢোকার অনুমতি পান না। অথচ মোদি মুসলিম বিদ্বেষী এমপিদের স্বাগত জানান।’

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সর্বশেষ আপডেট

  • 70
    Shares
advertisement