প্রচ্ছদ Featured News চার দশক ধরে চলা পুরনো দ্বন্দ্ব নতুন করে চাঙ্গা

চার দশক ধরে চলা পুরনো দ্বন্দ্ব নতুন করে চাঙ্গা

140
পড়া যাবে: 7 মিনিটে
advertisement

প্রায় চার দশক ধরে চলে আসা চট্টগ্রাম নগর আওয়ামী লীগের গ্রুপিং ছোট একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে আবার চাঙ্গা হয়ে উঠেছে। সোমবার রাতে একটি স্মরণসভায় দুপক্ষ মুখোমুখিও হয়। পুলিশের বাধার কারণে তা আর পরিণতির দিকে এগোয়নি। তবে সম্ভাব্য পরিণতির জন্য দুপক্ষই প্রস্তুতি নিয়ে যাচ্ছে।

advertisement

সাংগঠনিকভাবে এবং শক্তি প্রদর্শনের মাধ্যমে একপক্ষ অন্যপক্ষকে মোকাবিলা করতে চাইছে। গত রবিবার নগরীর পাঁচলাইশের আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি সম্মেলনে প্রয়াত নেতা এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর স্ত্রী হাসিনা মহিউদ্দিনকে মঞ্চে উঠতে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে এ গ্রুপিং চাঙ্গা হয়।

মহিউদ্দিন চৌধুরীর অনুসারীরা এ জন্য মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনকে সরাসরি দায়ী করেন। তারা একাধিক সভা-সমাবেশের মাধ্যমে আ জ ম নাছির উদ্দীনকে এ ঘটনার জন্য প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানান। এ জন্য ২৪ ঘণ্টার সময়সীমাও বেঁধে দেন। গতকাল ওই সময়সীমা পার হলেও নতুন করে কর্মসূচি দেননি তারা। এই কো’ন্দল চলাকালেই সোমবার রাতে মহিউদ্দিন চৌধুরীর অনুসারীদের বাধার মুখে প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা জানে আলম দোভাষের স্মরণসভায় আসতে পারেননি মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীন।

আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত নগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের এক নেতা আমাদের সময়কে বলেন, আপাতত এই ইস্যুতে আর আন্দোলন হওয়ার সম্ভাবনা নেই। দলের হাইকমান্ড থেকে এ ব্যাপারে বলে দেওয়া হয়েছে।

গত শতকের আশির দশকে প্রয়াত চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগ দুই ভাগে ভাগ হয়ে যায়। একভাগের নেতৃত্বে ছিলেন প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু এবং অন্য পক্ষে প্রয়াত এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী। ১৯৯৩ সালে হুমায়ুন জহির হ’ত্যা মা’মলার আ’সামি হয়ে দেশ ছাড়েন আখতারুজ্জামান চৌধুুুুরী বাবু। তখন বাবু গ্রুপের দায়িত্ব কাঁধে নেন নগর আওয়ামী লীগের তরুণ নেতা আ জ ম নাছির উদ্দীন। কালে কালে তিনিই ওই গ্রুপের হর্তাকর্তায় পরিণত হন।

আরও পড়ুন:  চট্টগ্রাম আ’লীগের গ্রুপিং প্রকাশ্যে,মহিউদ্দীন চৌধুরীর স্ত্রীকে মঞ্চ থেকে নামিয়ে দিলেন নাছির

১৯৯৭ সালে দেশে ফিরে পুনরায় রাজনীতিতে সক্রিয় হলেও বাবু আর নিজ গ্রুপের কর্তৃত্ব ফিরে পাননি। ততদিনে সেটি আ জ ম নাছির গ্রুপে পরিণত হয়। বিভিন্ন সময় মহিউদ্দিন চৌধুরীর সঙ্গে বাবু গ্রুপের সংঘর্ষে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের অন্তত ১৫ নেতাকর্মী মা’রা যান। এমনকি ১৯৯৩ সালের ২৪ জানুয়ারি লালদীঘি মাঠে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার সামনেই সমাবেশে বাবু গ্রুপ ও মহিউদ্দিন গ্রুপ প্রকাশ্যে ব’ন্দুকযু’দ্ধে লি’প্ত হয়। ওইদিন মহিউদ্দিন চৌধুরীর অনুসারীদের গু’লিতে বাবু গ্রুপের আবদুল মোমিন নামে এক ছাত্রলীগ নেতা নিহত হন।

দুইপক্ষের দূরত্ব এতই বেশি যে, ২০১৫ সালে আ জ ম নাছির উদ্দীন চট্টগ্রামের মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে বিভিন্ন ইস্যুতে তার বিরুদ্ধে মাঠে ছিলেন সাবেক মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী। বিশেষ করে গৃহকর আদায়কে কেন্দ্র করে মহিউদ্দিন চৌধুরী লালদীঘি মাঠে সমাবেশ ডেকে আ জ ম নাছিরকে খু’নি বলে আখ্যা দেন। বিপরীতে আ জ ম নাছিরের অনুসারীরাও মহিউদ্দিন চৌধুরীকে খু’নি থেকে শুরু করে নানা কুৎসা রটাতে থাকেন।

২০১৭ সালের ১৫ জানুয়ারি মহিউদ্দিন চৌধুরীর মৃ’ত্যুর আগ পর্যন্ত এই দ্বন্দ্ব অব্যাহত ছিল। মহিউদ্দিন চৌধুরীর পুত্র মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হওয়ায় এবং মহিউদ্দিন চৌধুরীর মৃ’ত্যুর পর এই প্রকাশ্য দ্বন্দ্বের আপাত অবসান হয়। কিন্তু একটি ইস্যুকে কেন্দ্র করে আবার মাঠে গড়িয়েছে এই দ্বন্দ্ব। আ জ ম নাছির ও নওফেলের মধ্যে সুসম্পর্ক গড়ে উঠলেও বাবার অনুসারীদের পক্ষেই শেষ পর্যন্ত অবস্থান নেন নওফেল।

আরও পড়ুন:  চট্টগ্রাম আ’লীগের গ্রুপিং প্রকাশ্যে,মহিউদ্দীন চৌধুরীর স্ত্রীকে মঞ্চ থেকে নামিয়ে দিলেন নাছির

একই আদর্শের অনুসারী হওয়া সত্ত্বেও চট্টগ্রামে মহিউদ্দিন চৌধুরী ও আ জ ম নাছির উদ্দীনের অনুসারীরা খুব কম সময়ই একমঞ্চে উঠে একসঙ্গে রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করেছেন। চট্টগ্রাম মহানগর ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে এই দুই গ্রুপের আলাদা অনুসারী রয়েছে। তা ছাড়া এক গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে থাকা কলেজ বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অন্য গ্রুপের অনুসারীদের শত্রু হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

চট্টগ্রাম নগরীর কলেজগুলোর মধ্যে চট্টগ্রাম সরকারি কলেজ, হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজ ও বেসরকারি ওমর গণি এমইএস কলেজ এবং ইসলামিয়া কলেজ নিয়ন্ত্রণে রয়েছেন মহিউদ্দিন চৌধুরীর অনুসারীরা। আর চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ, সরকারি কমার্স কলেজ, চট্টগ্রাম পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ও চট্টগ্রাম আইন কলেজ আছে আ জ ম নাছির গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে।

গত সোমবার আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি সম্মেলনে সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, চট্টগ্রামে আওয়ামী লীগ শক্তিশালী। কিন্তু অন্তর্কলহ আছে। মাঝে মাঝে এটা প্রকট আকার ধারণ করে।

গ্রুপিং রাজনীতি বিষয়ে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করা হয়। তিনি অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থান করায় তা সম্ভব হয়নি। তাকে হোয়াটসআপে ফোন এবং খুদে বার্তা দেওয়া হলেও সাড়া দেননি।

আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, আমি নিজ মুখে কখনো বলিনি আমার অনুসারী কেউ আছে। কারণ আমরা সবাই আওয়ামী লীগের কর্মী এবং শেখ হাসিনার অনুসারী। আমরা বঙ্গবন্ধুর সৈনিক।

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সর্বশেষ আপডেট

  • 177
    Shares
advertisement