প্রচ্ছদ এক্সক্লুসিভ একটা ছেলের মৃ’তদেহে’র উপর কনসার্ট চালিয়ে গেলে কিশোর আলো

একটা ছেলের মৃ’তদেহে’র উপর কনসার্ট চালিয়ে গেলে কিশোর আলো

87
পড়া যাবে: 5 মিনিটে
advertisement

শুক্রবার ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজের মাঠে কিশোরদের মাসিক পত্রিকা কিশোর আলোর বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানে এসে বিদ্যুস্পর্শে নি’হত হয়েছেন ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজের নবম শ্রেণির ছাত্র নাইমুল আবরার।তার মৃ’ত্যুর সংবাদ জানার পরও বিষয়টি দর্শকদের কাছে চেপে রেখে অনুষ্ঠান চালিয়ে গেছেন আয়োজকরা। এমনকি মহাখালীর বেসরকারি ইউনিভার্সেল হাসপাতাল থেকে যখন আবরারের মৃ’ত্যুর সংবাদ শুনলেন তারা, তখন মঞ্চে গান চলছিল। সে গান বন্ধ করেননি আয়োজকরা।এ কথা জানিয়েছেন গতকাল ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকা বেশ কয়েকজন দর্শক ও রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজের শিক্ষার্থীরা।

advertisement

এ বিষয়ে জনপ্রিয় কার্টুনিস্ট মোরশেদ শিশু বলেন, আবরার যখন বিদ্যুস্পর্শে আ’হত হয়ে অ’জ্ঞান হয়ে পড়ে তখন মঞ্চে গান গাইতে উঠেছিলেন জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী তাহসান। আয়োজকরা সে সময় তাহসানকে গান পরিবেশন বন্ধ করতে দেননি। এরপর আমরা যখন জানলাম আবরার আর বেঁচে নেই, তখন মঞ্চে গান গাইছিলেন জনপ্রিয় শিল্পী অর্নব। অর্নবকে দিয়ে গান পরিবেশনও নির্বিঘ্নে চালিয়ে গেছেন আয়োজকরা।

মিশু ছাড়াও রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজের অনেক শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, আবরার যখন বিদ্যুস্পর্শে আ’হত হলো তখন কিশোর আলো কর্তৃপক্ষ ব্যাপারটা উপস্থিত সবাইকে জানাতে কিংবা বৈদ্যুতিক তারের বি’পদ সম্পর্কে সতর্ক পর্যন্ত করেননি। অনুষ্ঠান আয়োজক ও কলেজ কর্তৃপক্ষের এ দায়িত্বজ্ঞানহীনতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।শিক্ষার্থী নাঈমুল আবরারের মৃ’ত্যুতে ক্ষোভ প্রকাশ করেন একই কলেজের শিক্ষার্থী রিয়াজ। তার প্রশ্ন, মৃ’ত্যুর খবর চেপে রেখে কেন গান চলল, অনুষ্ঠান চলল?

আরও পড়ুন:  আইয়ুব বাচ্চুর জন্য চিৎকার করে কাঁদলেন জেমস (ভিডিও)

এক শিক্ষার্থী বলেন, বিকেল সাড়ে তিনটার সময় সে আ’হত হয়েছে, ডাক্তাররা বলছে মা’রা গেছে। তখন কেন ঘটনাটা জানানো হয়নি। অনুষ্ঠানস্থলের পাশেই ওর ডে’ডব’ডিটা ছিল। কেন অনুষ্ঠানটা চলল। এরপরেও কেন দুই ঘণ্টা ধরে গান চলল।বিষয়টি নিয়ে গতকাল রাত থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভের ঝড় বইছে।বিকালে গু’রুতর আ’হত আবরাকে কেন মহাখালীর বেসরকারি ইউনিভার্সেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলো সে প্রশ্নও ছুড়ছেন আবরারের সহপাঠীরা।

আবরারের এক সহপাঠী বলেন, এত বড় একটা দু’র্ঘটনা ঘটল অথচ আবরারকে মোহাম্মদপুর থেকে নিয়ে যাওয়া হলো মহাখালীতে। এতদূর নিতে হলো কেন? আশপাশেই তো কত হাসপাতাল ছিলো, সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল ছিল।এদিকে জানা গেছে, আবরার মৃ’ত্যুর ঘটনাকে একটি দু’র্ঘটনা আখ্যা দিয়ে লা’শের ম’য়নাত’দন্ত ছাড়াই দা’ফনে’র সিদ্ধান্ত নিয়েছে কলেজ কর্তৃপক্ষ।এ খবরেও ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছে ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজের শিক্ষার্থীরা।

এ বিষয়ে কলেজের অধ্যক্ষ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কাজী শামীম ফরহাদ জানান, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার পর সে অ’জ্ঞান হয়ে পড়ে। এরপর এখানে যে চিকিৎসকরা ছিলেন তারা তাকে দেখেন। কিন্তু তারা পালস পাচ্ছিলেন না। তাই দ্রুত তাকে হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়। হাসপাতাল থেকে জানানো হয় সে আগেই মা’রা গেছে।

আরও পড়ুন:  আইয়ুব বাচ্চুর জন্য চিৎকার করে কাঁদলেন জেমস (ভিডিও)

তিনি বলেন, আমরা কলেজ কর্তৃপক্ষ, কিশোর আলো কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ পুলিশ এবং মৃ’তের বাবা-মা; আমরা সবাই একসঙ্গে বসেছিলাম।আমরা একটা বিষয়ে একমত হয়েছি, এর জন্য কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে দায়ী না করে এটাকে মর্মান্তিক দু’র্ঘটনা হিসেবে মেনে নিয়ে পো’স্টম’র্টেম ছাড়া লা’শ নিয়ে এসেছি।

প্রসঙ্গত দৈনিক প্রথম আলোর সাময়িকী কিশোর আলোর আনন্দ আয়োজনে বি’দ্যুৎস্পর্শে ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজের নবম শ্রেণির ছাত্র নাইমুল আবরার নি’হত হয়েছে।শুক্রবার ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজের মাঠে কিশোরদের মাসিক পত্রিকা কিশোর আলোর বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানে এসেছিল আবরার।সেখানে বিকালে অনুষ্ঠান চলাকালে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে গুরুতর আ’হত হয় সে।পরে ওই মাঠে স্থাপিত জরুরি মেডিকেল ক্যাম্পের দুজন বিশেষজ্ঞ (এফসিপিএস) চিকিৎসক নাইমুলকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন।এরপর তাকে মহাখালীর বেসরকারি ইউনিভার্সেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক আবরারকে মৃ’ত ঘোষণা করেন।

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সর্বশেষ আপডেট

  • 181
    Shares
advertisement