প্রচ্ছদ জাতীয় ঢাকা কেন্দ্রীয় কা’রাগারে প্রথমে গু’লি এবং পরে বে’য়নেট দিয়ে খুঁ’চিয়ে হ’ত্যা করা...

ঢাকা কেন্দ্রীয় কা’রাগারে প্রথমে গু’লি এবং পরে বে’য়নেট দিয়ে খুঁ’চিয়ে হ’ত্যা করা হয়

79
পড়া যাবে: 6 মিনিটে
advertisement

আজ ৩ নভেম্বর জে’লহ’ত্যা দিবস। মানব সভ্যতার ইতিহাসে কলঙ্কময়, র’ক্তঝ’রা ও বেদনাবিধুর একটি দিন। পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হ’ত্যার পর দ্বিতীয় ক’লঙ্কজনক অধ্যায় রচিত হয় দিনটিতে। মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম বীর সেনানী ও চার জাতীয় নেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, এএইচএম কামরুজ্জামান এবং ক্যাপ্টেন মনসুর আলীকে এ দিনে ঢাকা কেন্দ্রীয় কা’রাগারের অভ্যন্তরে নি’র্মমভা’বে হ’ত্যা করা হয়।

advertisement

একাত্তরের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের শত্রুরা সেদিন দেশমাতৃকার সেরা সন্তান জাতীয় এই চার নেতাকে শুধু গু’লি চালিয়েই ক্ষান্ত হয়নি, কাপুরুষের মতো গু’লি’বিদ্ধ দেহকে বেয়নেট দিয়ে খুঁ’চিয়ে ক্ষত-বিক্ষত করে একাত্তরের পরাজয়ের জ্বালা মিটিয়েছিল। প্রগতি-সমৃদ্ধির অগ্রগতি থেকে বাঙালিকে পিছিয়ে দিয়েছিল। ইতিহাসের এই নিষ্ঠুর হ’ত্যায’জ্ঞের ঘটনায় শুধু বাংলাদেশের মানুষই নয়, স্তম্ভিত হয়েছিল সমগ্র বিশ্ব। কা’রাগারে’র নিরাপদ আশ্রয়ে থাকা অবস্থায় বর্বরোচিত এ ধরনের হ’ত্যাকা- পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল। জাতি আজ মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম বীর সেনানী ও চার জাতীয় নেতাকে যথাযথ শ্রদ্ধা প্রদর্শনের মাধ্যমে দেশের ইতিহাসের অন্যতম ব’র্বরোচিত এই কালো অধ্যায়টিকে স্মরণ করবে। দিবসটি উপলক্ষে শনিবার রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী পৃথক বাণী দিয়েছেন।

আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন ও দল সংগঠনের উদ্যোগে সারাদেশে পালিত হবে শোকাবহ এই দিবস। আওয়ামী লীগের কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে সকাল ৬টায় বঙ্গবন্ধু ভবন ও দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ দেশের সর্বত্র দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ, কালো পতাকা উত্তোলন এবং কালো ব্যাজ ধারণ। সকাল ৭টায় বঙ্গবন্ধু ভবনে জমায়েত এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ এবং সকাল ৮টায় বনানী কবরস্থানে জাতীয় চার নেতার কবরে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ, ফাতেহা পাঠ, মিলাদ মাহফিল ও মোনাজাত। একই ভাবে রাজশাহীতে জাতীয় নেতা কামরুজ্জামানের কবরে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ, ফাতেহা পাঠ, মিলাদ মাহফিল ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়াও এ দিন বিকাল ৩টায় রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে (খামারবাড়ি, ফার্মগেট) আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। স্মরণসভায় সভাপতিত্ব করবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বঙ্গবন্ধুর মন্ত্রিসভার সবচেয়ে ঘৃ’ণিত বি’শ্বাসঘাত’ক সদস্য হিসেবে পরিচিত এবং তৎকালীন স্বঘোষিত রাষ্ট্রপতি খন্দকার মোশতাক আহমদ এবং বঙ্গবন্ধুর দুই খু’নি কর্নেল (অব.) সৈয়দ ফারুক রহমান এবং লে. কর্নেল (অব.) খন্দকার আব্দুর রশীদ জে’লখানা’য় জাতীয় চার নেতাকে হ’ত্যার এ পরিকল্পনা করেন। এ কাজের জন্য তারা আগে ভাগে একটি ঘা’তক দলও গঠন করে। এ দলের প্রধান ছিলেন রিসালদার মুসলেহ উদ্দিন। তিনি ছিলেন ফারুকের সবচেয়ে আস্থাভাজন অফিসার। ১৫ আগস্ট শেখ মনির বাসভবনে যে ঘা’তক দলটি হ’ত্যায’ঞ্জ চালায় সেই দলটির নেতৃত্ব দিয়েছিল মুসলেহ উদ্দিন। দক্ষিণ এশিয়ার প্রখ্যাত সাংবাদিক অ্যান্থনি মাসকারেনহাস তার ‘বাংলাদেশ অ্যা লিগ্যাসি অব ব্লা’ড’ গ্রন্থে এ বিষয়ে বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন।

তিনি জানান, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হ’ত্যার পরপর জে’লখানা’য় জাতীয় চার নেতাকে হ’ত্যার পরিকল্পনা করা হয়। পরিকল্পনাটি এমনভাবে করা হয়েছিল পাল্টা অ’ভ্যুত্থান ঘটার সাথে সাথে যাতে আপনাআপনি এটি কার্যকর হয়। আর এ কাজের জন্য পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট একটি ঘা’তক দলও গঠন করা হয়। এই ঘা’তক দলের প্রতি নির্দেশ ছিল পাল্টা অ’ভ্যুত্থান ঘটার সাথে সাথে কোনো নির্দেশের অপেক্ষায় না থেকে কেন্দ্রীয় কা’রাগা’রে গিয়ে তারা জাতীয় চার নেতাকে হ’ত্যা করবে। পচাঁত্তরের ৩ নভেম্বর খালেদ মোশাররফ পাল্টা অ’ভ্যুত্থান ঘটানোর পরই কেন্দ্রীয় কা’রাগারে এই জাতীয় চার নেতাকে হ’ত্যা করা হয়।

জে’লহ’ত্যার পরদিন তৎকালীন উপ-কারা মহাপরিদর্শক (ডিআইজি প্রিজন) কাজী আবদুল আউয়াল লালবাগ থানায় একটি হ’ত্যামা’মলা করেন। তবে দীর্ঘ ২১ বছর এ বিচার প্রক্রিয়াকে ধা’মাচাপা দিয়ে রাখা হয়। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে মামলাটি পুনরুজ্জীবিত করার প্রক্রিয়া শুরু করে। ২০০৪ সালের ২০ অক্টোবর ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. মতিউর রহমান মা’মলায় রায় দেন। রায়ে রিসালদার মোসলেম উদ্দিন (পলাতক), দফাদার মারফত আলী শাহ (পলাতক) ও এল ডি (দফাদার) আবুল হাসেম মৃধাকে (পলাতক) মৃ’ত্যুদ- দেওয়া হয়। এছাড়া বঙ্গবন্ধু হ’ত্যা মা’মলায় মৃ’ত্যুদ’ন্ডপ্রাপ্ত চার আ’সামি সেনা কর্মকর্তা সৈয়দ ফারুক রহমান, সুলতান শাহরিয়ার রশিদ খান, বজলুল হুদা ও একেএম মহিউদ্দিন আহমেদসহ ১২ জনকে যা’বজ্জীবন কা’রাদন্’ড দেওয়া হয়। সাবেক মন্ত্রী কে এম ওবায়দুর রহমান, শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন, নুরুল ইসলাম মঞ্জুর ও তাহেরউদ্দিন ঠাকুরকে খালাস দেওয়া হয়। ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল হলে হাইকোর্ট ২০০৮ সালে দেওয়া রায়ে মোসলেমের মৃ’ত্যুদ- বহাল রাখেন। তবে মৃ’ত্যুদ’ন্ডপ্’রাপ্ত দুই আ’সামি মারফত আলী ও হাসেম মৃধাকে খালাস পান। পরবর্তী সময়ে আপিল বিভাগ মারফত আলী শাহ ও আবুল হাসেম মৃধার মৃ’ত্যুদ- বহাল রাখেন।

রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী : রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অসমাপ্ত কাজ বাস্তবায়নে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে অবদান রাখার আহবান জানিয়েছেন। এ আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, এটাই হোক জে’লহ’ত্যা দিবসে জাতির অঙ্গীকার। চার নেতা হ’ত্যার ঘটনা তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, গভীর শ্রদ্ধার সাথে তাদের স্মরণ করছি।

এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, কা’রাগারে’র নি’র্জন প্রকোষ্ঠে জাতীয় চার নেতার হ’ত্যাকা- ছিল জাতির পিতাকে সপরিবারে হ’ত্যার ধারাবাহিকতা। এ ঘৃণ্য হ’ত্যাকা-ের মাধ্যমে স্বাধীনতার পরাজিত শক্তি, দেশবিরোধী চক্র বাংলার মাটি থেকে আওয়ামী লীগের নাম চিরতরে মুছে ফেলে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধ্বংস এবং বাঙালি জাতিকে নেতৃত্বশূন্য করার অপচেষ্টা চালিয়েছিল।

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সর্বশেষ আপডেট

  • 110
    Shares
advertisement