প্রচ্ছদ বিএনপি খোকার মৃ’ত্যুর পর প্রশ্ন উঠেছে এখন বিএনপির হাল ধরবেন কে?

খোকার মৃ’ত্যুর পর প্রশ্ন উঠেছে এখন বিএনপির হাল ধরবেন কে?

101
পড়া যাবে: 4 মিনিটে
advertisement

সাদেক হোসেন খোকার মৃ’ত্যুর পর ঢাকায় বিএনপিতে নেতৃত্বের শূন্যতা দেখা দিয়েছে। খোকা অসুস্থ থাকলেও ঢাকার নিয়ন্ত্রণ ছিল তার হাতে। শুধুমাত্র বিএনপি নয়, আওয়ামী লীগের একটি অংশ, আন্ডার ওয়ার্ল্ডসহ ঢাকার একক নেতাই ছিলেন সাদেক হোসেন খোকা। মেয়র মোহাম্মদ হানিফের মৃ’ত্যুর পর সাদেক হোসেন খোকার হাতে ঢাকার নেতৃত্ব চলে আসে। খোকা যে শুধু বিএনপির নেতা ছিলেন, তাই নয়। ঢাকার অপরাধ জগৎকে নিয়ন্ত্রণ করতেন তিনি। ক্রীড়া জগতেও তার বেশ প্রভাব ছিল। ঢাকার ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন মহলের সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল। কিন্তু সাদেক হোসেন খোকা প্রথমেই বিএনপিতে ঢাকার নেতৃত্ব পাননি। ঢাকায় বিএনপিতে প্রথম নেতৃত্ব পেয়েছিলেন মির্জা আব্বাস। এই মির্জা আব্বাসকে ঢাকার মেয়র করেছিলেন বেগম খালেদা জিয়া। কিন্তু মির্জা আব্বাস বিভিন্ন কারণে বিতর্কিত হন বলে আর জনপ্রিয়তা ধরে রাখতে পারেননি। তাই এসময় সাদেক হোসেন খোকার উত্থান ঘটে।

advertisement

একসময় ন্যাপ-ভাসানীর সঙ্গে যুক্ত থাকলেও সাদেক হোসেন খোকা মুক্তিযোদ্ধা এবং ক্রীড়া সংগঠক হিসেবে জনপ্রিয় ছিলেন। তিনি শুধু বিএনপিকেই সংগঠিত করেননি, অন্যান্য দলগুলোর সঙ্গেও তার সম্পর্ক ছিল। ক্রীড়া সংগঠক হওয়ার কারণে মতিঝিলের ক্রীড়া পাড়া তার নিয়ন্ত্রণে ছিল। এ কারণেই সাদেক হোসেন খোকার একটা প্রভাব বলয় ছিল। অনেকেই মনে করেন যে, ২০১৩, ২০১৪ এবং ২০১৫ তে বিএনপি যে আ’ন্দোলন গড়ে তুলেছিল, সেই আন্দোলন সারাদেশে ছড়িয়ে পড়লেও ঢাকায় সেই আন্দোলন বিস্তৃত হয়নি। ঢাকা দখল করতে না পারার কারণেই বিএনপির সেই আন্দোলন ব্যর্থ হয়েছিল।

আরও পড়ুন:  সাদেক হোসেন খোকাকে নিয়ে যা বললেন প্রধানমন্ত্রী

সাদেক হোসেন খোকা সেসময় নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছিলেন। কিন্তু নিজেকে গুটিয়ে নিলেও খোকার ইঙ্গিত এবং ইশারাতেই বিএনপি পরিচালিত হতো এবং বিএনপিতে ঢাকার যে কর্মীবাহিনী- তা মূলত খোকারই কর্মীবাহিনী। এখন খোকার মৃ’ত্যুর পর প্রশ্ন উঠেছে যে, এখন বিএনপির হাল ধরবেন কে। মির্জা আব্বাসকে নিয়ে ভাবা হলেও মির্জা আব্বাসের সঙ্গে বর্তমান বিএনপির ঢাকাভিত্তিক কর্মীদের কোনো যোগসূত্র নেই। তাবিথ আউয়াল ঢাকা উত্তরে দীর্ঘদিন ধরেই কাজ করছেন। কিন্তু ঢাকা উত্তরে তার কাজ সীমাবদ্ধ এবং তার অনুসারী, সমর্থক সবাই ব্যবসা এবং নোয়াখালী কেন্দ্রিক। তাকে অনেকে আবার ঢাকার মানুষ হিসেবে স্বীকারই করেন না।

কাজেই হাবিব-উন নবী সোহেলকে ঢাকায় নিয়ে আসা হয়েছিল এবং ঢাকা মহানগরের কিছুটা দায়িত্বও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সোহেল কখনো ঢাকার সন্তান হিসেবে পরিচিত নন। বরং সোহেলের মূল এলাকা রংপুর বলেই মনে করা হয়। কাজেই হাবিব-উন নবী সোহেলের ঢাকার নেতৃত্ব গ্রহণ করার কোনো সম্ভবনা নেই। এ রকম পরিস্থিতিতে বিএনপি ঢাকায় নেতৃত্ব শূন্য হয়ে পড়েছে। সাদেক হোসেন খোকার ছেলে ইশরাক হোসেন গত নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন চেয়েছিলেন কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাকে বিএনপির মনোনয়ন দেওয়া হয়নি। কিন্তু খোকার যে জনপ্রিয়তা সেই জনপ্রিয়তার ধারে কাছেও খোকার পুত্রের জনপ্রিয়তা নেই। তবে বিএনপির অনেকেই মনে করছেন যে আগামী জানুয়ারিতে যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে সেই নির্বাচনে সাদেক হোসেন খোকার আবেগকে কাজে লাগিয়ে তার পুত্রও নির্বাচনে ভালো করতে পারে। তবে নির্বাচন আর নেতা হওয়ার এক বিষয় নয়।

আরও পড়ুন:  খোকার মৃ’ত্যুর সংবাদ শুনে কান্নায় ভেঙ্গে পড়লেন খালেদা জিয়া

সাদেক হোসেন খোকার পর দীর্ঘ দিন ঢাকায় কোনো একক নেতৃত্ব নেই। নেতৃত্ব না থাকার ফলে এবং সাদেক হোসেন খোকার মৃ’ত্যুর কারণে ঢাকায় বিএনপি এখন বহুধা বিভক্ত হয়ে পড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কারণ একদিকে তাবিথ আউয়াল যেমন ঢাকার নেতৃত্ব দখল করতে চাইবেন তেমনি মির্জা আব্বাস ও তার স্ত্রী ঢাকায় তাদের প্রভাব বলয় অক্ষুন্ন রাখতে চাইবেন। সাদেক হোসেক খোকার ছেলেও এই দুয়ারে পিছিয়ে থাকবেন না। আর এই ত্রিমুখী প্রতিযোগীয় শেষ পর্যন্ত ঢাকায় বিএনপির মধ্যে কোন্দল মত-বিরোধ আরো বাড়বে বলেই মনে করছে বিএনপির নীতি নির্ধারকরা। আর এরফলে খোকার মৃ’ত্যুতে ঢাকার রাজনীতি একটা সংকটের মধ্যে পড়ল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সর্বশেষ আপডেট

  • 17
    Shares
advertisement