প্রচ্ছদ আওয়ামী লীগ বর্তমান কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদে যারা আছেন তাদের থেকেই আসবে কৃষক লীগের শীর্ষ...

বর্তমান কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদে যারা আছেন তাদের থেকেই আসবে কৃষক লীগের শীর্ষ নেতৃত্ব

142
পড়া যাবে: 6 মিনিটে
advertisement

কৃষক লীগের জাতীয় সম্মেলন আগামীকাল ৬ নভেম্বর। কৃষকদের কল্যাণে কাজ করবে এমন নেতৃত্বের হাতে দায়িত্ব তুলে দিবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা- এমন প্রত্যাশা করছেন দলটির নেতাকর্মীরা। কৃষক লীগকে আরও গতিশীল করতে সংগঠনে কৃষিবিদের পাশাপাশি এবার কৃষিবিজ্ঞানীদেরও বিভিন্ন পদে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। বাইরে থেকে নেতা নয়, বর্তমান কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকেই কৃষক লীগের শীর্ষ নেতৃত্ব আসবে বলে দায়িত্বশীল একাধিক সূত্রে জানা গেছে।

advertisement

গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তিন বছর পরপর হওয়ার কথা থাকলেও এবার সাত বছরেরও বেশি সময় পর কৃষক লীগের জাতীয় সম্মেলন হচ্ছে। ফলে পদপ্রত্যাশীদের মধ্যে আগ্রহ ও উৎসাহ-উদ্দীপনা বেশি। বিশেষ করে শীর্ষ দুই পদ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হতে নিজ নিজ পক্ষে জোর লবিং-তদবিরে ব্যস্ত সময় পার করছেন আগ্রহীরা। শেষ বেলায় ধরনা দিচ্ছেন মূল দল আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা-মন্ত্রীদের কাছে। সমর্থকদের নিয়ে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে শোডাউনও করেছেন কেউ কেউ।

এদিকে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদের জন্য সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে প্রায় দেড় ডজন নেতার নাম শোনা যাচ্ছে। বর্তমান সভাপতি মোতাহার হোসেন মোল্লা স্বপদে থাকতে ইচ্ছুক।বর্তমান কমিটির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট খন্দকার শামসুল হক রেজা এবার সভাপতি পদের শক্তিশালী দাবিদার। এ ছাড়া সভাপতি পদে আলোচনায় রয়েছেন কৃষক লীগের বর্তমান কমিটির সহসভাপতি খান আলতাফ হোসেন ভুলু, কৃষিবিদ বদিউজ্জামান বাদশা। অন্যদিকে সাধারণ সম্পাদক পদের জন্য আলোচনায় রয়েছেন সংগঠনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কৃষিবিদ সমীর চন্দ। এ ছাড়া সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুজ্জামান বিপ্লব, বিশ্বনাথ সরকার বিটু, আবুল হোসেনও রয়েছেন আলোচনায়।

এদিকে জাতীয় সম্মেলনে কাউন্সিলরদের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় কমিটি গঠিত হওয়ার কথা থাকলেও নেতৃত্ব নির্বাচনের ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ইচ্ছাই প্রাধান্য পাবে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদ দুটিতে স্বচ্ছ ভাবমূর্তির আস্থাভাজন ত্যাগী ও দক্ষ নেতাদের নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।

আরও পড়ুন:  বঙ্গবন্ধুর সৈনিক হতে হলে মানুষের জন্য কাজ করতে হবে

গঠনতন্ত্রে সংশোধনী আসছে

কৃষক লীগের বর্তমান কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য সংখ্যা ১১১। এটা সংশোধন করে খসড়ায় ১৫১ জন করার প্রস্তাব করা হয়েছে। সহসভাপতি ১৬ জন থেকে বাড়িয়ে ২১ জন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ৩ জন থেকে ৫ জন ও সাংগঠনিক সম্পাদক ৭ জন থেকে বাড়িয়ে ৯ জন করার প্রস্তাব রয়েছে। এ ছাড়া নতুন যুক্ত হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক, ক্রীড়া ও যুববিষয়ক সম্পাদক, কৃষিশিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক, কৃষি উপকরণবিষয়ক সম্পাদক, কৃষিপণ্য পরিবহনবিষয়ক সম্পাদক পদ। আগের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ১০টি বিভাগীয় সম্পাদকম-লীর সঙ্গে একটি করে সহসম্পাদকের পদ ছাড়াও সকল বিভাগীয় সম্পাদকের সঙ্গে সহসম্পাদক রাখার প্রস্তাব করা হচ্ছে।

জেলা-উপজেলা কমিটির আকারও বৃদ্ধির প্রস্তাব দেবে গঠনতন্ত্র উপকমিটি। বর্তমান জেলা কমিটি ৮১ জনবিশিষ্ট, যা ৯১ সদস্যবিশিষ্ট করার প্রস্তাব থাকছে। উপজেলা কমিটি ৭১ জনের স্থলে ৮১ জনের প্রস্তাব রয়েছে। পাশাপাশি ইউনিয়ন বা সমমর্যাদার কমিটি ৬১ থেকে বাড়িয়ে ৭১ আর ওয়ার্ড কমিটির ৫১ থেকে বাড়িয়ে ৬১ করার প্রস্তাব রাখা হচ্ছে।

এ ছাড়া এবার কয়েকটি সম্পাদকীয় পদের নামের সংশোধনী আনার প্রস্তাব করা হচ্ছে। সমবায় সম্পাদকের স্থলে কৃষি সমবায় সম্পাদক, কুটির শিল্পের স্থলে কৃষি-শিল্প ও বাণিজ্য, মৎস্য ও পশুর স্থলে মৎস্য ও প্রাণী, কৃষিবিজ্ঞান ও প্রযুক্তির স্থলে কৃষিবিজ্ঞান ও আইটিবিষয়ক সম্পাদক, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদকের স্থলে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক করার প্রস্তাব করা হচ্ছে।

কৃষক লীগকে গণমুখী ও গতিশীল করতে গঠনতন্ত্র সংশোধন করা হচ্ছে বলে সংগঠনটির কয়েকজন নেতা জানিয়েছেন। তাদের মতে, এটা সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত। এদিকে দেশের বাইরে কৃষক লীগের কমিটি দেওয়া নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। তাই বিদেশে কমিটি দেওয়ার ক্ষেত্রে কঠোরতা আনা হচ্ছে গঠনতন্ত্রে।

আরও পড়ুন:  শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা ও আবাসিক হলে কারা থাকছে, কারা মা*স্তানি করছে তা খতিয়ে দেখা হবে

কৃষকের বাড়ির আদলে মঞ্চ

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, স্বাধীনতার স্মৃতিস্তম্ভসংলগ্ন লেকের পূর্ব দিকের উত্তর পাশে দক্ষিণমুখী করে ৯০ ফুট বাই ৩০ ফুট মূল মঞ্চের সামনের ৯ ফুট বাই ৪২ ফুট দৈর্ঘ্যরে আরেকটি মঞ্চ করা হচ্ছে। মঞ্চের ডানপাশে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং বাম পাশে সাংবাদিকের জন্য ৪২ ফুট বাই ২৭ ফুটের আলাদা দুটি মঞ্চ হচ্ছে। মঞ্চের সামনে থাকবে অতিথিদের বসার জায়গা। এর পরই থাকবে আগত কাউন্সিলর ও ডেলিগেটদের স্থান। সেখানে ২০ হাজার পর্যন্ত চেয়ার বসানোর জায়গা থাকবে। মঞ্চ তৈরির তদারকির দায়িত্বে থাকা মোজাম্মেল হক জানান, ৮ অক্টোবর থেকে মঞ্চ তৈরির কাজ চলছে। দিনে ৭৫-৮০ জন শ্রমিক কাজ করছেন। মঞ্চ এখন প্রস্তুত।

জানা গেছে, কৃষক লীগের সম্মেলনের মঞ্চ দেখে মনে হবে কৃষকের বাড়ি। থাকবে ছোট ঘরের উঠানে সবজি গাছ, কৃষক ও কৃষি কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত সব জিনিস। মূল মঞ্চের পাশে ‘একটি বাড়ি একটি খামার’ প্রকল্পের আদলে থাকবে একটি বাড়ি। এ ছাড়া সবজির বাজারে থাকবে বিভিন্ন ধরনের কৃষিপণ্যের পসরা, দেখে মনে হবে সামনের অতিথিরাই তাদের ক্রেতা। মঞ্চের ডানপাশে কৃষকদের নিয়ে রচিত গান বাজবে। জানতে চাইলে কৃষক লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কৃষিবিদ সমীর চন্দ্র বলেন, এমনভাবে মঞ্চ সাজাতে চাই, যেন মনে হয় নেত্রী (শেখ হাসিনা) কৃষকের কাচারি ঘরে প্রবেশ করে কৃষক সমাবেশ করছেন।

দেশে কৃষির উন্নয়ন এবং কৃষকের স্বার্থরক্ষার জন্য জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ সালের ১৯ এপ্রিল বাংলাদেশ কৃষক লীগ প্রতিষ্ঠা করেন। সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সম্মেলন হয় সর্বশেষ ২০১২ সালের ১৯ জুলাই।

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সর্বশেষ আপডেট

  • 1.6K
    Shares
advertisement