প্রচ্ছদ আওয়ামী লীগ কৃষক লীগের সম্মেলন, নেতৃত্বে নতুন মুখ

কৃষক লীগের সম্মেলন, নেতৃত্বে নতুন মুখ

105
পড়া যাবে: 7 মিনিটে
advertisement

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাতেগড়া আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন কৃষক লীগের ১০ম জাতীয় সম্মেলন আজ। রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বুধবার (৬ নভেম্বর) সকালে কৃষক লীগের সম্মেলনের প্রথম অধিবেশনের উদ্বোধন করবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পরে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে কাউন্সিল অধিবেশনে নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি নির্বাচন করা হবে।কৃষক লীগের শীর্ষ নেতৃত্বে এবার বড় পরিবর্তন আসছে।

advertisement

এ সম্মেলনে বাদ পড়তে যাচ্ছেন বর্তমান সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। তাঁদের বিরুদ্ধে রয়েছে কমিটি বাণিজ্যের অভিযোগ। তাই বিতর্কিতদের বাদ দিয়ে এবার কৃষিবিদদের হাতে এই সংগঠনের নেতৃত্ব তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে কৃষিবিদদের দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টি সক্রিয় বিবেচনা করছে আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড। আওয়ামী লীগ ও কৃষক লীগের শীর্ষ পর্যায়ের একাধিক নেতা এ তথ্য জানিয়েছেন।

১৯৭২ সালের ১৯ এপ্রিল দেশের অর্থনৈতিক মুক্তির কার্যক্রমে কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নে কাজ করতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষক লীগ প্রতিষ্ঠা করেন। এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন ১৫ আগস্টে শহীদ কৃষক নেতা আবদুর রব সেরনিয়াবাত। কৃষক লীগের সর্বশেষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় ২০১২ সালের ১৯ জুলাই। সম্মেলনের মাধ্যমে মোতাহার হোসেন মোল্লাকে সভাপতি ও শামসুল হক রেজাকে সাধারণ সম্পাদক করে ১১১ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি ঘোষণা করা হয়।

সরেজমিন দেখা গেছে, সম্মেলনের স্থলে ৯০ ফুট দীর্ঘ ও ৩০ ফুট প্রস্থ সেমিপাকা ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। মূলত কৃষকের কাচারি ঘরের আদলেই তৈরি করা হয়েছে এই মঞ্চ। মঞ্চের পাশে রাখা হয়েছে ‘আমার বাড়ি-আমার খামার’র একটি মডেল। এতে দেখা যাচ্ছে, কৃষক তার উৎপাদিত ফসল বাজারে বিক্রি করছেন এমন দৃশ্য।

সম্মেলনের সার্বিক প্রস্তুতি বিষয়ে কৃষকলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাখোওয়াত হোসেন সুইট গণমাধ্যমকে জানান, কৃষক লীগের জাতীয় সম্মেলনকে সফল করতে সব ধরনের প্রস্তুতি প্রায় শেষ হয়েছে। রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এই সম্মেলনকে ঘিরে এখন সাজ সাজ রব বিরাজ করছে। মূলমঞ্চ নির্মাণ করা হচ্ছে কৃষকের কাচারি ঘরের আদলে। তিনি বলেন, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের যে স্থানে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গাড়ি থেকে নেমে মঞ্চে আসবেন, সে প্রবেশ পথ তৈরি করা হয়েছে সবুজ ঘাসে। রাস্তার চারপাশে লাগানো হয়েছে বাঁশবাগান, ফলদি ও ঔষধি গাছ।

আরও পড়ুন:  ছাত্রলীগের ব্যাকগ্রাউন্ড না থাকলে সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ নেতৃত্বে বসানো হবে না

এ সম্মেলনকে ঘিরে সংগঠনটির নেতাকর্মীদের মধ্যে বিরাজ করছে সাজ সাজ রব, আর উৎসবের আমেজ। সেই সঙ্গে কৌতূহলের পারদ বাড়ছে- কারা আসছেন শীর্ষ নেতৃত্বে। জানা গেছে, বাড়তে যাচ্ছে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির কলেবর। একইসঙ্গে গঠনতন্ত্রের বেশ কিছু সংশোধনী আসতে পারে। প্রায় এক ডজন নেতাকর্মী সংগঠনের কেন্দ্রীয় সম্মেলনকে ঘিরে এরইমধ্যে সক্রিয় থেকেছেন।

কৃষক লীগের শীর্ষ দুই পদের জন্য আলোচনায় রয়েছেন সংগঠনের বর্তমান কমিটির কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ওমর ফারুক, সহ-সভাপতি শরীফ আশরাফ হোসেন, সহ-সভাপতি কৃষিবিদ বদিউজ্জামান বাদশা, সহ-সভাপতি শেখ মো. জাহাঙ্গীর আলম। সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সমীর চন্দ্র, সাংগঠনিক সম্পাদক সাবেক ছাত্রলীগ নেতা বিশ্বনাথ সরকার বিটু, কৃষিবিদ সাখাওয়াত হোসেন সুইট, আসাদুজ্জামান বিপ্লব, আবুল হোসেন, গাজী জসিম উদ্দিন, কাজী জসিম, আতিকুল হক আতিক।

তবে আওয়ামী লীগের নেতারা জানিয়েছেন, জাতীয় সম্মেলনে কাউন্সিলরদের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় কমিটি গঠিত হওয়ার কথা থাকলেও নেতৃত্ব নির্বাচনের ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ইচ্ছাই প্রাধান্য পাবে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদ দু’টিতে শেখ হাসিনার আস্থাভাজন ত্যাগী ও দক্ষ নেতাদের কারও নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।

সম্মেলনের সার্বিক প্রস্তুতি শেষ জানিয়ে কৃষক লীগের সভাপতি মোতাহার হোসেন মোল্লা এবং সাধারণ সম্পাদক শামসুল হক রেজা বলেন, কৃষি ও কৃষক সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোকে প্রধান্য দিয়ে সাজানো হয়েছে এবারের সম্মেলন। সম্মেলনের পরতে পরতে কৃষি আবহ থাকবে। ‘আমার বাড়ি আমার খামার’ স্লোগানকে সামনে রেখে সম্মেলনের কার্যক্রম শুরু হবে সকাল ১১টা থেকে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কৃষক লীগকে খুব ভালবাসেন, এজন্য কৃষক লীগের সম্মেলন আগে দিয়েছেন। আমরা তার এই আস্থার প্রতিদান দিতে চাই। আশা করি খুব জমকালো একটি সম্মেলন হবে। যারা আগামীতে কৃষক লীগের নেতৃত্বে আসবেন তারা কৃষি ও কৃষকদের উন্নয়নের মাধ্যমে সংগঠনকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন।

আরও পড়ুন:  যুবলীগসহ আ’লীগের চার সংগঠনের সম্মেলনের তারিখ ঘোষণা

সম্মেলন নিয়ে কৃষক লীগ নেতা বদিউজ্জামান বাদশা বলেন, কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নের কাজ করবে কৃষক লীগ। কৃষক লীগ নিয়ে বঙ্গবন্ধু যে স্বপ্ন দেখতেন, নেত্রী যেভাবে দেখতে চান, আগামীতে যারা নেতৃত্বে আসবেন তারা সেভাবেই পরিচালিত করবেন সংগঠনটিকে। নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে আমরা কৃষক লীগের ভাবমূর্তি সেই ধারায় নিয়ে যেতে চাই। কৃষক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা বিশ্বনাথ সরকার বিটু বলেন, বাংলাদেশ কৃষক লীগের নেতাকর্মীরা বিশ্বাস করেন প্রধানমন্ত্রী সংগঠনের দায়িত্ব যাদের দেবেন তারা সৎ ও ক্লিন ইমেজের হবে। তাদের নেতৃত্বেই সারা বাংলাদেশের কৃষকদের সুসংগঠিত করা হবে। জাতির জনকের হাতে গড়া এই সংগঠন আমরা এমন কিছু করে দেখাব যাতে প্রধানমন্ত্রী মাথা উঁচু করে বলতে পারেন- বাংলাদেশ কৃষক লীগ এদেশের কৃষকের জন্য কাজ করে। সরকারের উন্নয়নের সহযোগী হিসেবে কাজ করে।

সম্মেলন সময়মতো হওয়ার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করে কৃষিবিদ সাখাওয়াত হোসেন সুইট বলেন, নতুন নেতৃত্ব বিকাশের জন্য এই চর্চা অব্যাহত রাখতে হবে। ৮ বছর নয়, আমরা চাই প্রতি ৩ বছর পরপরই সম্মেলন হবে। জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও কৃষিবিদ বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, কৃষক লীগের কৃষিবান্ধব, সততা, পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির নেতৃত্ব বাছাই করবেন নেত্রী। এই বিষয়ে আমাদের দল জিরো টলারেন্স নীতিতে আছেন। আপনারা জানেন যে, দলের মধ্যেই আমরা শুদ্ধি অভিযান চালাচ্ছি। সুতরাং আগামীর নেতৃত্ব কেমন আসতে যাচ্ছে তা অনুমেয়। বিভিন্ন কারণে অনেক সময়ে সম্মেলন নিয়মিত করা হয়ে ওঠে না। তবে প্রতিকূলতা থাকলেও সময়মতো সম্মেলনগুলো করা উচিত।

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সর্বশেষ আপডেট

  • 199
    Shares
advertisement