প্রচ্ছদ রাজধানী টিকাটুলির মূ’র্তিমা’ন আ’তঙ্ক মঞ্জু রাজধানী সুপার মার্কেট থেকেই চাঁ’দা নিতেন ৮ কোটি

টিকাটুলির মূ’র্তিমা’ন আ’তঙ্ক মঞ্জু রাজধানী সুপার মার্কেট থেকেই চাঁ’দা নিতেন ৮ কোটি

250
পড়া যাবে: 4 মিনিটে
advertisement

টিকাটুলির এক মার্কেট থেকেই অন্তত আট কোটি টাকা চাঁ’দা নিয়েছেন কাউন্সিলর মইনুল হক মঞ্জু। চাঁ’দাবা’জির মা’মলায় গ্রে’প্তারের পর জি’জ্ঞাসাবা’দে তিনি তার চাঁ’দাবা’জি ও দ’খলদা’রির নানা তথ্য দিয়েছেন। জানিয়েছেন, শুধু রাজধানী সুপার মার্কেট থেকেই গত ৯ বছরে অন্তত আট কোটি টাকা চাঁ’দা তুলেছেন। চাঁ’দা না দিলে তার ক্যা’ডার বাহিনী দিয়ে দোকানিকে তার কার্যালয়ে তুলে নিয়ে যেতেন। সেখানে নি’র্যাতন করে চাঁ’দা দিতে বাধ্য করা হতো। রাজধানী সুপার মার্কেটে মোট ১৭৮৮ টি দোকান আছে। প্রত্যেক দোকানে তার লোকজন মাসিক ৯৫০ টাকা চাঁদা তুলতো। এই টাকার একটা অংশ কমিশনারকে নজরানা দেয়া হতো বলে তিনি রি’মান্ডে শি’কার করেছেন। এছাড়াও টিকাটুলি ভোলানন্দ্রগিরি আশ্রমের যে তিনবিঘা জমি ও পুকুর দ’খল করেছেন সেই দ’খলে ঢাকা মহনগর দক্ষিন আওয়ামী লীগের এক শীর্ষ নেতার মদত ছিল বলে তিনি প্রাথমিক জি’জ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন। ওই নেতার বাড়ি বরিশাল অঞ্চলে।

advertisement

মঞ্জু গ্রে’প্তার হওয়ার পর তার সব ক্যা’ডার বাহিনী লা’পাত্তা হয়ে গেছে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী তাদের খুঁজছে। এছাড়াও রি’মান্ডে মঞ্জু তার কাছে থাকা আরও ১ টি একে-২২ এবং ২ টি রিভলবার থাকার কথা স্বীকার করেছেন। সেগুলো তার ক্যা’ডার বাহিনীর কাছে রয়েছে। ওই অ’স্ত্রগুলো উ’দ্ধারের জন্য চেষ্টা চালাচ্ছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। গত শুক্রবার ওয়ারী থানার এসআই হারুন-অর-রশিদ কাউন্সিলর মঞ্জুকে অ’স্ত্র ও মা’দক মা’মলায় আদালতে হাজির করে রি’মান্ডের আবেদন করেন। এসময় উভয় পক্ষের শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম ধীমান চন্দ্র মন্ডল তাকে ১০ দিনের রি’মান্ডে’র আদেশ দেন। গতকাল তার রি’মান্ডের পঞ্চম দিন অতিবাহিত হয়েছে। তিনি এখন ওয়ারি থানা হা’জতে রয়েছেন। সূত্র জানায়, মঞ্জুকে গ্রে’প্তার করার পর র‌্যাবের কর্মকর্তারা তাকে তার কর্মকাণ্ড সম্পর্কে বিস্তারিত জি’জ্ঞাসাবা’দ করেছেন। এ বিষয়ে র‌্যাব-৩ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল শাফিউল্লাহ বুলবুল গতকাল জানান, মঞ্জুকে আমরা গ্রে’প্তারের পর পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছি। তাকে আমরা প্রাথমিভাবে জি’জ্ঞাসাবাদ করেছি। প্রয়োজনে তাকে আবারও রি’মান্ডে আনা হবে।

র‌্যাব-৩ এর এক ঊর্ধতন কর্মকর্তা জানান, মঞ্জু ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি ওই এলাকার মূ’র্তিমান আ’তঙ্কে পরিণত হন। রাজধানী সুপার মার্কেট ছিল তার চাঁ’দার বড় ক্ষেত্র। চাঁ’দা না দিলে তিনি নিজ হাতে দোকানে তালা ঝুলিয়ে দিতেন। মঞ্জুর ক্যা’ডার বাহিনী কে এম দাস লেন, অভয় দাস লেন, টয়েনবী সার্কুলার রোড, জয়কালী মন্দির রোড, ভগবতী ব্যানার্জি রোড, ফোল্ডার স্ট্রিট, হাটখোলা রোড এবং আর কে মিশন রোড এলাকার ফুটপাথ ও খালি জায়গায় দোকান বসিয়ে চাঁ’দাবা’জি করেন। তিনি ওই এলাকার বাংলাদেশ বয়েজ ক্লাবের সভাপতি। সেখানে তার ক্যা’সিনো চালানোর অভিযোগ রয়েছে। সূত্র জানায়, মঞ্জু রাজধানী মার্কেটের অ’ঘোষিত সভাপতি দাবি করতেন। কিছুদিন আগে এসি লাগানোর কথা বলে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে প্রায় ৫ কোটি টাকা নিয়েছেন। কিন্তু, কোনো কাজই করেননি।

মার্কেট পরিচালনা, জেনারেটর, এসি লাগানো, পানি ও বিদ্যুৎ বিলসহ নানা অজুহাতে তিনি চাঁ’দা তুলতেন। জেনারেটর, বিদ্যুৎ বিল, এসি লাগানো, বিদ্যুতের লোড বাড়ানো, মার্কেটের গেট উন্নয়ন, মার্কেটের দানবাক্সের টাকা আদায়, সরকারি ভ্যাট দেয়ার নামে ওই টাকা তিনি হাতিয়ে নিয়েছেন। জানা গেছে, সরকার ঘোষিত বিদ্যুৎ বিল প্রতি ইউনিট ১০ টাকা। কিন্তু, প্রত্যেক ব্যবসায়ীকে দিতে হয় ১৩ টাকা ৫০ পয়সা। প্রতি মাসে ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা শুধু বিদ্যুৎ থেকেই চাঁ’দাবা’জি করতেন মঞ্জু।

সূত্র জানায়, তার দ’খল থেকে বাদ যায়নি সনাতন ধর্মের লোকজনের ভোলানন্দ্রগিরি আশ্রমের জমি। তার ওই জমিতে এক শীর্ষ আওয়ামী লীগ নেতার হাত রয়েছে। মঞ্জু গ্রে’প্তার হওয়ার পর এলাকাবাসী জমির ওপরে নির্মিত স্থাপনা ভে’ঙ্গে দিয়েছেন। রাজধানী সুপার মার্কেটের হাবিবুর রহমান নামে এক ব্যবসায়ী গতকাল জানান, মার্কেটের পুরোটা নিয়ন্ত্রণ নিয়ে চাঁ’দাবা’জি করতেন মঞ্জু। তারা আইন-শৃংখলা বাহিনীকে অভিযোগ করলেও রহস্যজনক কারণে তারা নিশ্চুপ থেকেছেন। তাকে গ্রে’প্তারের পর মার্কেটের ব্যবসায়ীরা মিষ্টি বিলিয়েছেন, আনন্দ করেছেন।

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সর্বশেষ আপডেট

  • 2.9K
    Shares
advertisement