প্রচ্ছদ বাংলাদেশ মৃ’ত্যুর জন্য প্রস্তুত জানিয়ে যা বলেছিলেন এমপি বাদল

মৃ’ত্যুর জন্য প্রস্তুত জানিয়ে যা বলেছিলেন এমপি বাদল

117
পড়া যাবে: 4 মিনিটে
advertisement

না ফেরার দেশে চলে গেলেন চট্টগ্রাম-৮ আসন থেকে নির্বাচিত জাতীয় সংসদ সদস্য (এমপি) মঈন উদ্দীন খান বাদল (ইন্না লিল্লাহি…… রাজিউন)। হঠাৎ করেই বৃহস্পতিবার (৭ নভেম্বর) বাংলাদেশ সময় সকাল ৭টা ৪৫ মিনিটে ভারতের বেঙ্গালুরুর নারায়ণ হৃদরো’গ রিসার্চ ইনস্টিটিউট অ্যান্ড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থেকে তিনি মা’রা যান।

advertisement

আর তিনি মৃ’ত্যুর জন্য সর্বদা প্রস্তুত ছিলেন। এমপি বাদল সে কথাই তিনি জানিয়েছিলেন চট্টগ্রামের এক গণমাধ্যমে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি জোট অংশ নেবে কিনা এমন এক প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছিল সে সময়। সেই বিষয়টিকে কেন্দ্র করেই মঈন উদ্দীন খান বাদলের সাক্ষাৎকার নিয়েছিলেন গণমাধ্যমটির সাংবাদিক।

সেই সময় রাজনীতিবিদ হিসেবে নিজেকে কতটুকু সফল বলে মনে করেন, জবাবে বাদল বলেছিলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতের জেনারেল সুজন সিংহবানের কাছে প্রশিক্ষণ নিয়েছিলাম আমরা। উনি হেডকোয়ার্টার করেছিলেন রাঙামাটি। আমি আর প্রয়াত ছাত্রনেতা এসএম ইউসুফ তার কাছে গেলাম একদিন। তিনি বললেন, বাচ্চা ‘চা পিয়ো’(চা খাও)।

জেনারেল সুজন সিংহবানে চা খেতে খেতে বলছিলেন, দেখো নিজেকে এমনভাবে তৈরি করবে যেন যেকোনো পরিস্থিতিতে মৃ’ত্যু’কে আলিঙ্গন করার মানসিকতা থাকে। তবেই তুমি একজন ভালো যো’দ্ধা হবে। তোমাকে প্রস্তুত থাকতে হবে। তোমার মৃ’ত্যুতে কেউ চোখের পানি ফেলবে না। কেউ শো’কবা’র্তা দেবে না। এ রকম নীরবে যদি ম’রে যেতে পার, তবেই তুমি একজন আসল যো’দ্ধা।

আর সিংহবানের সেই নিদের্শনাটি তার কানে এখনও বাজে বলে জানিয়েছিলেন এমপি বাদল। তিনি বলেছিলেন, সুজন সিংহবানের কথাটি আমার হৃদয়ে দাগ কেটেছে। মুক্তিযুদ্ধকালীন সেই মানসিকা নিয়েই যুদ্ধ করেছি। জয়লাভ করেছি। সেই থেকেই আমি মৃ’ত্যুর জন্য প্রস্তুত। খালি হাতে এসেছিলাম। খালি হাতেই যাব।

উল্লেখ্য, গত ১৮ অক্টোবর থেকে ভারতে প্রখ্যাত হৃ’দরো’গ বিশেষজ্ঞ দেবী শেঠির তত্ত্বাবধানে ছিলেন মঈন উদ্দীন খান বাদল। চিকিৎসাধীন হার্টফেল করে মৃ’ত্যুবর’ণ করেন। এ তথ্য নিশ্চিত করে তার ভাই মনির উদ্দীন খান বলেন, মরহুমের ম’রদে’হ দ্রুত বাংলাদেশে আনা হবে। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি জন্ম নেয়া মঈন উদ্দীন খান বাদল বোয়ালখালী উপজেলা জাসদের সভাপতি ছিলেন।

তিনি চট্টগ্রাম-৮ আসনের তিন বার নির্বাচিত সংসদ সদস্য ছিলেন। তার তিন ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। সংসদেও বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর ছিল তার। প্রতিটি সংসদ অধিবেশনেই সপ্রতিভ ক্ষুরধার বক্তব্য রাখতেন তিনি। একাত্তরের রণাঙ্গনে জীবনবাজি রেখে লড়েছেন দেশমাতৃকার জন্য।

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সর্বশেষ আপডেট

  • 95
    Shares
advertisement