প্রচ্ছদ আওয়ামী লীগ সম্মেলন শেষে জানুয়ারি মাস থেকে একটা একটা করে প্যান্ডোরা বক্স খোলা শুরু...

সম্মেলন শেষে জানুয়ারি মাস থেকে একটা একটা করে প্যান্ডোরা বক্স খোলা শুরু হবে

2613
পড়া যাবে: 4 মিনিটে

রাজনৈতিক অস্থিরতায় কাঁপছে গোটা বাংলাদেশ। ১ বছর আগেও যারা বাঘের মত গর্জন করতেন তাঁদের অধিকাংশই এখন শীত নিদ্রায় বা কেউ কেউ কা’রাগা’রে। যাদের সিণ্ডিকেটে চলত প্রশাসন তাঁদের অনেকেই এখন তারেক জিয়ার মত শারীরিকভাবে আধা প’ঙ্গু না হলেও রাজনৈতিকভাবে প’ঙ্গু প্রায় দশা। জাতীয় পার্টির মহাসচিব ও সড়ক পরিবহন নেতা নুর হোসেনের নামে তার মনের ক্ষোভ ঝেড়েছেন। তার মনোব্যথা অন্য কোথাও। তার ঘনিষ্ঠ পরিবহন শ্রমিক নেতারা অনেকেই বলেছেন যে, নতুন পরিবহন আইন প্রয়োগের ফলে মসিউর রহমান রাঙ্গার অধিকাংশ গাড়ি রাস্তায় চলাচলের অনুপযোগী। উনার তাই মাথা নষ্ট হয়ে গেছে বলেই মনে হচ্ছে। তাই বেসামাল হয়ে আবোল তাবোল বলা ছাড়া রাঙ্গা সাহেবের আর কোন উপায় নেই।

অন্যদিকে ‘শৃঙ্খলা ও পেশাগত আচরণ ভঙ্গ এবং গুরুতর অসদাচরণের’ দায়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটরের পদ থেকে তুরিন আফরোজকে অপসারণ করেছে সরকার।

ক্যা’সিনো কে’লেংকারীতে জড়িত থাকা, দেশের টাকা পা’চার, পদ ও কমিটি বাণিজ্যের দায়ে আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন যুবলীগ, কৃষক লীগ, শ্রমিক লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ সহ অনেক বাঘা বাঘা নেতা ধ’রাশায়ী হয়ে পড়েছেন। কেউ কেউ পলাতক জীবন যাপন করছেন। যারা এখনো লাল ঘরে ঢোকেননি তাঁরা খুব নিরপেক্ষ ভাব নিয়ে আর নানাভাবে তদবির করে টিকে থাকা বা লালঘরে না যাবার প্রাণান্ত চেষ্টায় লিপ্ত।

শেখ পরিবারের আত্মীয় পরিচয়ে যারা বিভিন্ন অনিয়ম, টে’ণ্ডারবা’জি, দলের বা সহযোগী সংগঠনের পদ ও কমিটি বাণিজ্যে জড়িয়ে টাকা কামিয়েছে তাঁদের অনেকেই এখন পলাতক। যাদের বাসার সামনে পিছনে সকাল সন্ধ্যায় বাহারি গাড়ির ভিড় লেগে থাকতো সে সব অনেক বাড়িতেই এখন কেউ যান না।

মনে হয় শ্মশান পুরি। অনেকের নামেই প্রকাশ্যে বা অপ্রকাশ্যে বিদেশ ভ্রমণে এসেছে নিষেধাজ্ঞা আছে। কার নামে কখন কি হয় তা ভেবে মানসিকভাবে চরম ভেঙ্গে পড়েছেন অন্যায় কাজে জড়িত বাঘা বাঘা রাজনৈতিক নেতারা। সবার ভিতরে ইয়া নফসি ইয়া নফসি ভাব। অনেকে কর্মী বা ছোট নেতাদের ফোন ধরেন না।

ক্ষমতাসীন দলের জোটের নেতারাও আছেন মহা আতংকে। অনেকের নামে দু’র্নীতির অভিযোগ আছে, আছে প্রমাণ। তাই তো অনেক সাবেক মন্ত্রী বর্তমান এমপি’র বে’ফাঁস কথা নিজেই আ’টকে গিয়ে নাক খত দিয়ে উল্টা সুরে গান গাইতে শুরু করেছেন। বাঁচা দরকার, জেলখানার বাইরে থেকে।

জিকে শামীমদের কাছে থেকে যারা আর্থিক সুবিধা নিয়েছেন, সেই সব বড় বড় আমলারাও অনেকে লাপাত্তা। কারো কারো বিদেশ ভ্রমণে এসেছে নিষেধাজ্ঞা। বিভিন্ন সরকারী দপ্তরে বিশেষকরে যে সব দপ্তর বা মন্ত্রণালয় বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে বা রাজস্ব আদায় করেছে তাদের কর্মকর্তা কর্মচারীদের মধ্যে আতংক চরমে। বিশেষকরে যে সব দপ্তরে সহায়ক বা করণিকদের শত শত কোটি অ’বৈধ টাকার হিসাব পাওয়া গেছে সেই সব দপ্তরে অস্থিরতা অনেক বেশি।

আরও পড়ুন:  প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ অমান্য করে ইসমাইলকে বহিষ্কার করেনি যুবলীগ

অনেকেই জানেন যে, সরকারী বিশেষ নিরীক্ষায় ধরা খেয়ে দুই দফায় ৭৩ কোটি টাকা ফেরত দিয়েছেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক সামীম মো. আফজাল। প্রথম দফায় গত ২৩ অক্টোবর সোনালী ব্যাংক পাবলিক সার্ভিস কমিশন শাখায় ১টি চেকের মাধ্যমে ৩২ কোটি টাকা এবং দ্বিতীয় দফায় গত ৩১ অক্টোবর সোনালী ব্যাংকের একই শাখায় ৩টি চে’কের মাধ্যমে প্রায় ৪১ কোটি টাকা সরকারী কোষাগারে জমা দেন তিনি।

এ নিয়ে তার ফেরত প্রদানকৃত টাকার পরিমাণ প্রায় সোয়া ৭৩ কোটি টাকা। এমন ভাবে টাকা ফেরত দেবার সুযোগ অনেক কর্মচারী কর্মকর্তা প্রত্যাশা করছেন। ১/১১ এর মত ট্রুথ কমিশন গঠনেরও প্রস্তাব আছে সরকারের কাছে। যাতে তাঁরা টাকা ফেরত দিয়ে জেলের হাত থেকে বাচতে পারেন। কারণ দু’র্নীতিবা’জদের একটা বিরাট অংশ শেষ বয়সে জেলে যেতে চান না। ১/১১ তে যেমন নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের তোড়জোড় লেগেছিল, ঠিক তেমনি বিএনপি ও অন্য দল থেকে বেরিয়ে ড. কামাল বা ড. ইউনুসের নেতৃত্বে নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের গুঞ্জন আছে আকাশে বাতাসে।

একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে যে, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সম্মেলন শেষে আগামী জানুয়ারি মাস থেকে শেখ হাসিনা একটা একটা করে ;প্যান্ডোরা বক্স” খোলা শুরু করবেন আর তা হবে আবার একটি বেসামরিক ওয়ান ইলেভেন, এই বাংলা দেশে।

বাংলাদেশ তথা বিশ্ববাসী শেখ হাসিনার অনেক রূপ দেখেছেন। যারা সারা জীবন শেখ হাসিনা বা বঙ্গবন্ধুকে অকথ্য ভাসায় গা’লি গা’লাজ করেছেন, কুৎসা রটনায় লিপ্ত ছিলেন, তারাও যখন শেখ হাসিনার কাছে এসেছেন তখন তিনি কখনো সরকার প্রধানের বা মায়ের মত বা বোনের মত পরম মমতায় তার সমস্যার সমাধানে ব্রতী হয়েছেন। কিন্তু তিনি দু’র্নীতি’র বিরুদ্ধে কি যে কঠিন কঠোর তার প্রমাণ আমরা তার সাম্প্রতিক কিছু আচরণে দেখতে পায়। শেখ হাসিনার জিরো টলারেন্স কত কঠিন তা বুঝতে বা বুঝাতে একটা সত্য ঘটনা এখানে বলতে চাই।

আরও পড়ুন:  নেপথ্যে থেকে শেখ হাসিনাকে ক্ষমতা থেকে সরাতে চান ড. ইউনূস

ব্রিটিশ শাসনামলে কুষ্টিয়ার ১৮ পাড়া জমিদারির প্রজাদের প্রধান ছিলেন জয়নাল বিশ্বাস। একবার এক সুন্দরী বিধবা বহুগামী হয়ে গ’র্ভবতী হয়ে পড়লেন। এলাকাবাসী জয়নাল বিশ্বাসের কাছে মেয়েটির কঠিন দৃষ্টান্তমূলক সা’জার দাবী জানালেন। জয়নাল বিশ্বাস বিচারে বসে অনেক চিন্তা করে রায় দিলেন যে, মেয়েটির গর্ভে ৪ মাসের সন্তান তাই চূড়ান্ত বিচার হবে আরও ৯ মাস পরে, সন্তানের বয়স যখন ৩ মাস হবে। এই সময় মেয়েটি মাথার কাপড় ফেলে প্রতিদিন সকালে আর বিকেলে মাথা উঁচু করে সারা গ্রাম ঘুরে বাসায় ফিরবে। জয়নাল বিশ্বাসের এলাকাবাসী খুশি হতে পারলেন না। কিন্তু প্রকাশ্যে কিছু না বলে চুপ রইলেন।

বহুগামী গর্ভবতী সুন্দরী বিধবা সকাল সন্ধ্যায় ঘোমটা ছাড়া গ্রাম প্রদক্ষিণের সময় নানা অপমানসূচক কথা আর আচরণে এতই মানসিক য’ন্ত্রণায় পড়লেন যে তার চেহারা বি’কৃত হয়ে গেলো, মানসিক ভাবে ভেঙ্গে পড়লো। একদিন সন্ধ্যায় মেয়েটি জয়নাল বিশ্বাসের বাসায় এসে তাঁকে দূররা মেরে হ’ত্যা করা জন্য আকুতি মিনতি করতে লাগলো। সে বলল যে, এত মানসিক য’ন্ত্রণার চেয়ে ম’রে যাওয়া অনেক ভালো। জয়নাল বিশ্বাস তাঁকে অনেক বুঝিয়ে কয়েক মাস অপেক্ষা করতে বললেন।

বহুগামী গর্ভবতী সুন্দরী একটা ছেলে সন্তান প্রসবের পরে নির্ধারিত সময়ে আবার সালিশ বসান হলো। এলাকাবাসী সবাই মেয়েটিকে ক্ষমা করে দেবার জন্য আবেদন নিবেদন করলেন। কিন্তু জয়নাল বিশ্বাস অনড়। তিনি সালিসে রায় দিলেন। পরের দিন সন্ধ্যায় মেয়েটি এলাকা ছেড়ে চলে যাবে। এত দূরে চলে যাবে যাতে কী তাঁকে না চিনতে পারে।

নিজ পকেট থেকে ১০ টাকা দিয়ে বললেন এই টাকা দিয়ে জমি কিনে বাগান করবে আর বাড়ি বানিয়ে ছেলে মানুষ করবে। এলাকাবাসী বললেন, হুজুর আপনি যে এত বড় শাস্তি দেবেন তা আমরা কেউ কল্পনাও করতে পারিনি। ১০১ টা দূ’ররা মা’রলে তার ব্য’থা হয়তো ১/২ মাসে সেরে যেতো কিন্তু ৯ মাস ধরে মেয়েটি যে মানসিক য’ন্ত্রণা ভোগ করেছে তার সাথে শারীরিক নি’র্যাতনের কোন তুলনা হয় না। শেখ হাসিনা কাউকেই দূ’ররা মা’রতে চান না, কিন্তু তাঁর শাস্তি কত কঠিন তা যারা ভোগ করছেন শুধু তারাই অনুমান করতে পারেন, অন্য কেউ না।

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সর্বশেষ আপডেট:

  • 26.1K
    Shares