প্রচ্ছদ ঘটনা-দুর্ঘটনা অটো ব্রেকে ইট দিয়ে ঘুমিয়ে ছিলেন তূর্ণার ট্রেনচালকরা

অটো ব্রেকে ইট দিয়ে ঘুমিয়ে ছিলেন তূর্ণার ট্রেনচালকরা

309
পড়া যাবে: 2 মিনিটে

তূর্ণা নিশীথার চালক (লোকোমাস্টার) তাহের উদ্দিন ও সহকারী অ’পু-দে অটো ব্রেকে ইট দিয়ে ঘুমিয়ে পড়ার কারণে ব্রাক্ষণবাড়িয়ার কসবায় উদয়ন এক্সপ্রেস ও তূর্ণার মধ্যে সং’ঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সিলেট থেকে ছেড়ে আসা উদয়ন এক্সপ্রেসকে লুপলাইনে প্রবেশের জন্য আউটার ও হোম সিগন্যাল দিয়েছিলেন মন্দবাগ স্টেশনমাস্টার জাকির হোসেন। একই সঙ্গে তূর্ণা-নিশীথা এক্সপ্রেসকে স্টেশন অতিক্রম না করতে লাল সংকেত (ডে’নজার) দেন তিনি। স্টেশনে প্রবেশের প্রায় এক হাজার মিটার আগে থেকেই সংকেত দেওয়া ছিল। কিন্তু তা ওভারশুট (অতিক্রম) করে যান ঢাকা অভিমুখী তূর্ণার চালক তাছের উদ্দিন ও সহকারী চালক অপু দে। এতেই ঘটে ভ’য়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ট্রেনচালকরা হয় ঘুমিয়ে ছিলেন অথবা মা’দকাস’ক্ত ছিলেন। সে কারণে এ ধরনের দু’র্ঘটনা ঘটেছে। কারণ ভুল করে সিগন্যাল ওভারশুট করলে ইঞ্জিনের এয়ারব্রেকের মাধ্যমে ১০ থেকে ১৫ সেকেন্ডের মধ্যেই ট্রেন থামানো সম্ভব ছিল। একইভাবে ট্রেন পরিচালক (গার্ড) আবদুর রহমানও ঘুমিয়ে না থাকলেও গার্ড ব্রেকের মাধ্যমে (ভেক্যুয়ামের বাতাস ছেড়ে দিয়ে) ট্রেন থামাতে পারতেন। প্রাথমিকভাবে দায়িত্বে অবহেলার দায়ে এ তিনজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের কর্মকর্তা, স্টেশনমাস্টার, উদয়নের ট্রেনচালকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তূর্ণার চালক সিগন্যাল অমান্য করে ট্রেন পরিচালনা করায় দু’র্ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিক তদন্তে প্রমাণ পাওয়া গেছে। তবে দুর্ঘটনার কারণ তদন্তে গঠিত তিনটি কমিটির পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিস্তারিত জানা যাবে। তাদের ধারণা, ট্রেন চালক এবং গার্ড ঘুমিয়ে থাকার কারণে এতবড় দুর্ঘটনা ঘটেছে। এদিকে রেলওয়ে রানিং স্টাফ ও শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের নেতাদের দাবি, ঘন কুয়াশার কারণে সিগন্যাল দেখতে পাননি চালকরা। ফগ সিগন্যালও দেননি স্টেশনমাস্টার। এ ছাড়া গার্ডও সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করেননি। স্টেশনমাস্টার বলছেন, ফগ সিগন্যাল দেওয়ার মতো কুয়াশা ছিল না।

আরও পড়ুন:  ব্রাহ্মণবাড়িয়ার দুটি ট্রেনের মুখোমুখি সংঘ’র্ষে ১৭ জন নি’হত

মন্দবাগ স্টেশনমাস্টার জাকির হোসেন  বলেন, লুপলাইনে প্রবেশের জন্য উদয়ন ট্রেনকে আউটার ও হোম সিগন্যাল দেওয়া হয়। এ সময় তূর্ণা-নিশীথাকে স্টেশন অতিক্রম না করতে ডে’নজার সিগন্যাল পড়ে। কিন্তু চালক তা অমান্য করায় বড় ধরনের দুর্ঘটনায় পড়ে। দুই চালক ঘুমিয়ে ছিলেন অথবা নে’শাগ্র’স্ত ছিলেন। না হলে এয়ারব্রেকের মাধ্যমে ট্রেন থামানো যেত। এর পরও দুর্ঘটনা ঘটলে সর্বোচ্চ উদয়ন লাইনচ্যুত হতো। প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি হতো না। ট্রেন অটো ব্রেক সিস্টেমে চলে। ট্রেন তখনই চলে যখন ওই ব্রেক সিস্টেমে পা বা অন্য কিছু দিয়ে চেপে ধ’রা হয়। ব্রেকে চাপ না দিলে ট্রেন চলে না। তূর্ণার চালক ও সহকারী ব্রাক্ষণবাড়িয়ার কসবায় পৌঁছার আগেই ব্রেকে ইট দিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন।

রেলওয়ে লোকো রানিং স্টাফ ও শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী বলেন, তাৎক্ষণিকভাবে সিগন্যাল অমান্য করেছে বলে প্রমাণ পেয়েছে। আউটার সিগন্যালে তমা কনস্ট্রাকশনের মাটির স্তূপের কারণে সিগন্যাল দেখা যায়নি। এ ছাড়া চালকরা সিগন্যাল খেয়াল করেননি, কিন্তু গার্ড তো ট্রেন থামাতে পারতেন। কারণ গার্ড সিগন্যাল দেখে তা খাতায় লিপিবদ্ধ করে। এর পরও আমরা আশা করি, তদন্তে সবকিছু বেরিয়ে আসবে।

আরও পড়ুন:  জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের মাইক্রোতে ১৮০ কেজি গাঁজা!

দুর্ঘটনাকবলিত উদয়ন ট্রেনের সহকারী ট্রেনচালক আবদুল কাইয়ুম বলেন, আমাদের কোনো সমস্যা ছিল না। আমরা প্রপার সিগন্যালে প্রবেশ করেছি। এদিকে স্টেশনমাস্টার সংকট না থাকলেও মন্দবাগ, ইমামবাড়ি ও গঙ্গাসাগর স্টেশনে তিনজনের স্থলে দুজন মাস্টার দিয়ে স্টেশন চালানো হচ্ছে। এতে তারা দৈনিক ১২ ঘণ্টা করে দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে পর্যাপ্ত অবসর পাচ্ছেন না। আর্থিক সুবিধার জন্য অতিরিক্ত চার ঘণ্টা চাকরি করছেন তারা।

চট্টগ্রাম রেলের সচিব মোফাজ্জেল হোসেন জানান, সিগন্যাল অমান্য করে স্টেশন অতিক্রমের কারণে দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি। দায়িত্বে অবহেলার জন্য দুই চালক ও গার্ডকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান ও দায়ীদের শনাক্তে তিনটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

কসবায় ট্রেন দুর্ঘটনার কারণে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলে প্রায় ৭ ঘণ্টা পর ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়। ৭ ঘণ্টা বন্ধ থাকার কারণে ট্রেনসূচিতে বিঘ ঘটে। এতে দুর্ভোগে পড়েন যাত্রীরা। দুর্ঘটনাস্থলের দুই পাশে আটকা পড়া কয়েকটি ট্রেনের যাত্রীরা সড়কপথে গন্তব্যে পৌঁছার চেষ্টা করেছেন। তবে কোনো ট্রেনের যাত্রা বাতিল হয়নি বলে জানিয়েছেন রেল কর্মকর্তারা। গতকাল সকাল সাড়ে ১০টা থেকে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয় বলে জানান রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তা আনসার আলী।

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সর্বশেষ আপডেট:

  • 1.4K
    Shares