প্রচ্ছদ রাজনীতি বিএনপি

ড. কামাল ভারতের চর

194
পড়া যাবে: 2 মিনিটে

দুই সপ্তাহ আগে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে সাক্ষাৎ করা হয়েছিল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে। সেই সাক্ষাৎকারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে নিবেদন করা হয়েছিল যে, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা যেন বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাধীন বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পারেন। তাকে সহানুভূতি এবং স্বাস্থের খোঁজ খবর নেওয়ার জন্যই সাক্ষাৎ প্রার্থনা করেছিলেন ঐক্যফ্রন্টের নেতারা।

ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে সাক্ষাৎপ্রার্থীদের একটি তালিকাও দেওয়া হয়েছিল। যে তালিকার শীর্ষে ছিলেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ড. কামাল কামাল হোসেনের নাম। কিন্তু দুই সপ্তাহ পেরুনোর পরও বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থানরত বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ পাননি জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা।

যদিও  স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছিলেন, জেল বিধি অনুযায়ী সাক্ষাতের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সেজন্য তিনি প্রয়োজনীয় সাক্ষাতের ব্যবস্থা করেছিলেন। কিন্তু জেল কর্তৃপক্ষ সূত্রে পাওয়া গেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। যেকোন আ’টক ব’ন্দীর আত্মীয় স্বজন ছাড়া অন্য কেউ দেখা করতে চাইলে সেক্ষেত্রে কা’রাবিধি অনুযায়ী আ’টকের সম্মতির প্রয়োজন হয়। তাই খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎপ্রার্থী জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতৃবৃন্দ খালেদা জিয়ার যেহেতু আত্মীয় নন সেজন্য জে’ল কর্তৃপক্ষ ওই তালিকার নাম পড়ে শুনিয়েছিল তাকে। তারা সাক্ষাৎ করতে আগ্রহী বলে বেগম জিয়াকে জানিয়েছিলেন। কিন্তু বেগম জিয়া তাদের সঙ্গে সাক্ষাতে অস্বীকৃতি জানান।

জেল কর্তৃপক্ষ থেকে একজন পদস্থ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, যেহেতু বেগম খালেদা জিয়া একজন উচ্চ শ্রেনী (ডিভিশন প্রাপ্ত) ক’য়েদী তাই তার সম্মতি ছাড়া কোন অনাত্মীয় সাক্ষাৎ করতে পারেন না। সেই বিবেচনা থেকেই তারা খালেদা জিয়ার অনুমতি চেয়েছিলেন। কিন্তু বেগম খালেদা জিয়া সাক্ষাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।

আরও পড়ুন:  গ্যাস বিক্রির মুচলেখা দিয়েই খালেদা জিয়া ক্ষমতায় এসেছিল

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, বেগম খালেদা জিয়া ড. কামাল হোসেনকে ভারতীয় চর হিসাবে অভিহীত করেছেন। তিনি চিকিৎসকদের সঙ্গে আলাপচারিতায় বলেছেন, ড. কামাল হোসেন যেভাবে বিএনপিকে নির্বাচনে নিয়ে গিয়েছিলেন ঠিক সেভাবেই বঙ্গবন্ধু মেডিকেলে এসে দেখে সার্টিফিকেট দেবেন আমার সুচিকিৎসা হচ্ছে। আমি সুস্থ আছি। এটাই ড. কামাল হোসেনের কাজ।

ড. কামাল হোসেন মিশন নিয়েছেন বিএনপিকে তচনছ করার। সেজন্যই নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল এবং বিএনপির এমপিদের পার্লামেন্টে পাঠানো হয়েছিল। কা’রা কর্তৃপক্ষ এবং বেগম খালেদা জিয়ার জন্য গঠিত মেডিকেল বোর্ডের সূত্রে এই তথ্যগুলো নিশ্চিত হওয়া গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে ৩০ শে ডিসেম্বর নির্বাচনের পর থকে বেগম খালেদা জিয়া জাতীয় ঐক্য থেকে বিএনপিকে সরে আসার নির্দেশ দিয়েছিলেন কিন্তু লন্ডনে পলাতক বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ার‌ম্যান এবং খালেদা জিয়ার জেষ্ঠ্য পুত্র তারেক জিয়া জাতীয় ঐক্য বহাল রাখার পক্ষে মতামত দিয়েছিলেন। এ নিয়ে মা এবং ছেলের বিরোধ এখন প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে।

খালেদা জিয়া মনে করছেন যে, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট বিএনপিকে আদর্শচ্যুত করছে এবং জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং বঙ্গবন্ধুর আদর্শসহ বিভিন্ন কথাবার্তা বলে বিএনপির যে ভোট ব্যাংক সেই ভোট ব্যাংককে ক্ষয়িষ্ণু করে দিচ্ছে। বেগম খালেদা জিয়া এটাও বিএনপি নেতৃবৃন্দকে বলেছেন যে, নির্বাচনের পর পার্লামেন্ট যাওয়া ছিল একটি আত্বঘাতী সিদ্ধান্ত এবং এর মাধ্যমে বিএনপি সম্পর্কে মানুষের মধ্যে ভুল ধারণা সৃষ্টি হয়েছে।

আরও পড়ুন:  খালেদা জিয়ার বিষয়ে নো কম্প্রোমাইজ

বেগম খালেদা জিয়া এটাও মনে করেন ড. কামাল হোসেনের জন্যই বিএনপি এই সমস্ত সিদ্ধান্ত গুলো নিচ্ছে। বিএনপি সংঘবদ্ধ হতে পারছে না। বেগম খালেদা জিয়া সব সময় ২০ দলীয় জোট অটুট রাখার পক্ষে ছিলেন। যদিও লন্ডনে প’লাতক তারেক জিয়া নির্বাচনের আগে থেকে ২০ দলীয় জোটকে অকার্যকর করে রেখেছিলেন এবং ২০ দলীয় জোটের বৈঠকের ব্যপারে তার তীব্র অনিহা ছিল। এই সমন্ত বিরোধের জেরেই বিএনপি তিন বার আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করেও পিছপা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো মনে করছে মা ও পুত্রের এই বিরোধের মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছেন ড. কামাল হোসেন। ড. কামাল হোসেনকে ব্যবহার করে তারেক জিয়া ভারত এবং আন্তর্জাতিক মহলের মন জয় করতে চাইছেন।

অন্যদিকে বেগম খালেদা জিয়া মনে করতে চাইছেন, যদি দাঁড়াতে হয় তাহলে নিজের শক্তিতে এবং তার নিজস্ব যে চিন্তা চেতনা সেই ভিত্তিতে দাঁড়াতে হবে। যেটা ড. কামাল হোসেনের রাজনীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এই বিরোধের জেরেই ড. কামাল হোসেন এবং জাতীয় ঐক্যের সঙ্গে সাক্ষাৎ হচ্ছে না বেগম খালেদা জিয়ার।

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

  • 213
    Shares