প্রচ্ছদ Featured News এই অবস্থায় শুদ্ধি অভিযান বন্ধ করলে আ’লীগের জন্য আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত হবে

এই অবস্থায় শুদ্ধি অভিযান বন্ধ করলে আ’লীগের জন্য আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত হবে

107
পড়া যাবে: 3 মিনিটে

গত ১৪ সেপ্টেম্বর থেকে আওয়ামী লীগ শুদ্ধি অভিযান শুরু করেছে। এই শুদ্ধি অভিযানে এখন পর্যন্ত আওয়ামী লীগের একাধিক নেতাকর্মী গ্রে’প্তার হয়েছেন। তিনটি অঙ্গ সহযোগি এবং ভ্রাতৃপ্রতীম সংসদের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে দায়িত্ব থেকে। কিন্তু দুই মাসের মাথায় এসে শুদ্ধি অভিযান যেন হোঁচটে খেয়েছে। এই শুদ্ধি অভিযান নিয়ে তেমন কোনো আলাপ আলোচনা বা অগ্রগতি নেই।

এই শুদ্ধি অভিযান আর চলবে কিনা বা পরিধি আর বাড়বে কিনা এ নিয়ে রাজনৈতিক গুঞ্জন থাকলেও বাস্তবে তেমন কোনো কার্যক্রম পরিলক্ষিত হচ্ছে না। শুদ্ধি অভিযান নিয়ে এর মধ্যেই বেশ কিছু প্রশ্ন উঠেছে। যেই প্রশ্ন গুলোর উত্তর পাচ্ছে না সাধারণ মানুষ। এসব প্রশ্নের মধ্যে রয়েছে-

## শুদ্ধি অভিযানের শুরু হলো ছাত্রলীগের সভাপতি শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানির রিরুদ্ধে চাঁ’দাবা’জির অভিযোগ দিয়ে। এই চাঁ’দাবা’জি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা চাঁ’দা দাবি করার অভিযোগে তাদেরকে সংগঠনের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হল। এখন রাজনৈতিক মহলের প্রশ্ন তারা যদি চাঁ’দা দাবি করে তাহলে এটা ফৌজদারি অ’পরাধ। কাজেই ফৌজদারি অ’পরাধের দা’য়ে তাদের বিরুদ্ধে কোন কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি দ’ণ্ডবি’ধিতে মা’মলা হচ্ছে না কেন।

## শুদ্ধি অভিযানের এক পর্যায়ে যুব লীগের চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরি, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মোল্লা আবু কায়সারসহ একাধিক আওয়ামী লীগ নেতার ব্যাংক হিসেবে জব্দ করা হয়েছে। তাদের বিদেশ যাওয়ার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এখন রাজনৈতিক অঙ্গনের প্রশ্ন হলো তাদের ব্যাংক হিসেব জব্দ করা হয়েছে প্রায় দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে। এই সময়ে কি হলো তাদের ব্যাংকে কি অস্বাভাবিক লেনদেন ধরা পড়েছে, তাদের বিরুদ্ধে কি দূ’র্নীতি’র সুনিদিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেছে? যদি অভিযোগ পাওয়া যায় তাহলে সেই অভিযোগের ভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধে মা’মলা হচ্ছে না কেন? তাদের বিষয়গুলো এভাবে ঝুলে কারণ কি?

আরও পড়ুন:  ১৩৭ সদস্যের জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটি

কারণ জানা গেছে, ব্যাংক হিসেব জব্দ করার পর তা পরীক্ষা নিরীক্ষা করতে বাংলাদেশে ব্যাংকের সূত্র মতে তিন থেকে চার কার্যদিবস সময় লাগে। এখন দুই সপ্তাহ ধরে ব্যাংক হিসেব জব্দ থাকার পর কি পাওয়া গেলো তা খোলাসা করা হচ্ছে না কেনো।

## শুদ্ধি অভিযানে খালেদ, সম্রাট, জিকে শামীম কিংবা কাউন্সিলর রাজীবকে একাধিক দফায় জি’জ্ঞাসাবা’দ করা হয়েছে। জি’জ্ঞাসাবা’দে তারা কি বলেছেন, এবং যাদের নাম বলেছেন তাদের বিরুদ্ধে কেন কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। সে নিয়েও সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা রকমের প্রশ্ন উঠেছে।

বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর এসেছে, জিকে শামীম, খালেদ সম্রাট অনেক প্রভাবশালী নেতার নাম বলেছেন কিন্তু এখন পর্যন্ত আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাকে এই সূত্র ধরে কাউকে গ্রে’প্তার করা বা জি’জ্ঞাসাবা’দ করার কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

## নুরুন্নবী শাওনসহ যে সমস্ত এমপির বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, যাদের ব্যাংক হিসেবে জব্দ করা হয়েছে বা যাদের বিদেশ যাওয়ার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে বা ব্যাংক হিসেবে তলব করা হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে দলীয় কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না কেন ? তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে রাজনৈতিক অঙ্গনে। কারণ যখনই দূ’র্নীতি এবং ক্যা’সিনো বি’রোধী অভিযানের বিরুদ্ধে মোল্লা কাউসার ও পঙ্কজ দেব নাথকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল স্বেচ্ছা সেবক লীগের নেতৃত্ব থেকে। তারা সম্মেলনে দায়িত্ব পালন করতে পারছেন না। ওমর ফারুক চৌধুরীকে যুবলীগের চেয়ারম্যানের পদ থেকে অব্যহতি দেওয়া হয়েছে তাহলে অভিযুক্ত এমপিরা কিভাবে বহাল তবিয়াতে আছেন সে প্রশ্ন সাধারণ মানুষের মনে এসেছে।

আরও পড়ুন:  আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতেও শুদ্ধি অভিযান,বাদ পড়ছেন অর্ধেকের বেশি বর্তমান সদস্য

## ক্য’সিনো বা’ণিজ্যের অভিযোগে গ্রে’প্তার হয়েছেন একসময়কার খালেদা জিয়ার ছাতাধারী ও ফালুর ক্যাডার লোকমান হোসেন ভুঁইয়া। লোকমান হোসেন ভুঁইয়া আ’টক হয়েছেন এবং তাকে জি’জ্ঞাসাবা’দ করা হলেও এখন পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক পদে দায়িত্বে বহাল তবিয়াতে আছেন। তাহলে তিনি ক্যা’সিনো বাণিজ্যে অভিযুক্ত হয়ে গ্রে’প্তার হওয়ার পর তিনি কিভাবে ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ডের পদে থাকেন সে নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ডের আরো কয়েক জনের ‍বিরুদ্ধে ক্যা’সিনোতে জু’য়া খেলার চিত্র/প্রতিবেদন বিভিন্ন গণমাধ্যমে উঠে এলেও তাদের বিরুদ্ধে নিরবতা পালন করা হচ্ছে কেন।

## শুদ্ধি অভিযানে ষষ্ঠ বিষয়টি এসেছে সেটি হলো শুদ্ধি অভিযানে প্রশাসনের বিরুদ্ধে কেন কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। বিশেষ করে যে সব এলাকায় এই সব ক্যা’সিনোগুলো দীর্ঘ দিন ধরে চলেছিল এবং সে সমস্ত এলাকার আইন প্রয়োগকারী সংস্থার বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলো কিংবা প্রশাসন বিভিন্ন পর্যায়ে যারা নানা রকম দূ’র্নীতি’র সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত হচ্ছে না কেন সে প্রশ্ন সাধারণ মানুষের মনে এসেছে।

## শুদ্ধি অভিযানে যারা কালো টাকা আত্তস্থ করেছেন, যারা সহায়তা করেছেন, যারা শেয়ার কেলেংকারির সঙ্গে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে কেনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে না সে প্রশ্ন জনমনে উঠেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে শুদ্ধি অভিযান যেভাবে শুরু করা হয়ছিল এটা যদি যৌক্তিক পরিণতিতে না নিয়ে হঠাৎ করেই বন্ধ করে দেওয়া হয় তাহলে সেটা ক্ষমতাশীল আওয়ামী লীগের জন্য সেটা আরেকটি আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত হবে বলেই রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সর্বশেষ আপডেট:

  • 798
    Shares