প্রচ্ছদ আওয়ামী লীগ রাজনীতিতে অস্তিত্বের সংকটে পরা ১৫০ ছাত্রনেতার নাম প্রধানমন্ত্রীর টেবিলে

রাজনীতিতে অস্তিত্বের সংকটে পরা ১৫০ ছাত্রনেতার নাম প্রধানমন্ত্রীর টেবিলে

1313
পড়া যাবে: 2 মিনিটে

ছাত্রলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা ছিলেন, কিন্তু পরবর্তীতে রাজনীতির মূলধারা থেকে ছিটকে পড়েছেন, তারা সৎ মেধাবী এবং প্রতিশ্রুতিশীল রাজনীতিবিদ হিসেবে সম্ভাবনা জাগিয়েছিলেন, কিন্তু দুর্বত্তায়নের রাজনীতির কারণে অথবা সিন্ডিকেটের কারণে মূলধারার রাজনীতিতে অস্তিত্বের সংকটে ভুগছেন। অনেকেই দল ছেড়ে দিয়ে বিভিন্ন পেশায় নিজেদেরকে জড়িয়েছেন – এরকম দেড় শতাধিক প্রাক্তন ছাত্রলীগ নেতার নাম এখন প্রধানমন্ত্রীর টেবিলে।

তাদের ব্যাপারে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। খোঁজখবর নেওয়ার সাপেক্ষে আগামী কাউন্সিলে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে আওয়ামী লীগে তাদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টি ভাবা হচ্ছে। আওয়ামী লীগের একটি দায়িত্বশীল সূত্র বলছে যে, আগামী কাউন্সিল অধিবেশনে আওয়ামী লীগে তরুণদের জয়জয়কার হবে এবং একটি ক্লিন ইমেজের কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করা হবে। যাদেরকে কেন্দ্রীয় কমিটিতে রাখা সম্ভব হবে না, তাদেরকে স্থানীয় পর্যায়ে নেতৃত্ব দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে।

সূত্র বলছে, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা বাহাদুর ব্যাপারী, মাঈন উদ্দিন চৌধুরী, ইসহাক আলী খান পান্না, এইচএম বদিউজ্জামান সোহাগসহ এরকম বহু ছাত্রনেতা রয়েছেন যারা ছাত্র রাজনীতিতে সফলতার স্বাক্ষর রেখেছিলেন। এরা মেধাবী, যাদের বিরুদ্ধে কোনো দু’র্নীতি, অ’নিয়ম, টে’ন্ডারবা’জির অভিযোগ নেই।

আরও পড়ুন:  লন্ডনের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী

কিন্তু ছাত্রলীগের রাজনীতি করার সময়ে তারা যেমন সম্ভাবনা জাগিয়েছিলেন, সেরকম সম্ভাবনাগুলো যেন অঙ্কুরেই বিনষ্ট হয়ে গেছে। বিভিন্ন রকম মেরুকরণ, রাজনীতিতে অ’শুভ শক্তির প্রভাব, বড় ভাইদের পৃষ্ঠপোষকতার অভাব এবং সিন্ডিকেটের কারণে তারা রাজনীতিতে কোনঠাসা হয়ে পড়েছেন।

এই দেড়শ জনের মধ্যে অর্ধেকের বেশিই এখন রাজনীতি থেকে নিজেদের গু’টিয়ে নিয়েছেন, রাজনীতির বাইরে বিভিন্ন পেশাগত দায়িত্ব পালন করছেন। আওয়ামী লীগ সভাপতি সম্প্রতি শুদ্ধি অভিযানের পর ছাত্রলীগে বিভিন্ন সময়ে যারা নেতৃত্ব দিয়েছেন, তারা কে কোথায় আছেন সে ব্যাপারে অনুসন্ধানের জন্য তার নিজস্ব একটি টিমকে দায়িত্ব দেন।

এই টিম গত ১৫ বছরে যারা ছাত্রলীগের নেতৃত্বে ছিলেন, বিশেষ করে কেন্দ্রীয় কমিটির সম্পাদকমণ্ডলীর দায়িত্ব পালন করেছেন তাদের তালিকা তৈরি করেছেন এবং তাদের খোঁজখবর নিয়েছেন। এদের মধ্যে কেউ কেউ আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে বিভিন্নভাবে যুক্ত থাকলেও একটি বড় অংশ ঠাঁই পাচ্ছেন না।

অবশ্য এদের একটি অংশ দু’র্বত্তায়নস’হ বিভিন্ন রকম অভিযোগে অভিযুক্ত হয়ে রাজনীতিকে কলুষিত করছে। এর বাইরে একটা বড় অংশ পাওয়া গেছে যারা বিভিন্ন চাপে এখন আর রাজনীতিতে নেই বললেই চলে। আওয়ামী লীগ সভাপতি এখন এদের রাজনীতিতে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিয়েছেন। এখন এই দেড়শ নেতা সম্পর্কে খোঁজখবর নেওয়ার পর তাদের একটি নামের তালিকা প্রধানমন্ত্রীর টেবিলে দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন:  মনোনয়ন বোর্ডের সভায় ১৭ ইউপির আওয়ামী লীগের প্রার্থী নির্বাচন

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানাচ্ছে যে, আগামী ২৩ নভেম্বর পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অত্যন্ত ব্যস্ত। তিনি এই তালিকা দেখে কয়েকজনকে বেছে বেছে ডাকবেন এবং এদের কাউকে আগামী কাউন্সিলে নেতৃত্বে আনলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। বাকিদেরকে স্থানীয় পর্যায়ে বা বিভিন্ন অঙ্গসহযোগী সংগঠনের নেতৃত্বে দেখা যেতে পারে।

দলের নীতি নির্ধারণী একাধিক সভায় আওয়ামী লীগ সভাপতি একাধিক বার বলেছেন যে, ছাত্রলীগই হলো আওয়ামী লীগের প্রাণশক্তি। ছাত্রলীগে যারা বিভিন্ন পর্যায়ে নেতৃত্ব দিয়েছেন, তারাই যেন আস্তে আস্তে মূল রাজনীতিতে আসে, সেই পথ সুগম করতে হবে। এটা যদি করা যায়, তাহলে অন্য দল থেকে উটকো ঝামেলারা এসে আওয়ামী লীগকে কলুষিত করতে পারবে না। আর সেই ধারাবাহিতায় খুঁজে বের করা হচ্ছে দুঃসময়ের ত্যাগী, পরীক্ষিত ছাত্র নেতাদের।

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সর্বশেষ আপডেট: