প্রচ্ছদ এক্সক্লুসিভ

গুজব সৃষ্টি,নৈরাজ্য সৃষ্টি ও মূল্য বৃদ্ধিতে ১৪ বিএনপি এবং জামায়াত নেতার যোগসাজশ

155
পড়া যাবে: 2 মিনিটে

সাম্প্রতিক সময়ে লবণ নিয়ে গু’জব সৃষ্টি, পরিবহনে নৈরাজ্য সৃষ্টির চেষ্টা এবং পেঁয়াজের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধিতে বিএনপি এবং জামায়াতের যোগসাজশ পাওয়া গেছে। সরকারের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে, এ ব্যাপারে বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের ১৪ জন নেতাকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এ ব্যাপারে আরো কিছু তদন্তের পর তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জানা গেছে, লবণের গু’জব সৃষ্টি করা হয়েছিল লন্ডন থেকে। লন্ডন থেকে পরিচালিত একটি ফেসবুক একাউন্ট থেকে বাংলাদেশে লবণের সংকট সৃষ্টি হচ্ছে, বাজারে লবণ পাওয়া যাচ্ছে না মর্মে তথ্য প্রচার করা হয়। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ঐ ফেসবুক একাউন্টসহ আরো কয়েকটি ফেসবুক একাউন্ট লন্ডনে তারেক জিয়ার তত্বাবধানে পরিচালিত হয় এবং সেখানে থেকেই এই গুজবগুলো ছড়ানো হয়ছে। এছাড়া একটি টেলিফোন রেকর্ড সরকারের হাতে এসে পৌঁছেছে। যেখানে দেখা যাচ্ছে লন্ডন থেকে তারেক জিয়া বিএনপির বিভিন্ন নেতাকে টেলিফোন করে লবণ সংকট সৃষ্টির জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, তারেক জিয়া যে কোনো মূল্যে দ্রব্যমূল্য সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে যাওয়া, সাধারণ মানুষকে ক্ষেপিয়ে তোলার কথা বলেছেন। যাদের সঙ্গে তারেক জিয়ার কথোপকথন হয়েছে তাদের মধ্যে রয়েছেন, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আওয়াল মিন্টু, বিএনপি নেতা আমান উল্লাহ আমান, বরকত উল্লাহ বুলু এবং চট্টগ্রামের আরো দুইজন নেতা। এদের সঙ্গে টেলিফোনে লবণের সংকট বিষয়ে নানা রকম আলোচনা করেছেন তারেক জিয়া। শুধু তারেক জিয়া নন এই ষড়যন্ত্রের সাথে আরো কয়েকজন নেতা জড়িত রয়েছেন বলে জানা গেছে।

আরও পড়ুন:  উনিই শেষ ভরসা, তিনিই পারবেন একটা পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, তারেকের ফোনের পরই আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী চট্টগ্রামে লবণ উৎপাদনকারীদেরকে টেলিফোন করেন। এ রকম প্রায় ৮টি টেলিফোন কল সরকারের হাতে রয়েছে। যেখানে বলা হয়েছে, লবণের উৎপাদন ধীরগতি করা, লবণের স্টক কি আছে না নেই সেই বিষয়ে তথ্য নেওয়া। সরকারের সূত্রগুলো বলছে, বিএনপি নেতা আবদুল আলম মিন্টু গত এক সপ্তাহে বিভিন্ন লোকের সঙ্গে কথা বলেছেন। আর এসব কথা বার্তার মূল প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল লবণ সংকট সৃষ্টি করা।

সরকারের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে, লবন সংকট ছাড়াও, পরিবহন সংকট যেন ত্বরান্বিত হওয়ার পাশাপাশি দীর্ঘ মেয়াদী হয়। পরিবহন শ্রমিকরা যেন সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে যোগ দেয় সেজন্য বিএনপির পলাতক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান লন্ডন থেকে একাধিক নির্দেশনা দিয়েছেন। বিএনপির নেতা মির্জা আব্বাস এবং আরেক নেতা হাবিবুন্নবী খান সোহেলসহ অন্তত ৮জন নেতার সঙ্গে পরিবহন সমস্যা সংক্রান্ত কথা বলেছেন। তারেক জিয়া বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে টেলিফোন করে নতুন আইনের বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহণের জন্য এবং পরিবহন মালিক শ্রমিকদের সঙ্গে সংহতি জানানোর জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন এমন তথ্য সরকারের একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার কাছে রয়েছে।

আরও পড়ুন:  ছাত্রলীগ-যুবলীগ নেতাদের কাছে শত কোটি টাকা,তাহলে আওয়ামী লীগ নেতাদের কাছে টাকা আছে?

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, পেঁয়াজের আড়তদারদের বিএনপির অন্তত দুজন নেতা নিয়মিত টেলিফোন করেছেন এবং পেঁয়াজ বাজারে না ছাড়ার জন্য অনুরোধ করেছেন। মজুদকৃত পেঁয়াজের জন্য নগদ অর্থ পরিশোধ করা হবে বলে আশ্বস্ত করেছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে যে, সরকারের বিরুদ্ধে অস্থিরত সৃষ্টির জন্য দেশে বিএনপির সাতজন নেতাকে চিহ্নিত করা হয়েছে।

যাদের সঙ্গে লন্ডন, দুবাই, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বিএনপি এবং জামাতের একাধিক নেতার সঙ্গে কথোপকথনের খবর সম্বন্ধে নিশ্চিত হওয়া গেছে। এই ৭ জন নেতার মধ্যে রয়েছে; মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আব্দুল আউয়াল মিন্টু, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, আমানউল্লাহ আমান, মির্জা আব্বাস, হাবিবুন্নবী খান সোহেল, মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল। জানা গেছে, সরকার এদের ব্যাপারে আরো অনুসন্ধান চালাচ্ছে। অনুসন্ধানের পরে এদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

  • 259
    Shares