প্রচ্ছদ Featured News তোমরাও আমাকে বলোনি কেন, ওমর এতো পঁচে গেছে

তোমরাও আমাকে বলোনি কেন, ওমর এতো পঁচে গেছে

176
পড়া যাবে: 2 মিনিটে

বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের চেয়ারম্যান অব্যাহতি পেয়েছেন এবং আগামীকাল সপ্তম কংগ্রেসের মাধ্যমে বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ নতুন নেতৃত্বকে বরণ করে নেবে। বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের রাজনৈতিক ইতিহাসে এরকম দুর্ভাগ্যজনক পরিস্থিতি আগে কোনো চেয়ারম্যানকে বরণ করতে হয়নি। ওমর ফারুক চৌধুরীই প্রথম ব্যক্তি, যাকে কলংকের কালিমা মাথায় নিয়ে সরে যেতে হলো। তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগগুলো রয়েছে তার মধ্যে প্রথম হলো- যারা দলের মধ্যে দু’র্বৃত্ত, স’ন্ত্রাস এবং চাঁ’দাবা’জি করতো, তাতে তিনিও ভাগ বসাতেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিশেষ করে ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট, খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়ার মতো নেতারা তার পৃষ্ঠপোষকতায়, তার মদদেই যথেচ্ছাচার করতো বলে অভিযোগ রয়েছে।

দ্বিতীয় অভিযোগ রয়েছে যে ক্যা’সিনো বাণিজ্য বা বিভিন্ন অ’পক’র্মগুলোর ব্যাপারে সরকারের পক্ষ থেকে অবহিত করা হলেও তিনি এসব ক্যা’সিনো বাণিজ্যের হোতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছেন।  তৃতীয় অভিযোগ হলো, তিনি টাকার বিনিময়ে কমিটি দিতেন এবং টাকা ছাড়া কোনো কমিটি হতো না, এরকম অভিযোগও তার বিরুদ্ধে উঠেছে।

জানা গেছে যে, গত বুধবার বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের সম্মেলনের প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক চয়ন ইসলাম এবং সদস্য সচিব হারুনুর রশীদ আওয়ামী লীগ সভাপতি এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তারা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রধানমন্ত্রীকে যুবলীগের সম্মেলনের দাওয়াতপত্র তুলে দেন। এসময় শেখ হাসিনা তাদের সঙ্গে যুবলীগের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেন।

আরও পড়ুন:  এবার বালিশ-পর্দার দুর্নীতির বিষয়গুলোর দিকে নজর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে যে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যুবলীগের অব্যাহতি প্রাপ্ত চেয়ারম্যান ওমর ফারুকের ‘অধঃপতনে’ অত্যন্ত ব্যথিত এবং দুঃখিত হয়েছেন। তিনি ওই দুই নেতাকে বলেছেন যে, ‘ওমর যে এতো পঁচে গেছে, জানতাম না। তোমরাও আমাকে বলোনি, কেন?’ প্রধানমন্ত্রী দুঃখ করে বলেন যে, আমার পীরগঞ্জের কমিটি করার জন্য ওমর টাকা চেয়েছে। পীরগঞ্জের লোকেরা টাকা দেবে কোত্থেকে?

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানাচ্ছে যে তিনি ওই ‍দুই যুবলীগ নেতাকে বলেন যে, ‘তোমরাও আমার কাছে আসোনি। এসব বিষয়গুলো নিয়ে আমাকে কিছু জানাওনি, কেন?’ এর উত্তরে যুবলীগের ওই দুই নেতার পক্ষ থেকে একজন বলেন যে, ‘আপা আমরা তো আপনার কাছে এসব নিয়ে আসতে ভয় পেতাম। কারণ আমরা মনে করতাম এর ফলে হয়ত আপনি রাগ করবেন, যুবলীগের মধ্যে কো’ন্দল হচ্ছে বলে আপনি মনে করবেন। সেজন্যই আমরা মুখ বুজে সহ্য করেছি।’

আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী দুঃখ করে বলেন যে, ‘তোমাদের আপাকে তোমরা এই চিনলা!’ সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, শেখ হাসিনা বলেন যে, ‘আমি বার বার ওমর ফারুককে সতর্ক করেছি, বার বার স’ন্তাসী চাঁ’দাবা’জদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বলেছি। কিন্তু ওমর এই ব্যবস্থাগুলো নেয়নি।’

আরও পড়ুন:  আমি আমার নীতিকে বিসর্জন দেইনি

এই দুইজন নেতার একজন বলেন, ওমর ফারুককে নষ্ট করেছে আনিস (যুবলীগের বহিস্কৃত দপ্তর সম্পাদক)। এ কথা শুনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কেউ কাউকে নষ্ট করতে পারে না। নিজে নষ্ট না হতে চাইলে আরেকজন তাকে নষ্ট করতে পারেনা।’ সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, প্রধানমন্ত্রী আগামীর নেতৃত্বের জন্য বেশকিছু নির্দেশনা দিয়েছেন এবং তিনি ধাপে ধাপে যুবলীগকে একটি পরিশুদ্ধ সংগঠন হিসেবে গড়ে তোলার জন্যও নির্দেশনা দিয়েছেন।

উল্লেখ্য, আগামীকাল বাংলাদেশে আওয়ামী যুবলীগের সপ্তম কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হবে। এই কংগ্রেসে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জানা গেছে, সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশনেই কমিটি চূড়ান্ত করা হবে। বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের ইতিহাসে কখনো নির্বাচনের মাধ্যমে কমিটি ঘোষণা করা হয়নি। এবারও নির্বাচন ছাড়াই কমিটি হবে বলে সংশ্লিষ্ট মহল আভাস দিয়েছে।

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সর্বশেষ আপডেট:

  • 250
    Shares