প্রচ্ছদ এক্সক্লুসিভ গঠিত হচ্ছে ‘বিকল্প বিএনপি’,পদত্যাগ করতে পারেন বিএনপির ১০ কেন্দ্রীয় নেতা

গঠিত হচ্ছে ‘বিকল্প বিএনপি’,পদত্যাগ করতে পারেন বিএনপির ১০ কেন্দ্রীয় নেতা

404
পড়া যাবে: 2 মিনিটে

বিএনপি থেকে সাম্প্রতিক সময় যেসমস্ত নেতৃবৃন্দ বেড়িয়ে যাচ্ছেন তারা দল ত্যাগ করে চুপচাপ বসে থাকছেন না। বরং একটা নতুন দল তৈরী করার প্রক্রিয়া শুরু করেছেন। এই দলের মূল বিষয়টি হচ্ছে তারেক, ভারত এবং জামাত বিরোধীতা। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, দেশের সুশীল সমাজের একটি অংশ এই নতুন রাজনৈতিক দলকে পৃষ্ঠপোষকতা দিচ্ছে। এই নতুন দলকে পৃষ্ঠপোষকতা দিচ্ছে মার্কিন দূতাবাসসহ কয়েঢকটি বিদেশি রাষ্ট্রদূতও।

উল্লেখ্য যে, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জে. মাহবুবুর রহমান, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজুর রহমানসহ একাধিক শীর্ষ নেতা সম্প্রতি বিএনপি থেকে পদত্যাগ করেছেন। যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপি এই পদত্যাগের ব্যাপারে মুখ খুলেননি। অন্যদিকে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলনকে অন্য প্ল্যাটফর্ম থেকে বেগমান করতে গিয়ে কর্ণেল অলির ঘর পুড়েছে। বিভক্ত হয়েছে কর্ণেল অলির এলডিপি। বিকল্প ধারা বাংলাদেশের চেয়ারম্যান অধ্যাপক বদরুদ্দোজা চৌধুরীর সন্তান এখন দুদকের তদন্তের মুখোমুখি রয়েছেন। এই সমস্ত বাস্তবতার ভিত্তিতে বাংলাদেশের রাজনীতিতে নীরবে মেরুকরণ ঘটছে বলে একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে।

বিএনপির একটি দায়িত্বশীল সূত্র বলছে যে, বিএনপি থেকে উদারপন্থী যারা জামাত বিরোধীতা করে, তারেকের কর্তৃত্বর ব্যাপারে নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে এরকম অন্তত ১০ জন নেতা বিএনপি থেকে পদত্যাগ করতে পারেন। এদের মধ্যে স্থায়ী কমিটির অন্তত ৩ জন সদস্য রয়েছেন। এদের মধ্যে ড. আব্দুল মঈন খান অন্যতম। তার কথা এখন বিএনপিতে প্রকাশ্যেই আলোচনা হচ্ছে যে তিনি যেকোন সময় পদত্যাগ করতে পারেন।

আরও পড়ুন:  রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত ,হার্ডলাইনে সরকার-বিএনপি

অন্য একটি সূত্র বলছে, মঈন খান ইতিমধ্যেই পদত্যাগ করেছেন। কিন্তু বিএনপির হাইকমাণ্ড তার সঙ্গে বোঝাপড়া করছে এবং তাকে বোঝানোর চেষ্টা করছে। এছাড়াও বিএনপিতে বিভিন্ন স্তরের যারা জামাত বিরোধী হিসাবে পরিচিত। যারা জামাতের সঙ্গে গাটছাড়া বাধতে চায় না এবং যারা তারেক জিয়াকে দলের জন্য ক্ষতিকর মনে করছেন এবং তারেক জিয়ার কর্তৃত্ব এবং খারাপ আচরণের জন্য ক্ষুব্ধ হয়ে উঠে তারা দল ত্যাগ করছেন।

তবে একটি রাজনৈতিক সূত্র বলছে, বিএনপির এই দলত্যাগ যে শুধু তারেক জিয়ার প্রতি ক্ষোভ বা জামাতের সঙ্গে সম্পর্ক না গড়া তা নয়। বরং রাজনীতিতে একটি নতুন মেরুকরণের প্রক্রিয়া হিসেবে বিএনপিতে এই পদত্যাগ হচ্ছে। ওই রাজনৈতিক সূত্রটির মতে, বিএনপি- এলডিপির ভাঙন এবং বদরুজ্জোদা চৌধুরীর সঙ্গে হঠাৎ করে সরকারী দলের শীতল সম্পর্ক, সব মিলিয়ে রাজনীতিতে একটা গোপন প্রক্রিয়া চলছে। এই প্রক্রিয়ার মূল লক্ষ্য হলো রাজনীতিতে একটা তৃতীয় শক্তির জন্ম দেওয়া।

৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনের আগে রাজনীতিতে এরকম একটা মেরুকরণ ঘটেছিল। সেখানে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে ঐক্যফ্রন্ট গঠিত হয়েছিল। কিন্তু ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বের ব্যাপারে এখন আস্থাশীল নয় বিএনপির একটি বড় অংশ। ঐক্যফ্রন্টের অনেক নেতারা এখন ড. কামাল হোসেনের আচরণে সন্তুষ্ট নয়। তাছাড়া ড. কামাল হোসেন বয়স্ক এবং অসুস্থ। তিনি অভিবাবক থাকলে রাজনৈতিকভাবে দলকে এগিয়ে নেওয়ার সময় কিংবা শারীরিক অবস্থার কোনটাই তার নেই।

আরও পড়ুন:  খালেদা জিয়ার মুক্তি ও তারেক রহমানের মিথ্যা মা’মলা প্রত্যাহারের দাবিতে বিএনপির মশাল মিছিল

এই বিবেচনা থেকেই জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মাহমুদুর রহমান মান্না, আ.স.ম আব্দুর রব, বিএনপি এবং এলডিপির একটি অংশ, বিকল্পধারা মিলিয়ে একটা মধ্যপন্থার রাজনৈতিক দলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে যে রাজনৈতিক দলটির মূল বিষয় হলো উত্তরাধিকার রাজনীতি, ভারত বিরোধীতা করা এবং জামাতের বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহণ করা। তবে রাজনৈতিক কৌশল হিসাবে এখনই তার প্রকাশ্যে ভারত বিরোধীতা করতে চাইছে না।

তবে অন্য একটি মহল বলছে ভারত বিরোধীতা না করলে বিএনপির যে ভোটব্যাংক সেই ভোটব্যাংক পাওয়া যাবে না। মূলত এটি বিএনপির একটি বিকল্প রাজনৈতিক দল হিসেবে আবির্ভূত হতে যাচ্ছ যাতে শুধু বিএনপি নয়, অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোও থাকবে। এই দল বা জোটটির মূল লক্ষ্য হবে আওয়ামী লীগের বিরোধীতা করা। আওয়ামী লীগের সমালোচনা করা।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, আওয়ামী লীগের বিকল্প হিসেবে বিএনপির অস্তীত্ব বিলুপ্ত হয়েছে। বিএনপি এখন একটি রাজনৈতিক দল হিসেবেই সংগ্রামরত। এরশাদের মৃত্যুর পর রাজনীতিতে জাতীয় পার্টির উপস্থিতিও অনিশ্চিত। এই রাজনৈতিক বাস্তবতায় একটি প্রতিযোগীতা মূলক শক্তিশালী বিরোধী প্লাটফর্ম তৈরীর উদ্যোগ হিসাবেই এই আয়োজন। তবে কবে নাগাদ এই আয়োজন দৃশ্যমান হবে সে ব্যাপারে এখন পর্যন্ত কোন তথ্য পাওয়া যায়নি।

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সর্বশেষ আপডেট:

  • 426
    Shares