প্রচ্ছদ রাজনীতি আওয়ামী লীগ

এবার ঢাকা মহানগর কমিটিকে চমক

154
পড়া যাবে: 2 মিনিটে

বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের কংগ্রেসের মধ্যে দিয়ে আওয়ামী লীগ তার জাতীয় কাউন্সিলের পথে আরেক ধাপ এগিয়ে গেলো। যুবলীগের কংগ্রেসের মধ্যে দিয়ে আওয়ামী লীগের অঙ্গ সংযোগী এবং ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনগুলো সম্মেলন শেষ হলো। এলো নতুন নেতৃত্ব। আওয়ামী লীগের এখন মূল প্রস্তুতি শুরু হবে জাতীয় কাউন্সিলকে ঘিরে। আগামী ২০ ও ২১ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগের জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হবে। অবশ্য এই কাউন্সিলের আগে আগামী সপ্তাহে (৩০ নভেম্বর) আওয়ামী লীগের আরেকটি বড় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবং যেটির দিকে এখন ঢাকা মহানগরের সবার দৃষ্টি।

ঢাকা মহানগর উত্তর এবং দক্ষিণের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে আগামী ৩০ নভেম্বর। আওয়ামী লীগ সভাপতি এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই সম্মেলনের উদ্ধোধন করবেন। যুবলীগের কংগ্রেসের নেতৃত্বে  যেমন চমক দেওয়া হয়েছে সেরকম চমক আসছে ঢাকা মহানগরীতে। আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে, মূলত পাঁচটি বিষয়ের উপর বিবেচনা করে ঢাকা মহানগরীর কমিটি চূড়ান্ত করা হবে।

১. ঢাকা মহানগীরতে বর্তমান সময়ে যারা সমস্ত নেতৃত্বে আছেন, তারা কতটুকু সততা এবং সাংগঠনিক দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে বিগত বছরগুলোতে তা বিবেচনায় আসবে।

২. ঢাকা মহানগর উত্তর এবং দক্ষিণের যারা নেতৃত্বে আছেন বা নেতৃত্ব প্রত্যাশী তাদের বিরুদ্ধে কোন দুর্নীতি, অনিয়ম, টেন্ডার বানিজ্যসহ সন্ত্রাসের কোন অভিযোগ আছে কিনা।

৩. তারা কতদিন যাবত আওয়ামী লীগ করছেন এবং আওয়ামী লীগে তাদের অবদানগুলো কি কি। বিশেষ করে ৭৫ এর ১৫ আগস্ট, ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াতের সময়ে তাদের ভূমিকা, গ্রেনেড হামলার সময় তাদের অবস্থান এবং ওয়ান ইলেভেনের সময় তাদের ভূমিকা বিবেচনা করা হবে নেতৃত্ব বাছাইয়ের সময়ে।

আরও পড়ুন:  জড়িত সংসদ সদস্যদেরও ধরা হবে; গ*ডফাদার ও দু*র্নীতিবা*জদের সাথে কোনো আপস নয়

৪. ঢাকা মহানগরে তাদের সামগ্রীক দক্ষতা কতটুকু এবং মহানগরে তাদের জনপ্রিয়তা কতটুকু সেটা বিবেচনা করা হবে।

৫. সর্বশেষ গত প্রায় ১১ বছরে আওয়ামীলীগ যে ক্ষমতায়, এসময় তারা কিছু পেয়েছে কিনা- যারা কিছু পায়নি বা বঞ্চিত তাদেরকে অগ্রাধীকার দেয়া হবে।

আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে যে, ঢাকা উত্তর এবং দক্ষিণে নেতৃত্ব পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। তবে নতুন নেতৃত্বে কে আসছেন সেটা এখনো চূড়ান্ত নয়। আওয়ামী লীগের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে, ঢাকা মহানগর উত্তরে বর্তমান সভাপতি রহমতউল্লাহ্‌কে নিয়ে কোন দুর্নাম বা অভিযোগ নেই তবে তিনি সাংগঠনিক কাজে তেমন সময় দেন না। অন্যদিকে উত্তরের সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান সাংগঠনিক কাজে বেশ সময় দেন, তার সাংগঠনিক দক্ষতাও রয়েছে। কিন্তু তিনি এবার এমপি হয়েছেন। আওয়ামী লীগ যে নীতি গ্রহণ করেছে, মন্ত্রী এমপিদের কোন কমিটিতে রাখা হবে না। সেই বিবেচনায় সাদেক খান শেষ পর্যন্ত থাকতে পারবেন কিনা তা নিশ্চিত নয়।

দক্ষিণের বর্তমান সভাপতি আবুল হাসনাত তিনিও সাংগঠনিকভাবে প্রায় নিষ্ক্রিয়, দলীয় কর্মকাণ্ডে তিনি সময় দেন না। অন্যদিকে দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম মুরাদের বিরুদ্ধে বেশ কিছু অভিযোগ রয়েছে। তাই তার সাধারণ সম্পাদক হিসেবে না থাকার সম্ভাবনাই বেশি। আওয়ামী লীগের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, নতুন নেতৃত্বের ব্যাপারে আওয়ামী লীগ উদ্যোমী, সাংগঠনিকভাবে দক্ষ এরকম নেতাকর্মীর সন্ধান করছেন। সেই বিবেচনা থেকে আওয়ামী লীগের ঢাকা মহানগর উত্তরের এমন কাউকে সভাপতি করা হতে পারে যিনি জনপ্রিয় এবং সাংগঠনিকভাবে দক্ষ। এক্ষেত্রে মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়ার বিষয়টি সামনে এসেছে। তবে এখনো তা চূড়ান্ত নয়।

আরও পড়ুন:  পরিবর্তনের ঢেউ আওয়ামী লীগে

সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও নেতৃত্বের পরিবর্তন আসার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। অন্যদিকে দক্ষিণের সভাপতি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে এমন কাউকে যে সাংগঠনিক কাজে সময় দিতে পারবেন। যার নেতৃত্ব দেওয়ার যোগ্যতা আছে। সেই বিবেচনা থেকে একাধিক নাম আলোচনায় এসেছে।

আওয়ামী লীগের একটি দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, ঢাকা মহানগরের দক্ষিণের সভাপতি করা হবে যিনি ‘ঢাকাইয়া’। ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেছেন এবং বেড়ে উঠেছেন। এরকম খোঁজার পরিপ্রেক্ষিতে বেশ কয়েকজন এখন আওয়ামী লীগ সভাপতি এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নজড়ে রয়েছেন বলে জানা গেছে।

তবে আওয়ামী লীগের একটি দায়িত্বশীল সূত্র বলছে যে, ঢাকা মহানগর উত্তর এবং দক্ষিণে এবার চমক আসবে। যাদের নিয়ে আলোচনা হচ্ছে তাদের বাইরেও কাউকে নেতৃত্বে আনা হতে পারে। বিশেষ করে সিটি নির্বাচনকে মাথায় রেখে দলের সংগঠনকে শক্তিশালী করতে পারে এরকম কাউকে নেতৃত্বে আনার বিষয়টি ভাবা হচ্ছে। সেটি একটি চমক হিসেবেই থাকবে এবং এই চমকটি দেখাবে আওয়ামী লীগ সভাপতি এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

  • 215
    Shares