প্রচ্ছদ রাজনীতি জাতীয় পার্টি

প্রেসিডেন্ট পার্কে বিদিশার থাকার কোনো অধিকার নেই,তার প্রবেশ অবৈধ

94
পড়া যাবে: 2 মিনিটে

এরশাদের ছোট ছেলে শাহতা জারাব এরিকের দেখশোনা করা নিয়ে মা বিদিশা এরশাদ ও চাচা জি এম কাদেরের পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের মধ্যে সামনে এলেন তার দেখভালে গঠিত ট্রাস্ট্রের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান খালেদ আখতার। তার দাবি, প্রেসিডেন্ট পার্কে বিদিশার প্রবেশ অবৈধ। সেখানে তার থাকার কোনো অধিকার নেই। বারিধারায় এরশাদের বাসভবন প্রেসিডেন্ট পার্কে এখন বিদিশার অবস্থানের কারণে এরিকের জানমালের ক্ষতির শঙ্কা জানিয়ে আজ শনিবার সন্ধ্যায় গুলশান থানায় জিডি করেছেন খালেদ আখতার।

এর আগে আজ বিকেলে বনানীতে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্য খালেদ আখতার বলেন, ‘ট্রাস্টের নিয়ম অনুযায়ী এরিক এরশাদ তার মা বিদিশাকে নিয়ে প্রেসিডেন্ট পার্কে অবস্থান করতে পারবেন না। এরিকের এখানে চাওয়ার কোনো এখতিয়ার নাই। এরিকের সমুদয় দায়িত্ব ট্রাস্টের। আপনারা অনুসন্ধান করে দেখেন, এটা তার নিজস্ব বক্তব্য না।”

গত জুলাইতে মৃত্যুর আগে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ তার সমুদয় সম্পত্তি দান করে যান ট্রাস্টে। ছেলে এরিকের দেখভাল করার জন্য এই ট্রাস্ট গঠন করা হয়। ট্রাস্টের সদস্য হিসেবে এরিক আর ভাতিজা খালেদ আখতারকে রাখলেও ভাই জি এম কাদেরকে রাখেননি এরশাদ।

এরশাদের মৃত্যুর পর এরিকের দেখভাল ঠিকমতো হচ্ছে না অভিযোগ এনে গত ১৪ নভেম্বর বিদিশা চলে আসেন প্রেসিডেন্ট পার্কে। এরপর থেকে বারিধারার দূতাবাস রোডের এই বাড়িতেই ছেলের সঙ্গে থাকছেন তিনি।

আরও পড়ুন:  আবার দেখা হবে হয়তো অন্য এক দুনিয়া তে যেখানে থাকবেনা কোনো রাজনীতি

বিদিশা বলছেন, ‘প্রেসিডেন্ট পার্কের কর্মীরা এরিকের ওপর “শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন” করছেন এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে তিনি ছেলের কাছে ছুটে আসেন। “নিরাপত্তাহীনতায়” ভুগতে থাকা এরিক এরশাদও তার মায়ের সাথে থাকবেন জানিয়ে গত ১৮ নভেম্বর গুলশান থানায় এক জিডি করেন।’

এরপর গত শুক্রবার প্রেসিডেন্ট পার্কে এক সংবাদ সম্মেলনে বিদিশা অভিযোগ করেন, ‘ভাতিজার দেখভালের জন্য নয়, এরিকের সম্পত্তি ভোগদখল করার জন্যই জি এম কাদের “রাজনীতি করছেন”।’

তার জবাবে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার হুমকি দেন জি এম কাদের। এর পরদিন বিষয়টি নিয়ে সাংবাদিকদের সামনে এলেন এরিকের দেখভালের দায়িত্বে থাকা ট্রাস্টের সদস্যরা।

বিদিশার প্রেসিডেন্ট পার্কে ঢুকে পড়াকে ‘অবৈধ অনুপ্রবেশ’ আখ্যা দেন ট্রাস্টের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান খালেদ আখতার। তিনি বলেন, ‘বিদিশার এ প্রবেশ অনধিকার প্রবেশ, বেআইনি। সেখানে (প্রেসিডেন্ট পার্কে) তাকে ঢোকানোর কোনো অধিকার এরিকের নাই। ট্রাস্টের যে ডকুমেন্ট, তার বাবা সে অধিকার তাকে দিয়ে যায় নাই। অন্যখানে থাকুক গে, এখানে থাকবে না।’

তিনি বলেন, ‘এরিকের দেখভালের দায়িত্ব ট্রাস্টের। ট্রাস্ট ডিসিশন নেবে, এখানে কে থাকবে। এরিক যদি মাকে নিয়ে থাকতে চায়, তবে অন্যখানে থাকতে পারবে, কিন্তু এখানে থাকতে পারবে না।’

গুলশান থানায় জিডির কথা তুলে ধরে খালেদ বলেন, ‘ট্রাস্টের উক্ত সম্পত্তিতে বিদিশা সিদ্দিকের প্রবেশ করার আইনগত কোনো অধিকার নাই। একজন অবৈধ অনুপ্রবেশকারী হিসেবে অবস্থান করে বিদিশা সিদ্দিক জাতীয় পার্টির বর্তমান চেয়ারম্যান সম্পর্কে অনাকাঙ্ক্ষিত ও মানহানিকর বক্তব্য দিয়ে আসছে। শুধু তাই নয়, তিনি এরিক এরশাদকে প্রভাবিত করে তাকে দিয়েও অনাকাঙ্ক্ষিত বক্তব্য প্রচার করে আসছেন।’

আরও পড়ুন:  যেভাবে এরশাদের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পরেছিলেন বিদিশা!

সাংবাদিকের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘একবার অভিভাবকত্বের মামলা করে বিদিশা হেরে গেছে। এখন যদি সে মা হিসেবে আবার আইনের আশ্রয় নেয়, তাহলে আমরা দেখব আইনিভাবে পরবর্তী পদক্ষেপ কী নেওয়া যায়।’

ছেলে এরিকের অভিভাবকত্ব নিয়ে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলেছেন বিদিশাও। সে বিষয়ে খালেদ আখতার বলেন, ‘আমরা মনে করি, আমরা এখনও এরিকের অভিভাবক। বিদিশা এখন সাময়িক অবস্থান করছেন। সেটার তো কোনো আইনগত ভিত্তি নাই। এখন অভিভাবকত্ব নিয়ে তারা যদি আইনের দিকে যায়, আমরা মোকাবেলা করব।“

২০০৫ সালে এরশাদ ও বিদিশার বিবাহ বিচ্ছেদের পর ২০০৯ সালে এরিকের অভিভাবকত্বের দাবিতে আদালতে যান বিদিশা। পরে ২০১১ সালে আসে রায়। সে রায়ে হেরে যান বিদিশা। অটিস্টিক এরিক বড় হতে থাকেন এরশাদের প্রেসিডেন্ট পার্কে।

এরশাদ মারা যাওয়ার আগে এরিকের নামে এফডিআর, বারিধারার দূতাবাস রোডের প্রেসিডেন্ট পার্ক, গুলশানে একটি আবাসিক ফ্ল্যাট, রংপুরের পল্লী নিবাস, একটি কোল্ড স্টোরেজ, কামাল আতাতুর্ক এভিনিউতে ইউএই মার্কেটে একটি দোকান রেখে গেছেন। খালেদ আখতার জানান, এই সম্পত্তির অর্থমূল্য ’৫০ থেকে ৬০ কোটি টাকা।’

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

  • 144
    Shares