প্রচ্ছদ বাংলাদেশ জেলা

এবার পরীক্ষায় নকল সরবরাহে বাধা দেওয়ায় পুলিশকে পে’টালেন যুবলীগ সভাপতি

112
পড়া যাবে: 2 মিনিটে

প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিইসি) পরীক্ষায় কেন্দ্রে নকল সরবরাহে বাধা দেওয়ায় পুলিশ সদস্যকে পে’টালেন ব্রা‏হ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরের ছলিমাবাদ ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি মোজাম্মেল হক অপু। এতে কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য নজরুল ইসলামকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। রোববার দুপুর ১২টার দিকে ব্রা‏হ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরের ছলিমাবাদ আদর্শ বিদ্যালয় কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় কেন্দ্র সচিব পারভীন আক্তার বা’দী হয়ে মোজাম্মেল হক অপুকে প্রধান আ’সামি ও ২০/৩০ জনের বিরুদ্ধে বাঞ্ছারামপুর মডেল থানায় একটি মা’মলা দা’য়ের করেছেন।

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, বাঞ্ছারামপুর উপজেলার ছলিমাবাদ আদর্শ বিদ্যালয় কেন্দ্রের প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার গণিত বিষয়ে পরীক্ষা চলছিল। পরীক্ষা চলাকালে ছলিমাবাদ ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি মির্জা মোজাম্মেল হক অপু তার ভাগিনাকে ন’কল সরবরাহ করতে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে চাইলে কর্তব্যরত পুলিশ সদস্য নজরুল ইসলাম তাকে বাধা দেন।

এতে অপু ক্ষিপ্ত হয়ে পুলিশ সদস্যকে ধাক্কা মে’রে দেখে নেয়ার হু’মকি দিয়ে চলে যায়। কিছুক্ষণ পর ২০-৩০ জন লোক নিয়ে কেন্দ্রে প্রবেশ করে পুলিশ সদস্য নজরুল ইসলামকে এলোপাতাড়ি মা’রতে শুরু করে। এ সময় তিনটি খাতা ছিঁড়ে ফেলেন। কেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও শিক্ষকরা এগিয়ে এসে ওই পুলিশ সদস্যকে উদ্ধার করেন। এ ঘটনার খবর পেয়ে বাঞ্ছারামপুর মডেল থানার ওসি সালাহ উদ্দিন চৌধুরীর নেতৃত্বে একদল পুলিশ গিয়ে তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেন। এ ঘটনার পর থেকে মোবাইল বন্ধ করে যুবলীগ সভাপতি অপু পলাতক রয়েছে।

আরও পড়ুন:  ‘চি*ৎকার করলেই হাত বেঁ*ধে অন্ধকার কক্ষে তালা দিয়ে রাখতো’

পুলিশ সদস্য নজরুল ইসলাম জানান, একজন ব্যক্তি কেন্দ্রে ন’কল নিয়ে প্রবেশ করতে গেলে আমি বাধা দেই। এতে সে ক্’ষিপ্ত হয়ে উঠে এবং আমাকে ধাক্কা মে’রে চলে যায়। কিছুক্ষণ পর সে ৬০-৭০ জন লোক নিয়ে এসে কেন্দ্রের ভিতরে আমার ওপর হা’মলা চা’লায়। এ সময় তারা আমাকে কি’ল-ঘু’ষি ও লা’থি মা’রে।

তিনি বলেন, কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও শিক্ষকরা আমাকে তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করে। পরে ওসি স্যার গিয়ে আমাকে নিয়ে আসে এবং হাসপাতালে চিকিৎসা করান। যে হা’মলা করেছিল তার নাম পরে জানতে পারি। এ বিষয়ে ছলিমাবাদ আদর্শ উচ্চবিদ্যালয়ের কেন্দ্র সচিব পারভীন আক্তার জানান, আমি স্কুলে আমার কক্ষে বসা ছিলাম। চেঁচামেচি শুনে বাইরে গিয়ে দেখি অনেক লোকজন কেন্দ্রের ভিতর প্রবেশ করেছে। এবং পুলিশ সদস্যকে মা’রধো’র করছে ও তিনটি খাতা ছিঁড়ে ফেলেছে। আমি এ ঘটনায় থা’নায় একটি এজাহার জমা দিয়েছি।

আরও পড়ুন:  দপ্তরিকে মা*রধর করে কানের পর্দা ফা*টিয়ে পকেটে ই*য়াবা ঢুকিয়ে ফাঁ*সানোর চেষ্টা

ছলিমাবাদ আদর্শ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কবির হোসেন জানান, ন’কল সরবরাহ করতে বাধা দেয়ায় ক্ষি’প্ত হয়ে অপু নামের একজন পুলিশ সদস্য নজরুল ইসলামের ওপর হা’মলা চালায়। আমি গিয়ে তাকে উদ্ধার করি। এরা সংখ্যায় ৩০-৪০ জন ছিল। তারা তিনটি খাতাও ছিড়েঁ ফেলে। এ ব্যাপারে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা নৌসাদ মাহমুদ বলেন, যুবলীগ নেতা অপুকে ন’কল সরবরাহে বাধা দেয়ায় তিনি দলবল নিয়ে এসে পুলিশকে মা’রধ’র করে। এটা খুবই দুঃখজনক ঘটনা।

এই বিষয়ে বাঞ্ছারামপুর থানার ওসি সালাহ উদ্দিন চৌধুরী জানান, ছলিমাবাদ কেন্দ্রে অপু নামের এক লোক কেন্দ্রে নকল সরবরাহ করতে গেলে আমাদের পুলিশ সদস্য নজরুল ইসলাম বাধা দেয়ায় তাকে মা’রধ’র করে। খবর পেয়ে আমি গিয়ে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে চিকিৎসা করাই।

এ ঘটনায় কেন্দ্রে সচিব বাদী হয়ে একটি এজাহার জমা দিয়েছেন, মা’মলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে তিনি জানান। এ বিষয়ে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন সরোয়ার জানান, আমি বর্তমানে ট্রেনিং-এ আছি। আজকে ছলিমাবাদ প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা কেন্দ্রে পুলিশকে মারধরের ঘটনা আমি শুনেছি।

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

  • 864
    Shares