প্রচ্ছদ বাংলাদেশ উপজেলা

মানসিক চিকিৎসা কেন্দ্রে যুবককে হ’ত্যা,ভিডিও ভাইরাল

161
পড়া যাবে: 2 মিনিটে

কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার সমর্পণ মা’দকাস’ক্তি, মানসিক চিকিৎসা সহায়তা ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে এক কলেজছাত্রকে (১৮) নি’র্মমভা’বে ‘হ’ত্যা’ করা হয়েছে।গত বুধবারের (২০ নভেম্বর) এ ঘটনার একটি ভিডিওচিত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। হ’ত্যাকা’ণ্ডের শি’কার ওই যুবকের নাম কামরুজ্জামান ওরফে ইমন।

ইমনের বাড়ি মিরপুর উপজেলার ধুবইল ইউনিয়নের কাদিরপুর গ্রামে। তিনি রাজশাহী সিটি কলেজের উচ্চ মাধ্যমিক দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন।  গতকাল মঙ্গলবার ফেসবুকে ইমনকে মা’রধ’র ও শ’রীরে ই’নজেকশ’ন প্রয়োগের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে।ইমনকে হ’ত্যার পর ঘটনাটি চেপে যায় মানসিক চিকিৎসা সহায়তা কেন্দ্র। ইমনের পরিবারকে বলা হয় স্ট্রো’কে তার মৃ’ত্যু হয়েছে। এ কারণে ম’য়নাত’দন্ত ছাড়াই লা’শ দাফন করে তার পরিবার।

ইমনের পরিবার মারফত জানা গেছে, দুই ভাই-বোন মিলে রাজশাহীতে একটি বাসায় ভাড়া থাকতে তারা। চলতি মাসের প্রথম দিকে  অস্বাভাবিক আচরণ করতে শুরু করেন ইমন। মা’নসিক সমস্যা হয়েছে ভেবে তাকে প্রথমে পাবনাতে চিকিৎসা করানো হয়। সেখানকার চিকিৎসক ব্যবস্থাপত্র লিখে ইমনকে বাড়ি পাঠিয়ে দেন।

বাড়িতে এসেও স্বাভাবিক হতে পারেননি ইমন। নানারকম সমস্যা করতে শুরু করেন। পরে গত মঙ্গলবার তাকে মিরপুর উপজেলার সমর্পণ মা’দকাস’ক্তি, মা’নসিক চিকিৎসা সহায়তা ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়। পরদিন বুধবার কেন্দ্র থেকে ইমনের পরিবারকে মোবাইলে ফোন দিয়ে বলা হয়, তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। ইমনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। ফোন পেয়ে ইমনের বাবা এজাজুল আজিম মিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে ছেলের লা’শ দেখতে পান।

আরও পড়ুন:  আমাকে মা*রছে,আমার ভাবিকে মা*রছে? ২মি*নিটে জা*নাযা শে*ষ করতে বলেন কিভাবে?

এজাজুল আজিম জানান, সমর্পণ নামে মানসিক চিকিৎসা সহায়তা কেন্দ্র থেকে তাকে জানানো হয়েছে রাতে ইমন স্ট্রো’ক করে। এ কারণে তার মৃ’ত্যু হয়েছে। তাই তিনি ম’য়নাত’দন্ত ছাড়া লা’শ দা’ফনের জন্য নিয়ে যান। গতকাল মঙ্গলবার সমর্পণ মা’নসিক চিকিৎসা সহায়তা কেন্দ্রের একটি সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেন এজাজুল আজিম। যাতে দেখা যায়, ইমনের হাত-পা বেঁধে তাকে মা’রধ’র করা হচ্ছে। একপর্যায়ে তার শরীরে কয়েক দফায় ই’নজে’কশন পু’শ করা হয়।

ভিডিওতে দেখা গেছে, ১৯ নভেম্বর দুপুর ১২টা থেকে বেলা দেড়টা পর্যন্ত কয়েক দফায় ঘরের মেঝেতে ফেলে মা’রধ’র করা হয় ইমনকে। ফুটেজে তার হাত ও পা কাপড় দিয়ে বাঁধা দেখা যায়। কেন্দ্রের তত্ত্বাবধায়ক আবদুল মতিন শরীরে ই’নজেকশ’ন দেন। ইনজেকশন দেওয়ার সময় তার হাত-পা বাঁধা ছিল। এ সময় কয়েকজন তার বুক ও গলা চেপে ছিলেন।

নি’হত ইমনের বড় বোন রোকসানা পারভীন জানান, তিনি তার ভাইকে কখনও ধূ’মপান করতেও দেখেননি। মানসিক সমস্যা হচ্ছে চিন্তা করে তাকে ভাইকে সমর্পণ মা’দকাস’ক্তি, মানসিক চিকিৎসা সহায়তা ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়।  কিন্তু সেখানে তাকে হ’ত্যা করা হবে সেটা ভাবতে পারেননি তিনি।

ছেলে হারিয়ে শোকে পাগল ইমনের মা কামরুন্নাহার। তিনি জানান, ছেলেকে সুস্থ করার জন্য মানসিক কেন্দ্রে পাঠিয়েছিলেন।  কিন্তু তার লা’শ হাতে পেলেন।  ইমনকে নি’র্যতন করে মে’রে ফে’লা হয়েছে বলে দাবি তার।

আরও পড়ুন:  ড. কামাল হোসেন বিএনপি-জামায়াতের লেজ

সমর্পণ মা’দকাস’ক্তি, মানসিক চিকিৎসা সহায়তা ও পুনর্বাসন কেন্দ্রের তত্ত্বাবধায়ক আবদুল মতিনের সঙ্গে কথা হেলে তিনি জানান, ইমনের খারাপ অবস্থা দেখে স্থানীয় এক চিকিৎসককে ফোন করেন তিনি। এমবিবিএস পাশ করা ওই চিকিৎসক তাকে ঘুমের ই’নজেক’শন দেওয়ার পরামর্শ দেন। পরে তিনি ইমনকে দুটি ইনজেকশন দেন। পেরে ইমন ঘুমিয়ে পড়েন।

নি’হতকে মা’রধরের কথা জানতে চাইলে বিষয়টি অস্বীকার করেন আবদুল মতিন।

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন

এ বিষয়ে মিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা সেলিম উদ্দিন জানান, বেলা ১১টার দিকে ইমনকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তিনি মৃ’তপ্রায় ছিলেন। তবে কী কারণে তার মৃ’ত্যু হয়েছে, ম’য়নাত’দন্ত ছাড়া বলা যাবে না।

এ দিকে রোগীর মৃ’ত্যুর ঘটনা সিলগালা করে দেওয়া হয় সমর্পণ মা’দকাস’ক্তি, মানসিক চিকিৎসা সহায়তা ও পুনর্বাসন কেন্দ্রটি। এ ছাড়া এ ঘটনায় ঢাকায় অধিদপ্তরে একটি প্রতিবেদন দেওয়া হবে বলে জানান ঝিনাইদহ মা’দকদ্র’ব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব কুষ্টিয়া) আজিজুল হক।

মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম বলেন, ‘ঘটনার সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মালিককে জি’জ্ঞাসাবা’দের জন্য ডাকা হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

  • 496
    Shares