প্রচ্ছদ বাংলাদেশ উপজেলা

কুমিল্লায় বাবাকে হ’ত্যার ভয় দেখিয়ে সৎ বোনের সঙ্গে লাগাতার যৌ’নমি’লন,দুবার অ’ন্তঃসত্ত্বা

164
পড়া যাবে: 3 মিনিটে

দিনের পর দিন সৎ ভাই মেহেদি হাসানের (২২) কাছে শারীরিক নি’র্যাতনে’র শি’কার হয়ে আসছিল নবম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রী (১৫)। এতে একবার নয়, দুবার অ’ন্তঃস’ত্ত্বা  হয়ে পড়ে সে। ঘটনা কাউকে জানালে তাকে ও তার বাবাকে হ’ত্যার হু’মকিও দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীর।

ঘটনাটি ঘটেছে কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলায়। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সৎ ভাই মেহেদি হাসান (২২) ওই স্কুলছাত্রীকে শা’রীরিক সম্পর্কে বাধ্য করে। এতে প্রথমেও একবার অ’ন্তঃস’ত্ত্বা হয় সে। স’ন্তান প্রসবের পর মেহেদি তাকেও হ’ত্যা করে বলে অভিযোগ রয়েছে।

ভুক্তভোগী মেয়েটি জানায়, তাদের মা বিষয়টি জানার পর তার পায়ে পড়ে মাফ চেয়ে এমন কাজ দ্বিতীয়বার না করার কথা দেয় সে। কিন্তু দ্বিতীয়বারও বোনকে জোর করে শা’রীরি’ক সম্পর্কে বাধ্য করে মেহেদি। এতে করে ফের অ’ন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে ভুক্তভোগী।

এমন ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর ভুক্তভোগীর বাড়ি গিয়ে কথা হলে মেহেদির বাবা  জানান, ১২ বছর আগে পাঁচ মেয়ে ও দুই ছেলে রেখে মারা যান তার স্ত্রী। পরে তিনি পাশের ইউনিয়নের এক বিধবা নারীকে বিয়ে করেন। সেই নারীর একটি মেয়ে (ভুক্তভোগী) থাকায় তাকেসহ বাড়িতে তোলেন তিনি।

মেহেদির বাবা আরও জানান, পাঁচ মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে। তারা শ্বশুরবাড়ি থাকেন। বড় ছেলে তাবলীগ জামায়াতে থাকায় দুটি ঘরের একটি বাড়ি বানিয়ে সেখানে বসবাস শুরু করেন তারা। একটি ঘরে স্ত্রীসহ তিনি এবং অন্য ঘরে থাকত মেহেদি ও তার এই বোন (ভুক্তভোগী)। দুজনই শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে মেহেদি কলেজছাত্র ও ভুক্তভোগী নবম শ্রেণির স্কুল ছাত্রী।

আরও পড়ুন:  র‍্যাব পরিচয় দেয়ার পরও নি’র্যাতন চালায় ভারতীয়রা!

ভুক্তভোগী ওই মেয়ে জানায়, ইংরেজিতে পারদর্শী হওয়ায় বড় ভাইকে মাঝে মাঝে পড়াতো সে। একসঙ্গে পড়তে বসায় মেহেদি তার দিকে কুনজর দিতো। পড়ার সময় মজার ছলে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে হাত দিতো। একদিন কু’প্রস্তাব দেয় সে। রাজি না হলে প্রাণে মেরে ফেলার হু’মকিও দেয় মেহেদি।

ওই স্কুল ছাত্রী বলে, ‘একদিন মেহেদি আমাকে কু ’প্রস্তাব দেয়। রাজি না হলে বাবাকে মে’রে ফেলে মায়ের কাঁধে দোষ চাপানোর কথা বলে। এই ভয়ে আমি কিছু বলতে পারতাম না। বিভিন্ন সময় শরীরের স্প’র্শকা’তর স্থানে হাত দিতো মেহেদি। একদিন ঘরে কেউ না থাকায় জো’র করে শা’রীরিক সম্পর্কে বাধ্য করে আমাকে।’

ওই মেয়ে জানায়, এরপর থেকে লাগাতার তার সঙ্গে শা’রীরি’ক সম্পর্ক করত মেহেদি। বাবাকে হ’ত্যা করা ছাড়াও বিভিন্ন হু’মকি দেওয়ায় নি’র্যাতন মুখ বুঝে সহ্য করত। এর মধ্যে একবার অ’ন্তঃস’ত্ত্বা হয়ে পড়ে সে। মেহেদি তার পেটের বাচ্চা নষ্ট করার জন্য বিভিন্নরকম ওষুধ খাওয়াতো। একদিন তাদের মা বিষয়টি বুঝতে পেরে মেয়েকে জি’জ্ঞাসাবা’দ করেন। তখন সে মাকে পুরো বিষয়টি খুলে বলে। ছেলেকে প্রশ্ন করতেই মায়ের পা ধরে নিজের ভুল শি’কার করে মেহেদি। তার মেয়েকে বিয়ে করবে বলেও প্রতিশ্রুতি দেয় মেহেদি।

ভুক্তভোগী জানায়, বাচ্চা নষ্ট হয়েছে ধারণা ছিল মেহেদির। কিন্তু গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর রাত ১০টার দিকে প্র’সব ব্যাথা ওঠে তার। রাতেই নিজের ঘরে একটি ছেলে সন্তান জন্ম দেয় সে। এদিকে সন্তান জন্ম নেওয়ায় বিপাকে পড়ে মেহেদি। পরে মায়ের কোল থেকে সন্তানকে কেড়ে নিয়ে যায় সে। ভুক্তভোগীর অভিযোগ, ‘তার সন্তানকে হ’ত্যা করেছে মেহেদি।’

আরও পড়ুন:  কুমিল্লার মামলায় খালেদা জিয়ার জামিন বহাল

ওই স্কুলছাত্রী আরও জানান, মাকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি মোতাবেক তাকে বিয়ে করবে দোহাই দেখিয়ে আবারও তার সঙ্গে জোরপূর্বক শা’রীরিক সম্পর্ক করে মেহেদি। বর্তমানে সে দুমাসের অন্তঃসত্ত্বা। এই খবর পেয়ে পালিয়ে যায় মেহেদি। অজ্ঞাত স্থান থেকে বিভিন্ন নম্বারের মাধ্যমে কল দিয়ে ঘটনা কাউকে জানালে প্রাণে মে’রে ফেলবে বলে ভুক্তভোগীকে হু’মকি দিচ্ছে সে।

বিষয়টি নিয়ে মেহেদির বড় বোনের সঙ্গে কথা বলতে তার মুঠোফোনে কল করা হলে রাগান্বিত হয়ে তিনি বলেন, ‘কে আপনি? আপনি এত কিছু জানেন কীভাবে?’ এরপর সাংবাদিক পরিচয় দিলে ফোন কেটে দেন তিনি। এ বিষয়ে মেহেদির বাবা জানান, তিনি ঘটনাটি জানেন। এ কারণে ছেলের সঙ্গে তার তেমন সম্পর্ক নেই।

মেহেদির বাবা বলেন, ‘এমন কুলাঙ্গার ছেলে যেন কারও ঘরে জন্ম না নেয়। সে আমাকেও মে’রে ফেলার হু’মকি দিচ্ছে। আমি আইনের আশ্রয় নেব।’ বিষয়টি নিয়ে রাজামেহার ইউনিয়ন চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনা আমার ইউনিয়নে হচ্ছে আমার জানা নেই। আমি খোঁজ-খবর নিচ্ছি। এ ব্যাপারে ভুক্তভোগীকে যেকোনো সহায়তা করা হবে।’

এ বিষয়ে দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জহিরুল আনোয়ার বলেন, ‘ভুক্তভোগীর পরিবার থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে ভুক্তভোগীকে যেকোনো আইনি সহায়তা দেওয়া হবে।’

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

  • 63
    Shares