প্রচ্ছদ আইন-আদালত বা’সচা’পায় রাজীব ও দিয়া নি’হতের মামলার রায় প্রদান

বা’সচা’পায় রাজীব ও দিয়া নি’হতের মামলার রায় প্রদান

45
পড়া যাবে: 2 মিনিটে

রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে বাসচাপায় শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র আবদুল করিম রাজীব (১৭) ও একাদশ শ্রেণির ছাত্রী দিয়া খানম মিম (১৬) নি’হতের ঘটনায় করা মা’মলায় জাবালে নূর পরিবহনের চালকসহ তিনজনের যাব’জ্জীবন কারাদ’ণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আ’দালত। রোববার (১ ডিসেম্বর) ঢাকা মহানগর দায়রা জজ ইম’রুল কায়েশ এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার আগে কারাগার থেকে জাবালে নূর পরিবহনের মালিক জাহাঙ্গীর আলম, দুই চালক মাসুম বিল্লাহ ও জুবায়ের সুমন এবং তাদের সহকারী এনায়েত হোসেনকে আ’দালতে হাজির করা হয়।

এর আগে ১৪ নভেম্বর রাষ্ট্র ও আ’সামিপক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষে রায় ঘোষণার জন্য ঢাকা মহানগর দায়রা জজ ইম’রুল কায়েশ ১ ডিসেম্বর দিন ধার্য করেন। এ মা’মলায় ৪১ সাক্ষীর মধ্যে ৩৭ জন সাক্ষ্য দেন।

মা’মলার অ’ভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০১৮ সালের ২৯ জুলাই রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কের কুর্মিটোলা জেনারেল হাস*পাতালের সামনে এমইএস বাসস্ট্যান্ডে জাবালে নূর পরিবহনের দুই বাসের রেষারেষিতে বাসচাপায় নি’হত হন শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র আবদুল করিম রাজীব (১৭) ও একাদশ শ্রেণির ছাত্রী দিয়া খানম মিম (১৬)। ঘটনার দিনই নি’হত মিমের বাবা জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে ক্যান্টনমেন্ট থানায় মা’মলা করেন।

২০১৮ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ঢাকা মুখ্য মহানগর হাকিম আ’দালতে মা’মলার ত’দন্ত কর্মক’র্তা (আইও) গোয়েন্দা পু’লিশের (ডিবি) পরিদর্শক কাজী শরিফুল ইস’লাম অ’ভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমা দেন। ২৫ অক্টোবর ঢাকা মহানগর দায়রা জজ ইম’রুল কায়েশ আ’সামিদের অব্যাহতির আবেদন না মঞ্জুর করে তাদের বি’রুদ্ধে অ’ভিযোগ (চার্জ) গঠন করেন।

অ’ভিযোগপত্রে বলা হয়, ঘটনার দিন-দুপুরে চালক ও তাদের সহকারীরা বেশি লোক ওঠানোর লো’ভে যাত্রীদের কথা না শুনে এবং তাদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা না করে জিল্লুর রহমান উড়াল সড়কের ঢালের সামনে রাস্তা ব্লক করে দাঁড়ান। এ সময় আরেকটি বাসের চালক মাসুম বিল্লাহ রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের ১৪-১৫ শিক্ষার্থীর ওপর গাড়িটি উঠিয়ে দেন। ঘটনাস্থলেই দুই শিক্ষার্থী নি’হত হন। আ’হত হন নয়জন।

জাবালে নূরের যে তিন বাসের রেষারেষিতে ওই দুর্ঘ’টনা ঘটে, সেগুলোর নিবন্ধন নম্বর হলো- ঢাকা-মেট্রো-ব-১১-৯২৯৭, ঢাকা-মেট্রো-ব-১১-৭৬৫৭ এবং ঢাকা-মেট্রো-ব-১১-৭৫৮০। এর মধ্যে ঢাকা-মেট্রো-ব-১১-৯২৯৭ নম্বর বাসের চাপায় নি’হত হয় দুই শিক্ষার্থী। বাসটি চালাচ্ছিলেন মাসুম বিল্লাহ।

ঢাকা-মেট্রো-ব-১১-৭৬৫৭ নম্বর বাসের চালক ছিলেন জুবায়ের এবং ঢাকা-মেট্রো-ব-১১-৭৫৮০ নম্বর বাসের চালক ছিলেন সোহাগ। মা’মলায় আ’সামি করা হয় ছয়জনকে। তাদের মধ্যে জাবালে নূর পরিবহনের মালিক জাহাঙ্গীর আলম, দুই চালক মাসুম বিল্লাহ ও জুবায়ের সুমন এবং তাদের সহকারী এনায়েত হোসেন কারাগারে। জাবালে নূর পরিবহনের আরেক মালিক শাহাদাত হোসেন জামিনে রয়েছেন। তার পক্ষে মা’মলা উচ্চ আ’দালতের নির্দেশে স্থগিত রয়েছে। চালকের সহকারী কাজী আসাদ এখনও পলাতক।

রাজীব-দিয়ার নি’র্মম ওই মৃ’ত্যুর প্রতিবাদে এবং নিরাপদ সড়কের দাবিতে রাস্তায় নেমে আসেন বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। ঢাকা শহরের প্রধান প্রধান সড়কগুলো অবরোধ করেন তারা। এমনকি কী’ভাবে সড়কের শৃঙ্খলা ফেরাতে হয় সেটিও চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেন তারা। ওই সময় শিক্ষার্থীদের দাবিগুলোর অন্যতম ছিল- বেপরোয়া গাড়ি চালিয়ে দুই শিক্ষার্থীকে হ’ত্যাকারী চালকের ফাঁ’সির দাবি, সড়কে ফিটনেসবিহীন গাড়ি না চলা, নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করা এবং হাফ ভাড়ার ব্যবস্থা করা।

শিক্ষার্থীদের আ’ন্দোলনের মুখে গত বছর ১৯ সেপ্টেম্বর রাতে জাতীয় সংসদে সড়ক পরিবহন বিল-২০১৮ পাস হয়। পাসকৃত আইনে সড়কে ‘ইচ্ছাকৃতভাবে দুর্ঘ’টনা ঘটিয়ে’ প্রাণহানি ঘটালে সর্বোচ্চ শা’স্তি মৃ’ত্যুদ’ণ্ডের বিধান রাখা হয়। এছাড়া কোনো ব্যক্তির বেপরোয়া ও অবহেলাজনিত গাড়ি চালানোর কারণে দুর্ঘ’টনা ঘটলে এবং সেই দুর্ঘ’টনায় কেউ আ’হত বা নি’হত হলে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাদ’ণ্ড বা পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দ’ণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। গাড়ি চালানোর কারণে দুর্ঘ’টনা ঘটলে এবং সেই দুর্ঘ’টনায় কেউ আ’হত বা নি’হত হলে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাদ’ণ্ড বা পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দ’ণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

এক বছর আগে নতুন সড়ক পরিবহন আইন পাস হলেও পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের বাধার মুখে তা বাস্তবায়ন করতে পারেনি সরকার। অবশেষে গত ১ নভেম্বর থেকে কার্যকর হয় ‘সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮’। যদিও আইনটি পুরোপুরি কার্যকরের আগেই দেশের বিভিন্ন স্থানে অঘোষিত পরিবহন ধ’র্মঘটের কারণে সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সর্বশেষ আপডেট:

  • 39
    Shares