প্রচ্ছদ ধর্ম ও জীবন

মসজিদে নববীতে চিরনিদ্রায় শায়িত বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব হযরত মোহাম্মদ (সা.)

5930
পড়া যাবে: 2 মিনিটে

হজ ও ওম’রা পালনকারীদের ম’দিনা আসার একমাত্র উদ্দেশ্য হলো- নবী করিম (সা.)-এর রওজা মোবারক জিয়ারত করা, রওজায় সালাম পেশ করা। এই পবিত্র ভূমি ম’দিনার ম’সজিদে নববীতে চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব হযরত মোহাম্ম’দ (সা.)।নবীজি যে ঘরটিতে স্ত্রী’’ আয়েশা (রা.) কে নিয়ে বসবাস করতেন সে ঘরটিতে মৃ’ত্যুর পর তাকে দাফন করা হয়। রাসূলের রওজার পাশে ইস’লামের প্রথম খলিফা হযরত আবু বকর (রা.) ও ইস’লামের দ্বিতীয় খলিফা হযরত উম’র (রা.)-এর কবর।পাশে আরেকটি কবরের জায়গা খালি। এখানে হযরত ঈসা (আ.)-এর কবর হবে। এ কারণে হ’জপালনের আগে কিংবা পরে হাজিরা ম’দিনা শরিফ আসেন।

ম’দিনায় অবস্থানকালে হাজিদের প্রথম এবং প্রধান কর্তব্য হচ্ছে, ম’সজিদে নববিতে হাজিরা দেওয়া এবং সেখানে দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা। ম’সজিদে নববিতে এক রাকাত নামাজের সওয়াব পঞ্চাশ হাজার রাকাত নামাজের সমান। এছাড়া ম’সজিদে নববীতে বিরতিহীনভাবে ৪০ ওয়াক্ত নামাজ জামাতের সঙ্গে আদায়ের আলাদা ফজিলত রয়েছে।

সুদীর্ঘ ৭০০ বছরেও নবীজির রওজার মূল দরজা খোলা হয়নি। ধ’র্মপ্রাণ মু’সল্লিদের আবেগ এতটাই বেশি যে নবীজির রওজার দরজা খোলা থাকলে ধুলোবালিও নিয়ে যেতো। তাই নবীজির রওজা রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা কর্মক’র্তারা বেশ খানিকটা দূর থেকে রওজা জিয়ারতের সুযোগ দেন। সম্প্রতি একটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বব্যাপী নবীজির রওজা মোবারক নিয়ে নানা অ’পপ্রচার চলছে। বিভিন্ন দেশে নবীজি ও খলিফাদের ভু’য়া রওজার ছবি দেখিয়ে অ’বৈধ অর্থ রোজগারের অ’পচেষ্টা চলছে।

আরও পড়ুন:  মদিনার ''জান্নাতুল বাকি''তে শুয়ে আছেন হাজার হাজার সাহাবি

মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন ছাড়া আর কারও কাছে মাথা নত করা উচিত নয় বলে ওই কর্মক’র্তা মন্তব্য করেন।তাছাড়াও রওজা শরীফ সর্ম্পকে হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, হয়রত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি আমা’র ম’সজিদে চল্লিশ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করেছে আর কোনো নামাজ কাজা করেনি, সে নিফাক (মোনাফিকি) আর দোজখের আজাব থেকে নাজাত পাবে।হযরত রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর রওজা শরিফ জিয়ারতের ফজিলত প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর ওফাতের পর তার রওজা মোবারক জিয়ারতে করলো, সে যেন রাসূলুল্লাহ (সা.) কে জীবদ্দশায় দশন করলো।মসজিদে নববিতে প্রবেশের অনেকগুলো দরজা রয়েছে।

এর মধ্যে পশ্চিম পাশে রাসূলের রওজা জিয়ারতের জন্য যে দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে হয়, ওই দরজাকে ‘বাবুস সালাম’ বলা হয়। বাবুস সালাম দিয়ে প্রবেশ করে রাসূলের রওজায় সালাম শেষে ‘বাবুল বাকি’ দিয়ে বের হতে হয়।ম’দিনায় জিয়ারতে হাজীদের জন্য সৌভাগ্যের বিষয়। কারণ ম’দিনায় এসে দুনিয়ায় জীবিত থাকতে জান্নাতে ভ্রমণের সুযোগ মেলে। কারণ নবী করিম (সা.)-এর রওজা শরিফ এবং এর থেকে পশ্চিম দিকে রাসূলে করিম (সা.)-এর মিম্বর পযন্ত স্বল্প পরিসরের স্থানটুকুকে রিয়াজুল জান্নাত বা বেহেশতের বাগিচা বলা হয়।

আরও পড়ুন:  মরুভূমিতে আজো দাঁড়িয়ে আছে নবীজীকে (সা.) ছায়াদানকারী সেই গাছ

এটি দুনিয়াতে একমাত্র জান্নাতের অংশ। এই স্থানে স্বতন্ত্র রঙয়ের কার্পেট বিছানো থাকে।এই স্থানটুকু স’ম্পর্কে হযরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, আমা’র রওজা ও মিম্বরের মধ্যবতী স্থানে বেহেশতের একটি বাগিচা বিদ্যমান। এখানে প্রবেশকরা মানে জান্নাতে প্রবেশ করা।বস্তুত দুনিয়ার সব কবরের মধ্যে সর্বোত্তম ও সবচেয়ে বেশি জিয়ারতের উপযুক্ত স্থান হলো- রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর রওজা মোবারক। তাই এর উদ্দেশে সফর করা উত্তম। এ কথার ওপর পূর্বাপর সব উলামায়ে কেরামের ঐকমত্য রয়েছে।-সূত্র: আমাদের সময়।

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

  • 237.3K
    Shares