প্রচ্ছদ রাজনীতি আওয়ামী লীগ

শীর্ষ দুটি পদ পেতে গ্রুপিং-লবিংয়ে জড়িয়ে পড়েছেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা

128
পড়া যাবে: 3 মিনিটে

১৩টি উপজেলা কমিটি মেয়াদোত্তীর্ণ রেখেই দীর্ঘ পাঁচ বছর পর আগামী ৭ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন। শুরু হয়েছে নেতৃত্ব দখলের প্রতিযোগিতা। জেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ দুটি পদ পেতে গ্রুপিং-লবিংয়ে জড়িয়ে পড়েছেন নেতাকর্মীরা। সভাপতি ও সম্পাদক পদের জন্য প্রার্থীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় দুই ডজন। আর এর জন্য কেউ কাউকে ছাড় দিতে রাজি নন। সম্ভাব্য প্রার্থীরা দলের হাইকমান্ড থেকে শুরু করে স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গেও রাখছেন সার্বক্ষণিক যোগাযোগ।

সম্মেলন ঘিরে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে ২১টি। সভাপতি পদে ৮ জন এবং সাধারণ সম্পাদক পদে ১৩ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। গতকাল ৩ ডিসেম্বর মঙ্গলবার ছিল যাচাই-বাছাই। আজ (৪ ডিসেম্বর) প্রত্যাহারের সময় রয়েছে। বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট মনতেজার রহমান মন্টু সোমবার সন্ধ্যায়

জানান, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি পদে প্রার্থী হতে আটজন মনোনয়নপত্র উত্তোলন করে জমা দিয়েছেন। তারা হলেন-বর্তমান কমিটির সাধারণ সম্পাদক মজিবর রহমান মজনু, সহ-সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন দুলু মাস্টার, অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম মন্টু, প্রবীণ নেতা টিএম মুসা পেস্তা, অ্যাডভোকেট মকবুল হোসেন মুকুল, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান হায়দার আলী, বগুড়া পৌর আওয়ামী লীগ নেতা শেখ শামীম, নেতা তবিবুর রহমান তবি।

এ ছাড়াও সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী হতে মনোনয়নপত্র উত্তোলন শেষে জমা দিয়েছেন ১৩ জন। তারা হলেন-বর্তমান কমিটির যুগ্ম সম্পাদক রাগেবুল আহসান রিপু, টি জামান নিকেতা, মঞ্জুরুল আলম মোহন, জেলা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুর রহমান দুলু, জাকির হোসেন নবাব, জেলা আওয়ামী লীগ নেতা সুলতান মাহমুদ খান রনি, প্রদীপ কুমার রায়, অ্যাডভোকেট শফিকুল আলম আক্কাস, শিরিন আনোয়ার জর্জিস, অ্যাডভোকেট মিনহাদুজ্জামান লিটন, আল রাজী জুয়েল, নাজমা খাতুন ও শাহরিয়ার আরিফ ওপেল।

আরও পড়ুন:  এরপর তোমার প্রার্থী হওয়ার একটি পোস্টার দেখলে আমি ব্যাবস্থা নেবো

অনুসন্ধানে জানা যায়, সর্বশেষ ২০১৪ সালের ১০ ডিসেম্বর বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ওই সম্মেলনে আওয়ামী লীগের দীর্ঘদিনের কা-ারি প্রবীণ নেতা মমতাজ উদ্দিন ফের সভাপতি ও মজিবর রহমান মজনু সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। কিন্তু চলতি বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি মমতাজ উদ্দিন মারা যাওয়ার পর তার শূন্যস্থান আর পূর্ণ হয়নি। তিনি বেঁচে থাকতে বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগে দ্বন্দ্ব থাকলেও সেটি প্রকাশ্য ছিল না। ছিল না পদ-পদবির জন্য গ্রুপিং-লবিং। তার অবর্তমানে সেই দ্বন্দ্ব এখন অনেকটাই প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে। ছোট ছোট উপগ্রুপে বিভক্ত হয়ে আখের গোছাতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন দলের সুবিধাবাদী নেতারাও।

জেলা সম্মেলনকে কেন্দ্র করে দলের কাউন্সিলর বা ডেলিগেট নন এমন নেতাকর্মীরাও সরব। শহর ভরে গেছে পছন্দের নেতাকে সভাপতি অথবা সম্পাদক পদে দেখতে চাই এমন পোস্টার-ব্যানারে।

বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম মন্টু বলেন, ‘দলের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে হবে। এ মুহূর্তে শক্তভাবে দলের হাল না ধরলে দল অস্তিত্ব সংকটে পড়বে। সঠিক নেতৃত্ব দিতে পারলে দলের শৃঙ্খলাও বাড়বে। এ কারণে আমি সভাপতি পদে প্রার্থী হয়েছি।’ বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মজিবর রহমান মজনু বলেন, ‘দলকে সংগঠিত করে রেখেছি। আগামী দিনেও রাখতে পারব বলে বিশ্বাস করি। আমি এবার সভাপতি প্রার্থী।’

আরও পড়ুন:  "কারা আসবেন নতুন মুখ হিসেবে জানেন কিছু? বিশেষ টেলিফোন পাব তো?"

বর্তমান কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আসাদুর রহমান দুলু বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগে নেতৃত্ব দিয়ে আওয়ামী লীগে এসেছি। দলের দুঃসময়ে মাঠে থেকেছি। লড়াই-সংগ্রাম করে দলকে এগিয়ে নিয়ে গেছি। এখন সাধারণ সম্পাদক পদ পেতে চেষ্টা চালিয়ে যাব। নেতাকর্মীরা আমাকে চায়।’

বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক সুলতান মাহমুদ খান রনি বলেন, ‘প্রয়াত বর্ষীয়ান নেতা মমতাজ উদ্দিনের নেতৃত্বে বগুড়ায় আওয়ামী লীগ অনেক আগে থেকেই শক্তিশালী। দলে তরুণদের নেতৃত্বে আসা প্রয়োজন। সব সময় রাজনীতির সঙ্গেই আছি আমি। এবার তাই সাধারণ সম্পাদকের পদ প্রত্যাশা করছি।’

এদিকে জেলার ১৩টি উপজেলা কমিটির সবই মেয়াদোত্তীর্ণ। ২০১২ সালের ৪ ডিসেম্বর শিবগঞ্জ, ১২ ডিসেম্বর আদমদীঘি, ১৫ ডিসেম্বর নন্দীগ্রাম, ২১ ডিসেম্বর শাজাহানপুর, ২২ ডিসেম্বর সোনাতলা, ২৩ ডিসেম্বর দুপচাঁচিয়া; ২০১৩ সালের ১ জানুয়ারি ধুনট, ১৫ জানুয়ারি কাহালু, ১৬ জানুয়ারি সারিয়াকান্দি, ২৭ জানুয়ারি গাবতলী, ৩১ জানুয়ারি শেরপুর, ১৮ ফেব্রুয়ারি সদর উপজেলার সম্মেলন সম্পন্ন হয়। ২০১৪ সালে এসব কমিটি অনুমোদন দেয় জেলা কমিটি। এর পর এগুলোর আর কাউন্সিল হয়নি। কাহালু উপজেলাকে বারবার তাগিদ দিয়েও পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা যায়নি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে গোয়েন্দা পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা জানান, মাঠ নেতাদের আমলনামা অনেক আগেই দলের হাইকমান্ডের হাতে পৌঁছে গেছে। এবার তাই ইচ্ছা করলেই যে কারো পক্ষে নেতা হওয়ার সুযোগ নেই। হাইকমান্ড ক্লিন ইমেজের নেতৃত্বের প্রতি আগ্রহী।

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

  • 340
    Shares