প্রচ্ছদ জাতীয় ফের বেতন ভাতা বাড়ানোর দাবি সরকারি চাকরিজীবীদের

ফের বেতন ভাতা বাড়ানোর দাবি সরকারি চাকরিজীবীদের

64
পড়া যাবে: 2 মিনিটে

প্রায় ৫ বছর আগে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন দ্বিগুন বাড়িয়ে সর্বশেষ জাতীয় বেতনস্কেল ঘোষণা করা হয়। সে সময় তাদের বেতন বেড়েছিল সর্বনিম্ন ৯১ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ ১০১ শতাংশ পর্যন্ত। মূল বেতনের পাশাপাশি আবাসন , চিকিৎসা ও উৎসব ভাতাসহ অন্যান্য ভাতাও বাড়ানো হয়েছিল। তবে বর্ধিত ভাতা কার্যকর হয় ২০১৬ সালের ১ জুলাই।

এরই মধ্যে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বমুখীনতার পরিপ্রেক্ষিতে সরকারি কর্মক’র্তা-কর্মচারীদের জন্য তিনটি ‘বিশেষ ইনক্রিমেন্ট’ ও ‘নবম বেতন কমিশন’ গঠনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে আবেদন করেছে বাংলাদেশ সচিবালয় প্রশাসনিক কর্মক’র্তা কল্যাণ সমিতি।গত ১ ডিসেম্বর বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অর্থ সচিবের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছ। করণীয় ঠিক করতে অর্থ বিভাগ এ বিষয়ে বিশ্লেষণও শুরু করেছে।

সূত্র জানায়, বাংলাদেশ সচিবালয় প্রশাসনিক কর্মক’র্তা কল্যাণ সমিতির দাবি, সরকারি কর্মক’র্তা-কর্মচারীদের কাছ থেকে সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিতের লক্ষ্যে সরকার তাদের জীবনযাত্রার মান, আয়-ব্যয়ের সঙ্গতি ও মুদ্রাস্ফীতিসহ অন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জাতীয় বেতন কমিশন কার্যকরের এক বা দুই বছর আগে বিভিন্ন সময় মহার্ঘ ভাতা প্রদান করা হয়েছে।

এরই ধারাবাহিকতায় অর্থ বিভাগ ১৯৮২, ২০০৩, ২০০৮ ও ২০১৩ সালে সরকারি সব কর্মক’র্তা-কর্মচারীদের গড়ে ২০ শতাংশ হারে মহার্ঘ ভাতা দেয়া হয়েছে।জানা গেছে, সরকারি কর্মক’র্তা-কর্মচারীদের জীবনযাত্রার মান ও ব্যয় বিবেচনায় নিয়ে ২০১৫ সালে জাতীয় বেতনস্কেল ঘোষণা করা হয়। পাশাপাশি মুদ্রাস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সরকারি কর্মক’র্তা-কর্মচারীদের ভবিষ্যৎ বেতন-ভাতা নির্ধারণ-সংক্রান্ত একটি মন্ত্রিসভা কমিটি গঠনের জন্যও প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ২০১৭ সালের ৯ মে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিবকে (সমন্বয় ও সংস্কার) আহ্বায়ক করে নয় সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়।

এ কমিটির কার্যপরিধিতে বলা হয়, ভবিষ্যৎ বেতন-ভাতা নির্ধারণে সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতাদি তাদের জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ রেখে এবং মুদ্রাস্ফীতির সঙ্গে সমন্বয়করণের উপায় নির্ধারণের লক্ষ্যে সার্বিক বিষয় বিচার-বিশ্লেষণপূর্বক একটি সুচিন্তিত সুপারিশমালা প্রণয়ন করবে।এ কমিটি ২০১৮ সালের শেষ দিকে সরকারি কর্মক’র্তা-কর্মচারীদের বেতন বাড়ানো বিষয়ে একটি সুপারিশমালা অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠায়। এ প্রতিবেদনের ওপর কয়েকটি বৈঠকও করে অর্থ বিভাগ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বেতন বাড়ানোর কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়নি।

এ পরিপ্রেক্ষিতে সচিবালয় প্রশাসনিক কর্মক’র্তা কল্যাণ সমিতি বলছে, জাতীয় বেতনস্কেল, ২০১৫ জারি হওয়ার পর প্রায় পাঁচ বছর অ’তিবাহিত হতে চলছে। ইতোমধ্যে বিদ্যুৎ বিল, গ্যাস বিল, কল্যাণ ফান্ড, যৌথবীমা, পরিবহন খরচসহ অন্যান্য বিল কয়েকগুণ বেড়েছে। এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেসরকারি বাসাভাড়া, পরিবহন, চিকিৎসা খরচ, ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়ার খরচসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য অনেক গুণ বেড়েছে।এছাড়া বর্তমান বেতনস্কেলে টাইমস্কেল ও সিলেকশন গ্রেড সুবিধা না থাকায় নিম্ন বেতনভুক্ত কর্মচারীদের সংসার পরিচালনা করতে আরও বেশি হিমশিম খেতে হচ্ছে । দ্রব্যমূল্যের এ ঊর্ধ্বগতির বিষয়টি বিবেচনা করে আপাতত তিনটি ‘বিশেষ ইনক্রিমেন্ট’ ও ‘নবম বেতন কমিশন’ গঠনের জন্য অনুরোধ জানিয়েছে সমিতি।

সমিতিটি আরও বলেছে, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সরকারি কর্মচারীদের ভবিষ্যৎ বেতন-ভাতা নির্ধারণ ও পরিবর্ধনের বিষয় পর্যালোচনা-সংক্রান্ত কমিটির সুপারিশমালা, ২০১৫ কার্যকর হওয়ার পর থেকে অদ্যাবধি জীবনযাত্রার ব্যয় ও মুদ্রাস্ফীতির বিষয়টি বিবেচনা করতে সরকারি কর্মক’র্তা-কর্মচারীদের আপাতত তিনটি ‘বিশেষ ইনক্রিমেন্ট’ ও ‘নবম বেতন কমিশন’ গঠনের জন্য অনুরোধ জানানো হচ্ছে।

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সর্বশেষ আপডেট:

  • 74
    Shares