প্রচ্ছদ বাংলাদেশ জেলা

*আলী আজগর হোসেন,২৫ টাকার চাকরি থেকে এখন হোটেল মালিক*

94
পড়া যাবে: 2 মিনিটে

অ’ভাবের সংসারে পরিবারের স’দস্য সংখ্যা বেশি হওয়ায় নুন আনতে পা’ন্তা ফুরানোর মতো অবস্থা। ২২ বছর আগে বাবা-মায়ের ওপর অভিমান করে পরিবার নিয়ে নিজ জে’লা ছেড়ে নওগাঁতে চলে আসেন।এরপর শহরের বালুডাঙা বাস’স্ট্যান্ডে ২৫ টাকা বেতনে হোটেলে কাজ শু’রু করেন। আর সেই হোটেল বয় আজ হাজী নজিপুর হোটেল অ্যান্ড বিরিয়ানি হাউসের মালিক আলী আজগর হোসেন।

তার বাড়ি নাটোর জেলার সিংড়া উপজেলার মহেষচন্দ্রপুর গ্রামে হলে’ও এখন জমি কিনে ন’ওগাঁ শহরের চকরামচন্দ্র মহল্লায় বসবাস করছেন সপরিবারে।শহরের বালুডাঙা বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন আ’দালত চত্বর। আ’দালত গেটের প্রধান ফট’কের বিপরীতে রাস্তার পশ্চিম পাশে’ হাজী নজিপুর হোটেল অ্যান্ড বিরিয়ানি হাউস।যেখানে সপ্তাহে সকাল থেকে স’ন্ধ্যা পর্যন্ত চলে বেচাকেনা।

হোটেল মালিক সপ্তাহের প্রতি বৃ’হস্পতিবার দুপুরে ১০০-১৫০ জন গরিব শ্রেণির বিশেষ করে ভিক্ষুকদের পেট পুরে ফ্রিতে খাওয়ান।যেখানে খাবার মেন্যুতে থাকে মাছ, মাংস, ডিম, সবজি ও ডাল।হোটেলের সামনে চেয়ার-টেবিলে তাদের খাবারের ব্যবস্থা করা হয়। প্রথমে দেখলে মনে হতে পারে কোনো ছোটোখাটো অ’নুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

এছাড়া অন্যান্য দিনে ২০-২৫ জনের মতো খেয়ে থাকেন। তবে বৃ’হস্পতিবার সবার জানা থাকায় সেদিন বেশি মানুষ হয়ে থাকে। এক যুগ ধরে এভাবে মানুষদের একবেলা খাবার দিয়ে আসছেন আলী আজগর হোসেন।হোটেল মালিক আলী’ আজগর হোসেন বলেন, অভাবের মধ্য দিয়েও অষ্টম শ্রে’ণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছি।

১৯৯৭ সালে বাবা-মায়ের ওপর অ’ভিমান করে স্ত্রী ও ছেলেমেয়েকে নিয়ে নওগাঁতে এসে হোটেলে ২৫ টাকা দিনে কাজ শুরু করি। বেশ কয়েক বছর হোটেলে কাজ করলাম। হঠাৎ একদিন হোটেল মালিক তার ব্যবসা ব’ন্ধ করে দিয়ে বাড়ি’তে চলে গেলেন।তিনি বলেন, পরে হোটেল মালিককে বুঝিয়ে নিয়ে আসি এবং তার দোকান চালানোর জন্য অ’নুমতি নেই।

মালিক বললেন, যদি দোকান চালাতে পার তাহলে চালাও। এতে আমার কোনো আ’পত্তি নেই।আলী আজগর হোসেন বলেন, এরপর ২ কেজি, ৫ কেজি গরুর মাংস বিক্রি থেকে শু’রু করে আজ অনেক বেচাকেনা হয়। দোকানে ৩৫ জন ক’র্মচারী কাজ করে। আল্লাহর রহমতে ভালো আছি। শহরের মাথা গুঁ’জার মতো একটু জায়গা হয়েছে। দুই মেয়ে ও এক ছেলে পড়াশোনা করছে।

বয়োজ্যেষ্ঠ নুর জাহান ও জাহিদুল বলেন, আমরা গরিব মানুষ। ভি’ক্ষা করে ভালোমন্দ খেতে পারি না। ৩-৪ বছর ধরে এ হোটেলে নিয়মিত খেতে আসি। শহরের বিভিন্ন জায়গায় ভিক্ষা করে বৃহস্পতিবার দুপুরে এসে কখন’ও গোস্ত ও কখনও মাছ দিয়ে পেট পুরে খাবার খাই। আল্লাহ যেন দোকানদারের ম’ঙ্গল করেন।

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

  • 42
    Shares