প্রচ্ছদ বাংলাদেশ জেলা

*দুই লঞ্চের সংঘর্ষে, নিহত বাড়িতে শোকের মাতম*

173
পড়া যাবে: 2 মিনিটে

নারায়’ণগঞ্জের সীমানাধীন চরকিশোরগঞ্জ এলাকার মেঘনা ন’দীতে দুই ল’ঞ্চের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত হুমায়ূন কবির ব’ন্দুকছির গ্রামের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। শনিবার সকালে তার মৃ’ত্যুর সংবাদ শোনার পর স্ব’জনেরা কা’ন্নায় ভেঙে পড়েন।নিহত হুমায়ূন কবির ব’ন্দুকছি শরীয়তপুর জেলার ভেদরগঞ্জ উপজেলার রামভদ্রপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের রামভদ্রপুর গ্রামের মৃ’ত মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাই বন্দুকছির ছেলে। তিনি ঢাকার উ’ত্তরা ১৪ নম্বর সেক্টরে একটি প্রাইভেট কোম্পানির গাড়িচালক ছিলেন।

শ’নিবার ঢাকা থেকে ম’রদেহ এনে জানাজা শেষে গ্রামের কবরস্থানে দাফন করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বজনরা।গ্রামবাসী ও নি’হতর পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, হুমায়ূন তার পরিবারের একমাত্র উ’পার্জনক্ষম ব্যক্তি। তাকে হারিয়ে পরিবারের সদস্যরা শোকে পাথর ও দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। নাইম কবির (৬) নামের তার একটি ছেলে রয়েছে। নাইম ৩নং রামভদ্রপুর সরকারি প্রা’থমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রে’ণির শি’ক্ষার্থী।

”হুমায়ূনের স্ত্রী” সিমা আক্তার কা’ন্নাজ’ড়িত কণ্ঠে বলেন, শু’ক্রবার ছুটি ছিল তাই গ্রামের বাড়িতে আসেন তিনি। পরে রাতের লঞ্চে শরীয়তপুরের সুরেশ্বর থেকে ঢাকা সদরঘাট রওনা দেয়। রাত ১টার দিকে দ‌ুই ল’ঞ্চের মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘুমন্ত অবস্থায় আমা’র স্বামী নি’হত হন। এখন আমি ছেলেকে নিয়ে কোথায় যাব, কী করব ,নি’হত হুমায়ূনের চাচাতো ভাই ফারুক বন্দুকছি বলেন, আমি ঢাকা ছিলাম।

আরও পড়ুন:  *আমার কর্মীর গায়ে আচড় দিয়ে ১ ঘণ্টা, কেউ আরামে 'ঘুমাতে পারবে না'*

হু’মায়ূন ভাইয়ের মৃ’ত্যুর কথা শু’নে তাকে লঞ্চে উদ্ধার করতে যাই। এমন ম’র্মা’ন্তিক দৃশ্য আমি কোনো দিন দেখি নাই। তিনি শরীয়তপুর থেকে ঢাকাগামী মানিক-৪ লঞ্চের দোতলার ফ্লোরে ঘুমিয়ে ছিলেন। হঠাৎ আরেকটি লঞ্চের সঙ্গে সং’ঘর্ষে হলে তার দুই পা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ঘটনাস্থলেই তিনি মা’রা যান। শনিবার সকালে পু*লিশ তার ম’রদেহ উ’দ্ধার করে ময়না’তদন্তর জন্য মিডফোর্ড হাসপাতালে নিয়ে যায়। ময়নাত’দন্ত শেষে গ্রামের বাড়িতে পারিবারিক কবরস্থানে মরদেহ দাফন করা হয়েছে।

হুমায়ূনের শ্বশুর নুর মোহাম্মদ বলেন, আমা’র মেয়ে ও নাত‌িকে রেখে হুময়ায়ূন চলে গেল। তার পরিবারটির জন্য সরকারের কাছে সাহায্য সহযোগিতা চাই।রামভদ্রপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিপ্লব সিকদার বলেন, আমি কী’ভাবে এদের পরিবারকে সান্ত্বনা দেব, সে ভাষা আমা’র জানা নেই। তবে তাদের পাশে থাকার চেষ্টা করব।শরীয়তপুরের জে’লা প্রশাসক কাজী আবু তাহের বলেন, ভেদরগঞ্জ ইউএনওর মাধ্যমে শোকাহত পরিবারের খোঁজ*খবর নিয়েছি। জে’লা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শোকাহত পরিবারকে সহায়তা করা হবে।

আরও পড়ুন:  বিএনপি- জামাতকে মোকাবেলায় আমার মতো শামীম ওসমানই যথেষ্ট

উল্লেখ্য, শু’ক্রবার দিবাগত রাত ১টার দিকে নারায়ণগঞ্জের সীমানাধীন চরকিশোরগঞ্জ এলাকার মেঘনা নদীতে ঢাকা থেকে চাঁদপুরগামী বোগদাদিয়া-১৩ ও শরীয়তপুর থেকে ঢাকাগামী মানিক-৪ লঞ্চের মুখোমুখি সংঘর্ষে হুমায়ন কবির ব’ন্দুকছি নি’হত হন। পরে শনিবার সকাল ৮টার দিকে পু’লিশ তার ম’রদেহ উদ্ধার করে ময়না’তদন্তর জন্য মিডফোর্ড হাস’পাতালে নেয়। এ ঘ’টনায় দুই লঞ্চের অ’ন্তত ১৫ যাত্রী নি*খোঁজ রয়েছেন।

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

  • 35
    Shares