প্রচ্ছদ বাংলাদেশ

ভারতের পেঁয়াজ সংকটের জন্য বাংলাদেশকে দায়ী করছে আনন্দবাজার

94
পড়া যাবে: < 1 minute

কলকাতার প্রভাবশালী দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকা ভারতে পেঁয়াজ সংকটের জন্য বাংলাদেশ দায়ী করে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। শনিবার সন্ধ্যায় ‘এ রাজ্যের লক্ষ লক্ষ টন পেঁয়াজ চলে গেল বাংলাদেশে, চড়া দামে নাশিকের পেঁয়াজ কিনে খাচ্ছি আমরা’ শিরোনামে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে আনন্দবাজার।

এতে বলা হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গের ৭০ শতাংশ পেঁয়াজ আসে মহারাষ্ট্রের নাশিক থেকে। বাকি ৩০ শতাংশ দক্ষিণ ভারত থেকে আসে। কিন্তু এ রাজ্যেও তো পেঁয়াজ উৎপাদন হয়। রাজ্যের চাহিদা মেটাতে তার ভূমিকা কী?

আনন্দবাজারের প্রতিবেদনে চাষীদের বরাতে বলা হয়, ‘চাষীদের কথা থেকে একটা বিষয় স্পষ্ট, এ রাজ্যের পেঁয়াজ রপ্তানি হয়ে যায় বাংলাদেশে। আর নিজেদের পেঁয়াজ আমদানি করতে হয় ভিনরাজ্য থেকে।’

সরকারি টাস্ক ফোর্সের এক সদস্যের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘প্রতি বছর এ রাজ্যে ৮ লাখ মেট্রিক টনের কাছাকাছি পেঁয়াজ লাগে। এখন বিভিন্ন জেলায় পেঁয়াজ উৎপাদন হয় প্রায় ৫ লাখ মেট্রিক টন। অর্থাৎ রাজ্যে  তিন লাখ মেট্রিক টন ঘাটতি। সেই ঘাটতির অংশটুকুই তো আমদানি করলে হয়ে যাওয়া উচিত? তা হলেই তো পেঁয়াজের দাম সারা বছর নিয়ন্ত্রণে থাকার কথা।’

আরও পড়ুন:  এবার পাকিস্তান থেকে পেঁয়াজ আনছে বাংলাদেশ

প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘আগে হুগলি, নদিয়া, বাঁকুড়া ও মুর্শিদাবাদ জেলায় পেঁয়াজ চাষ হত। এখন প্রায় সব জেলাতেই কম-বেশি পেঁয়াজ চাষ হচ্ছে। সে কারণে উৎপাদনের পরিমাণও বেড়েছে। কিন্তু চাষ করলেই তো হল না, ওই পেঁয়াজ সংরক্ষণও তো করতে হবে!’ প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, ‘যেভাবে বাঁশের মাচা করে ধাপে ধাপে পেঁয়াজ সংরক্ষণ করতে হয়, টাকার অভাবে তা করতে পারছেন না চাষীরা।

সরকারি উদ্যোগও নেই বলে অভিযোগ। ফলে ফেব্রুয়ারি মাসে পেঁয়াজ যখন ওঠে, মাঠ থেকে তা তুলে সরাসরি আড়তদারদের কাছে চলে যেতে হচ্ছে চাষিদের। সনাদন দাস নামে নদিয়ার এক চাষি জানালেন, আড়তদাররা সেই সুযোগটা নেয়।

আরও পড়ুন:  পেঁয়াজ বাঁচাতে রাত ভোর খেত পাহারা দিচ্ছেন কৃষকরা

কম পয়সায় পেঁয়াজ কিনে তাঁরা মজুত করে প্রতিবেশী বাংলাদেশে রফতানি করে। সনাতনের কথায়, ‘ফলে আমাদের পেঁয়াজের বেশির ভাগটাই চলে যায় অন্য দেশে। মুনাফা লোটেন এক শ্রেণির ব্যবসায়ী।’ তার আক্ষেপ, ‘আমরা যদি সংরক্ষণ করতে পারতাম, তা হলে ফেব্রুয়ারিতে ওঠা পেঁয়াজ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত খুব কম দামে বিক্রি হত বাজারে। কিন্তু প্রতি বছর একই কারবার!’

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

  • 30
    Shares