প্রচ্ছদ ধর্ম ও জীবন

*ই’সলামে মুসলিম না’রীদের বিধর্মী পুরুষকে বিয়ে করার সুযোগ নেই*

463
পড়া যাবে: 2 মিনিটে

মা’নব জাতির জন্য ইসলাম হচ্ছে শান্তির ধর্ম। ই’সলাম একমাত্র জীবনব্যবস্থা, যার বিশ্বসমাজ গড়ে তোলার মতো ঔদার্য ও সা’র্থ্য আছে। ধ’র্ম বর্ণ নির্বিশেষে একটা বৃহৎ সমাজ গঠনের সব উপাদান ইস’লামের আছে। এই ধ’র্মে আহলে কিতাব, মুসলমান ও একই রাষ্ট্রে বসবাসকারী বিভিন্ন ধর্মের অনুসারীদের মধ্যে আচার ব্যবহার ও সামাজিকতায় কোনো বৈষম্য নেই। মাংস ছাড়া অন্য খাদ্যদ্রব্যের মধ্যে আহলে কিতাব (ইহুদি-খ্রিস্টান) ও অন্য কাফিরদের মধ্যে কোনো তারতম্য নেই। অর্থাৎ পরস্পরে একে অন্যের হালাল খাবার গ্রহণ করতে পারবে। মাং’সের ক্ষেত্রেও আহলে কিতাব ও মু’সলমানদের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।

কোনো হালাল প্রাণী আহলে কিতাবের কেউ আল্লাহর নামে জ’বাই করলে মু’সলমানদের জন্য সেটা আহার করা বৈধ। এ ছাড়া ইস’লাম তাদের স’ঙ্গে সামাজিক অংশীদারি, সৌজন্যবোধ ও মেলামেশার সুযোগ দিয়েছে। বৈধ যেকোনো বস্তু অমু’সলিম’দের সঙ্গে বেচাকেনা করা বৈধ। এমনকি আহলে কিতাবের নারীদের বিয়ে করা বৈধ বলে ঘোষণা করা হয়েছে। ইরশাদ হয়েছে, ‘মুমিন সতীসাধ্বী নারী ও আহলে কিতাবের সতীসাধ্বী না’রী তোমাদের জন্য বৈধ করা হলো…।’ (সুরা : মায়েদা, আয়াত : ৫)

তবে এটাও স্ম*রণ রাখতে হবে যে ইস’লাম একটি পৃথক ধর্ম। তাই আত্মীয়তা, ঘনিষ্ঠতা ও সামাজিকতার ক্ষেত্রে ইস’লাম ও অন্যান্য ধর্মের মধ্যে কিছু পার্থক্য ধরে রাখা হয়েছে। যেমন—আহলে কিতাবের নারীদের বিয়ে করা মু’সলমানদের জন্য বৈধ বটে; কিন্তু আহলে কিতাব কোনো পুরুষের সঙ্গে মু’সলিম নারীদের বিয়ে বৈধ নয়।

আরও পড়ুন:  *ধূমপান নিয়ে যা বলছে ইসলাম*

আহলে কিতাব ছাড়া অন্য ধর্মের অনুসারীদের স’ঙ্গে কোনো ধরনের বৈবাহিক সম্পর্ক বৈধ নয়। সুতরাং প্রচলিত হিন্দু, বৌদ্ধ, বাহায়ি, শিখ ও কনফুসীয় ধর্ম আসমানি ধ’র্ম হওয়ার বিষয়টি অকাট্যভাবে প্রমাণিত না হওয়ায় এসব ধ’র্মের অনুসারীরা আহলে কিতাব হিসেবে গ’ণ্য হবে না। তাই তাদের সঙ্গে মুসলিম নারী ও পুরুষের কোনো ধরনের বিয়ে বৈধ নয়।

এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন, ঈমান না আনা প’র্যন্ত তোম’রা মুশরিক (বহু স্রষ্টায় বিশ্বা’সী) নারীকে বিয়ে কোরো না, যদিও মুশরিক নারী তোমাদের মুগ্ধ করে…। ঈমান না আনা পর্যন্ত তোমরা মুশরিক পুরুষের স’ঙ্গে (তোমাদের নারীদের) বিয়ে দিয়ো না, যদিও মুশরিক পুরুষ তোমাদের মুগ্ধ করে। (সুরা : বাকারা, আয়াত : ২২১)অন্য আয়াতে এসেছে, তোম’রা কাফির নারীদের সঙ্গে দাম্পত্য সম্পর্ক বজায় রেখো না…।(সুরা : মুমতাহিনা, আয়াত : ১০)

আরও পড়ুন:  *ধূমপান নিয়ে যা বলছে ইসলাম*

এদিকে মুসলিম নারীদের জন্য অন্য ধর্মাবলম্বী পুরুষকে স্বামী হিসেবে গ্রহণের কোনো সুযোগ নেই। এ প্র’সঙ্গে এক আয়াতে এসেছে, ‘হে মুমিনরা! যখন তোমাদের কাছে মুমিন নারীরা হিজরত করে আসে, তখন তোম’রা তাদের পরীক্ষা করে নাও, তাদের ঈ’মান স’ম্পর্কে আল্লাহই ভালো জানেন। অ’তঃপর যদি তাদের মুমিন বলে জানতে পারো, তাহলে তাদের কাফিরদের কাছে ফিরিয়ে দিয়ো না। মুমিন নারীরা কাফিরদের জন্য হালাল নয়। আর কাফিররাও তাদের জন্য হালাল নয়…।’ (সুরা : মুমতাহিনা, আয়াত : ১০)

ই’মাম বুখারি (রহ.)-এর শিক্ষক ই’মাম আবদুর রাজ্জাক (রহ.) তাঁর গ্রন্থে লিখেছেন, ‘আবু জুবায়ের (রা.) বলেন, আমি জাবের (রা.)-কে বলতে শুনেছি, আহলে কিতাবের নারীরা আমাদের (মু’সলমানদের) জন্য হালাল। কিন্তু আমাদের নারীরা তাদের জন্য হারাম।’ (মু’সান্নাফে আবদুর রাজ্জাক : ৬/৪৩)

এ বিষয়ে খলিফা ওম’র (রা.)-এর কর্মপন্থা কী ছিল—সে সম্পর্কে জায়েদ বিন ওয়াহাব (রা.) বলেন, ‘ওম’র (রা.) এই মর্মে পত্র পাঠিয়েছেন যে মুসলিম পুরুষ খ্রি’স্টান নারীকে বিবাহ করতে পারবে। কি’ন্তু কোনো খ্রিস্টান পুরুষ কোনো মু’সলিম নারীকে বিবাহ করতে পারবে না।’ (কানযুলউম্মাল : ১৬/৫৪৮)

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

  • 282
    Shares