প্রচ্ছদ এক্সক্লুসিভ

সাংসদ নিজাম হাজারী আইন লঙ্ঘন করে নিয়মিত কারাগারে ঢুকে আসামীদের হু’মকি দেন

1716
পড়া যাবে: < 1 minute

ফেনী কারাগারের নিরাপত্তা সেলে ঢুকে যুবলীগের দুই নেতাকে হু’মকি দিয়েছিলেন নিজাম হাজারী। আর সেই ঘটনা তদন্তে বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। জানা যায়, সাংসদ নিজাম হাজারী আইন লঙ্ঘন করে নিয়মিত কারাগারে যেতেন, এখনো যান। সাংসদকে কারাগারের ভেতরে নিয়ে যেতেন জেল সুপার। সেলে রাখা হয় সাজাপ্রাপ্ত বা দু’র্ধর্ষ আ’সামিদের।

কিন্তু যুবলীগের ওই দুই নেতা সাজাপ্রাপ্ত নন, সাধারণ আ’সামি হিসেবে গ্রে’প্তারের পর তাঁদের সেখানে রাখা হয়েছিল। এই দুই নেতা ফেনী জেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি এম আজহারুল হক ও জেলা যুবলীগের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন ভূঁইয়া গত ৯ জুলাই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রসচিবের (সেবা সুরক্ষা বিভাগ) কাছে অভিযোগ করেন, তাঁদের ফেনী কা’রাগা’রে নিরাপত্তা সেলের ৩ নম্বর কক্ষে রাখা হয়েছে এবং সাংসদের লোকজন সেখানে ঢুকে তাঁদের হু’মকি দিয়েছেন।

আরও পড়ুন:  আওয়ামী লীগের জন্য তারা যেন একটা প্রয়োজনীয় ‘বিষফোঁড়া’

তদন্ত কমিটিকে একজন সাক্ষী বলেছেন, সাংসদ তাঁর দেহরক্ষী সাহাবুদ্দিন ও ফুলগাজীর আনন্দপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান হারুন মজুমদারকে নিয়ে কা’রাগারের ভেতরে গেছেন।

যুবলীগের দুই নেতা লিখিত অভিযোগে জানান, গত ১৩ এপ্রিল বেলা সাড়ে তিনটায় সেলে প্রবেশ করেন হারুন মজুমদার ও সাহাবুদ্দিন। তাঁরা তাঁদের জিজ্ঞেস করেন, ‘তোদের মা’মলা কয়টি? তোরা কোনো মা’মলায় জামিন করাবি না। জামিন করালে জেলখানা থেকে বের হওয়ার পর তোদের একরাম চেয়ারম্যানের মতো পুড়িয়ে হ’ত্যা করা হবে।’

এরপর ৫ জুন দুপুর ১২টায় এস আলম সবুজ এবং ফেনী সদর থানার উপপরিদর্শক নজরুল ইসলাম সেলের ৩ নম্বর কক্ষে ঢুকে সাখাওয়াতকে হু’মকি দিয়ে বলেন, কা’রাগার থেকে বের হয়ে কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ দিলে ভ’য়াবহ নি’র্যাতনের শি’কার হতে হবে।

আরও পড়ুন:  আওয়ামী লীগের জন্য তারা যেন একটা প্রয়োজনীয় ‘বিষফোঁড়া’

কা’রাগারের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বরাত দিয়ে তদন্ত কমিটি জানিয়েছে, নিজাম হাজারী নিয়মিত কারাগারের ভেতরে যান। চলতি বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি, ১৩ এপ্রিল, ৫ জুন তিনি কা’রাগারে ঢুকেছেন। গত বছরের ২৩ আগস্টও তাঁর কা’রাগারে প্রবেশের প্রমাণ পাওয়া গেছে। আইন অনুযায়ী তিনি এভাবে কা’রাগারের ভেতরে যেতে পারেন না।

তবে নিজাম হাজারী গণমাধ্যমে জানিয়েছেন, স্থানীয় সাংসদ চাইলেই তাঁর নির্বাচনী এলাকার কা’রাগারে যেতে পারেন। এ জন্য তাঁকে অনুমতি নিতে হয় না। কা’রাবন্দীদের দুঃখ-দুর্দশা দেখার জন্যও সেখানে তাঁকে যেতে হয়। তবে সাংসদ চাইলে জেল সুপারকে অবহিত করতে পারেন।

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

  • 4.4K
    Shares