প্রচ্ছদ Featured News

আওয়ামী লীগের জন্য তারা যেন একটা প্রয়োজনীয় ‘বিষফোঁড়া’

1352
পড়া যাবে: 2 মিনিটে

এবার কাউন্সিল অধিবেশনে আওয়ামী লীগের মূল মন্ত্রই হলো শুদ্ধ আওয়ামী লীগ। দু’র্নীতিমুক্ত, স’ন্ত্রাস, চাঁ’দাবা’জ মুক্ত একটা আওয়ামী লীগ। যারা দলের ত্যাগি, পরীক্ষিত তাদেরকে মূল্যায়ন করার মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের আওয়ামী লীগের নবযাত্রার সূচনা। এই পরিপ্রেক্ষিতেই আওয়ামী লীগ তার কাউন্সিল অধিবেশন করছে। এর মধ্যে জেলা পর্যায়ে যে সম্মেলনগুলো হচ্ছে সেই সম্মেলনগুলোতে দলের অনুপ্রবেশকারী এবং বিতর্কিতদের বাদ দেওয়া হচ্ছে।

আওয়ামী লীগে এরকম কিছু নেতা পাওয়া গেছে যাদের দলের বাইরে ইমেজ খুবই নেতিবাচক। দল তাদের জন্য প্রায় বিব্রতকর অবস্থার মধ্যে পড়ে। কিন্তু নানা পারিপাশ্বিকতা এবং জটিলতার কারণে তাদেরকে দল থেকে সরিয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। আওয়ামী লীগের জন্য তারা যেন একটা প্রয়োজনীয় ‘বিষফোঁড়া’।

এই সমস্ত নেতাদের নিয়ে আওয়ামী লীগ কি করবে সে ব্যাপারে দলের মধ্যে রয়েছে নানা মত ও পদ। অনেকে মনে করেন, দুষ্টু গরুর চেয়ে শুন্য গোয়াল ভালো। আবার অনেকে মনে করেন, কৌশলগত কারণে এখনই তাদের বাদ দেওয়া শোভন এবং সমীচীন না। যাদের নিয়ে আওয়ামী লীগ বিব্রত তাদের কয়েকজনের মধ্যে রয়েছেন;

শাজাহান খান : গত মেয়াদে মন্ত্রী ছিলেন। এই মেয়াদে মন্ত্রীত্ব না পেলেও এমপি আছেন। একের পর এক নানা রকম বিতর্কিত মন্তব্য এবং কর্মকাণ্ডের জন্য তিনি দলের বাইরে ব্যাপক সমালোচিত। সাম্প্রতিক সময় তিনি পরিবহন ফেডারেশনের এক সভায় নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের নেতা চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চনের বিরুদ্ধে নানা রকম অসত্য মন্তব্য করেছেন। এছাড়া তিনি ফরিদপুরের এমপি নিক্সন চৌধুরীর সঙ্গেও বিরোধে জড়িয়ে গেছেন।

আরও পড়ুন:  রাজনীতিকে আমি কখনো ধান্দা হিসেবে নেইনি এবং নেবও না

স্থানীয় পর্যায়ে তার সঙ্গে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বাহাউদ্দীন নাছিমের বিরোধ অনেক পুরনো। পরিবহন শ্রমিকদের অঘোষিত ধর্মঘট এবং নিরাপদ সড়কের পথে অন্যরকম বাধা মনে করে সাধারণ মানুষ। দলের মধ্যেও তাকে নিয়ে নানা রকম সমালোচনা আছে। তারপরেও শ্রমিক বেল্টে তার বিশাল প্রভাব বলয় থাকার কারণে বিব্রত হলেও আওয়ামী লীগ তাকে নিয়ে নিরব।

নিজাম হাজারী : ফেনীতে এক সময় জয়নাল হাজারীর একচ্ছত্র আধিপত্য ছিল। এখন ফেনীর রাজত্ব নিজাম হাজারীর হাতে। তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ। তবে এই অভিযোগগুলোর কোনটা সত্য আর কোনটা মিথ্যা তা যাচাই করার মতো  কেউ নেই। কারণ নিজাম হাজারীর বিরুদ্ধে কথা বলার মতো লোক ফেনীতে পাওয়া যাবে না। তবে গণমাধ্যমে তাকে নিয়ে মাঝে মধ্যেই নানা রকম সংবাদ প্রকাশিত হয়। সাধারণ মানুষের মুখ দিয়ে নিজাম হাজারীর ইমেজ খুবই নেতিবাচত। তারপরেও ফেনীতে তার প্রভাব বলয় এবং রাজনীতিতে কৌশলগত কারণে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাচ্ছে না।

হুইপ শামসুল হক: হুইপ শামসুল হক শুদ্ধি অভিযানের সময় বিতর্কিত হন। তাকে নিয়ে নানা রকম বিতর্ক আছে এবং তার ইমেজ নেতিবাচক। শুদ্ধি অভিযানের সময় তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বার্তা শোনা গেলেও পরবর্তীতে তা মাঝ পথেই থেমে যায়। আওয়ামী লীগের এই হুইপ প্রভাবশালী হলেও চট্টগ্রামের বাইরে তার ইমেজ খুবই নেতিবাচক। রাজনীতিতে কৌশলগত কারণে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে পারছে না আওয়ামী লীগ।

আরও পড়ুন:  সম্পদের পাহাড়ে এমপি শাওন ,বার্ষিক আয় ১০ কোটি টাকার ওপরে

নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন : নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন যুব লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ছিলেন। তার বিরুদ্ধে অনৈতিক টেন্ডারবাজিসহ নানা অভিযোগ রয়েছে। শুদ্ধি অভিযানের শুরুতেই তার ব্যাংক হিসেব তলব করা হয়েছিল। এছাড়া আইনি প্রকিয়াও শুরু করা হয়েছিল। কিন্তু সেই আইনি প্রক্রিয়ার তেমন কোনো অগ্রগতি হয়নি। এর আগে নুরুন্নবী চৌধুরী শাওনের চালকের রহস্যজনক মৃত্যু ঘটনার রহস্য আজও উন্মোটিত হয়নি। নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন কি কারণে আওয়ামী লীগের জন্য অপরিহার্য তা নিয়ে খোদ আওয়ামী লীগের মধ্যেই প্রশ্ন রয়েছে।

শামীম ওসমান : যদিও শামীম ওসমানকে নিয়ে এখন বিতর্ক অনেক কম। তবে নারায়নগঞ্জে শামীম ওসমান আর সেলিনা হায়াতের বিরোধ পুররো এবং চর্চিত। শামীম ওসমানের জন্য দুই ধরণের বক্তব্যই পাওয়া যায়। আওয়ামী লীগের জন্য নিবেদিত প্রাণ তিনি। কিন্তু আওয়ামী লীগের বাইরে তার ইমেজ নিয়ে অনেক প্রশ্ন রয়েছে।

এই সমস্ত ব্যক্তি দলের জন্য অ্যাসেট না লিয়াবিলিটি সেই প্রশ্ন থাকতেই পারে। কারণ অনেকেই মনে করেন তারা দলের কাছে এক রকমের বোঝা হয়ে আছেন। কারণ তাদের ইমেজের কারণেই সারা দেশে আওয়ামী সম্পর্কে মানুষের কাছে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়।

আবার অনেকে মনে করেন দলের জন্য এরা ইতিবাচক কারণ এরা ছাড়া ঐ এলাকার সংগঠন ধরে রাখা অনেক কঠিন। ইতিবাচক না নেতিবাচক সেই বিতর্ক এড়িয়ে সবার দৃষ্টি আগামী ২০ ও ২১ ডিসেম্বর কাউন্সিলের দিকে। সেই কাউন্সিলে তাদের কি অবস্থান হয় সেটাই দেখার বিষয়।

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

  • 768
    Shares