প্রচ্ছদ রাজনীতি আওয়ামী লীগ

যে কারণে ওবায়দুল কাদেরের বদলে সাধারণ সম্পাদক পদে নতুন মুখ

2581
পড়া যাবে: 2 মিনিটে

আগামী ২০ এবং ২১ ডিসেম্বর আওয়ামীলীগের কাউন্সিল অধিবেশন অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবং এই কাউন্সিল অধিবেশনে এবার সবথেকে বড় আকর্ষণ দলের সাধারণ সম্পাদক পদ। আওয়ামীলীগের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, সাধারণ সম্পাদক পদে ওবায়দুল কাদেরের আরেকবার থাকার সম্ভাবনা বেশি থাকলেও তা নিশ্চিত নয়।

সাধারণ সম্পাদক পদে নানারকম বিকল্প চিন্তাভাবনা এখনো আওয়ামীলীগের ভিতর হচ্ছে। ওবায়দুল কাদের নিজেই বলেছেন তিনি সাধারণ সম্পাদক থাকবেন কিনা তা নির্ভর করবে শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তের উপর। দলের কাউন্সিল অধিবেশনে এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের এখতিয়ার একমাত্র দলের সভাপতির।

আওয়ামীলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা কর্মীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, পাঁচটি কারণে সাধারণ সম্পাদক পদে পরিবর্তন হতে পারে। ওবায়দুল কাদেরের বদলে সাধারণ সম্পাদক পদে নতুন মুখ দেখা যেতে পারে। যে পাঁচটি কারণে সাধারণ সম্পাদক পদে পরিবর্তন দেখা যেতে পারে।

দল ও সরকার আলাদা করার নীতি : আওয়ামীলীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দল এবং সরকারকে আলাদা করার নীতি গ্রহণ করেছে এবং তিনি একাধিক সময় বলেছেন যে, যারা দলের নেতৃত্বে থাকবেন, তাঁরা সরকারে থাকবে না। সরকারকে জবাবদিহিতায় আনা এবং দলকে সাংগঠিকভাবে শক্তিশালী করার চিন্তাভাবনা থেকেই এরকম ভাবনা আওয়ামীলীগ সভাপতির এসেছে। আর এটা হলে ওবায়দুল কাদেরের সাধারণ সম্পাদক পদে থাকা অনিশ্চিত হয়ে যাবে।

কাদেরের অসুস্থতা : যদিও ওবায়দুল কাদের সর্বশেষ সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন তিনি শারীরিকভাবে সম্পুর্ণ ফিট। তারপরেও একজন ওপেন হার্ট সার্জারি করা মানুষ একসাথে এত দায়িত্ব পালন করা এবং ছুটে বেড়ান স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। ওবায়দুল কাদেরের একাধিকবার প্রধানমন্ত্রী তাঁর স্বাস্থ্যের ব্যাপারে যত্ন নেয়ার কথা বলেছেন। শারীরিক অসুস্থতার কারণে ওবায়দুল কাদেরের বিকল্প বিবেচনা করা হতে পারে বলে আওয়ামীলীগের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে।

আরও পড়ুন:  বিতর্কিত না হলেও ওবায়দুল কাদেরের আ’লীগে সাধারণ সম্পাদকের পদ নিশ্চিত নয়

পদ্মা সেতুতে জোর দেয়া : পদ্মা সেতু আওয়ামীলীগ সরকারের জন্য একটা চ্যালেঞ্জ এবং বাংলাদেশের একটা নতুন ব্রান্ডিং। এই পদ্মাসেতুর মাধ্যমে বাংলাদেশ তাঁর আত্মঅহংকার এবং আত্মমর্যাদার পতাকা সারাবিশ্বের কাছে তুলে ধরেছে। সারা দেশের মানুষও পদ্মা সেতু নিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাহসী ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেছে। আর এ কারণেই পদ্মা সেতুর ওপর আওয়ামী লীগ এ বছরে জোর দিতে চায়। এ কারণেই পদ্মা সেতুর দায়িত্বে থাকা মন্ত্রীকে অন্য কোন দায়িত্ব না দেওয়ার চিন্তাভাবনাও আওয়ামী লীগের একাংশের রয়েছে বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

দলে সিন্ডিকেট করতে না দেওয়া : বিভিন্ন সময় দেখা গেছে যারাই দায়িত্ব পেয়েছেন তারাই দলের মধ্যে একটি সিন্ডিকেট করেছেন। সিন্ডিকেট তৈরী করে তার নিজের পক্ষের লোকজনকে বিভিন্ন জায়গায় বসিয়েছেন। স্থানীয় তৃণমূল কমিটিগুলো সিন্ডিকেটের তত্বাবধানে গঠিত হয়েছে। অঙ্গ সহযোগি এবং ভ্রাতৃপ্রতীম কমিটিগুলো সিন্ডিকেট দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়েছে। ফলে সাধারণ কর্মীদের কোনঠাসা করে একটি গ্রুপ আধিপত্য বিস্তার করে যা সংগঠনের জন্য ক্ষতিকর। এরকম সিন্ডিকেট যেন নতুন করে গড়ে না ওঠে এজন্য সাধারণ সম্পাদক পদে পরিবর্তনের চিন্তাভাবনা চলছে। ওবায়দুল কাদেরের মেয়াদে একটা ঘনিষ্ঠ বলয় তৈরী হয়েছে। এই বলয়রাই সবজায়গায় গুরুত্ব পাচ্ছে। সেজন্য এই সিন্ডিকেট ভেঙ্গে দেওয়ার জন্য সাধারণ সম্পাদক পদে পরিবর্তনের একটা সম্ভাবনা রয়েছে বলে অনেকে মনে করেন।

আরও পড়ুন:  মির্জা ফখরুলের বক্তব্য রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল

কাদের বিরোধীদের ঐক্য : ওবায়দুল কাদের সাধারণ সম্পাদক হয়ে পুরো আওয়ামী লীগকে সন্তুষ্ট করতে পারেনি। আওয়ামী লীগের একজন বর্ষীয়ান নেতা বলেছেন যে, এটাই গণতন্ত্রেরে সৌন্দর্য্য এবং গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলের আকর্ষণ। সেখানে দলের মধ্যে নানা মত পদের বিরোধীতা থাকবেই। ওবায়দুল কাদের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে থাকবেন এটা দলের একটা অংশ চায় না। তারা চায় না জন্যই এবার যেন ওবায়দুল কাদের সাধারণ সম্পাদক পদে না থাকেন তারা ক্রমশ ঐক্যবদ্ধ হচ্ছেন। এমনকি তারা একক সাধারণ সম্পাদক দেওয়ার চিন্তাভাবনাও করছেন। এটিই যদি হয় তাহলে ওবায়দুল কাদেরের ভাগ্য বিপর্যয় ঘটলেও ঘটতে পারে।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শেষ পর্যন্ত কে হবেন তা একমাত্র আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাই জানেন। কিন্তু আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অধিবেশনে যে মূল আকর্ষণ দলের সাধারণ সম্পাদক এটা নিয়ে কারো কোন সন্দেহ নেই।

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

  • 352
    Shares