প্রচ্ছদ ভিন্ন স্বাদের খবর

একসময়ের পুরুষ হয়ে গেলেন নারী

76
একসময়ের পুরুষ হয়ে গেলেন নারী
রূপান্তরকামী নৃত্য শিল্পীদের সঙ্গে নিয়ে নাচের দল ‘রুদ্রপলাশ’। নিজস্ব চিত্র
পড়া যাবে: < 1 minute

জন্মেছিলেন পুরুষের রূপ নিয়ে। কিন্তু বয়স বাড়ার সঙ্গে নিজেকে মেয়ে হিসেবেই ভাবতে শুরু করেছিলেন সায়ন্তন ঘোষ। মনে হয়েছিল, তাঁর এই পুরুষজন্ম মিথ্যে। তিনি আদতে এক জন নারী। আর সেখানেই সমস্যার শুরু।

ছেলে হিসেবে জন্ম হলেও তাঁর মেয়েলি হাবভাবের জন্য পরিবার, স্কুল, কলেজ সর্বত্র অন্যের ব্যঙ্গের মুখে পড়তে হয়েছে তাঁকে। কিন্তু সেই সব বাধা অতিক্রম করে নিজেকে একজন রুপান্তরকামী হিসেবে সমাজের সামনে তুলে ধরেছেন তিনি। সায়ন্তন ঘোষ থেকে হয়েছেন মেঘ সায়ন্তন।

শুধু নামের বদল নয়, একজন রূপান্তরকামী আইনজীবী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন তিনি। একই সঙ্গে পরিচিত হয়েছেন নৃত্যশিল্পী হিসেবেও। কিন্তু তাঁর এই সাফল্য খুব সহজে আসেনি। স্কুল-জীবনে কোনও সহপাঠীকে পাননি ক্লাসে তাঁর পাশে বসার জন্য।

আরও পড়ুন:  মনে হয় দেশটা ছেড়ে চলে যাই ( ভিডিও )

স্কুলের গণ্ডি পেরিয়ে আইন নিয়ে কলকাতার হাজরা ল-কলেজে ভর্তি হন সায়ন্তন। সেখানেও ছবিটা ছিল একই রকম। সহপাঠীদের কাছে প্রতিদিন লাঞ্ছনার শিকার হওয়া। মুখ বুজে সব কিছু সহ্য করে ২০১১ সালে আইনের স্নাতক হন তিনি। এর পরে আলিপুর কোর্টে শুরু করেন প্র্যাকটিস। কিন্তু পরিস্থিতি তখনও কিছুই বদলাল না। প্রাত্যহিক অপমানের জেরে বাধ্য হয়ে আদালতে যাওয়া ছেড়ে দিয়েছিলেন সায়ন্তন।

ছোট থেকেই নাচের প্রতি প্রেম সায়ন্তনের। জীবনের কঠিন সময়ে বেছে নিলেন সেই ধ্রুপদী নৃত্যকেই। তৈরি করলেন ‘রুদ্রপলাশ’ নামে নাচের দল। রূপান্তরকামী নৃত্য শিল্পীদের সঙ্গে নিয়ে এই ‘রুদ্রপলাশ’-এর নাচ ছড়িয়ে পড়ল দেশে-বিদেশে।

আরও পড়ুন:  উকিল হওয়ার স্বপ্ন ভঙ্গের পথে ২ হাজার শিক্ষার্থীর

এই ভাবে বছর পাঁচেক চলার পরে সায়ন্তনের মনে হয় সমাজকে একটা বার্তা দেওয়া প্রয়োজন। রূপান্তরকামীরাও যে আর পাঁচ জন সাধারণ মানুষের মতোই, তা সমাজকে বোঝাতে হবে। সেই কারণে যে কালো কোট তিনি এক দিন ছেড়ে দিয়েছিলেন, তাকে হাতিয়ার করেই ফের যোগ দিলেন আদালতে।

রূপান্তরকামী আইনজীবী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করলেন নিজেকে। শুরু হল এক অন্য লড়াই। এক সময় যে সহকর্মীরা তাঁকে ব্যঙ্গ করতে পিছপা হতো না, এখন তাঁরাই সায়ন্তনকে সমীহ করেন। মেঘ সায়ন্তন চান, সহানুভূতি নয়, রূপান্তরকামী সমাজের সমানাধিকার, সম মর্যাদা।

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি