প্রচ্ছদ বাংলাদেশ উপজেলা

অন্ধ বৃদ্ধা জননীর সাথে এ কেমন নিকৃষ্ট আচরণ !

92
অন্ধ বৃদ্ধা জননীর সাথে এ কেমন নিকৃষ্ট আচরণ !
ছবি: সংগৃহীত
পড়া যাবে: 2 মিনিটে

বগুড়ার শিবগঞ্জে ৯০ বছ‌র বয়সী অন্ধ বৃদ্ধা মাকে রাতের আঁধারে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে পাষণ্ড ছেলে। কষ্ট করে মানুষ করা ৬ সন্তানের এক বৃদ্ধা জননীর সাথে এমন নিকৃষ্ট আচরণের ঘটনা ঘটেছে উপজেলার মোকামতলা ইউপির চাকলমা পুর্বপাড়া গ্রামে।

১৮ শতক সম্প‌ত্তির লো‌ভে ওই মাকে নির্যাতন ক‌রে রাতের আঁধারে গাছের নিচে ফে‌লে রেখে গে‌ছে সন্তানরা। গ্রামবাসী বৃদ্ধা‌কে উদ্ধার প‌রে পুলিশের নিকট অভিযোগ ক‌রে‌ছে।

জানা গেছে, উপজেলার মোকামতলা ইউনিয়নের পূর্ব চাকলমা গ্রামের মৃত. হাফিজার রহমানের পরিবারের মাত্র ১৮ শতক জমি নিয়ে দীর্ঘদিন যাবৎ বিরোধ চলে আসছে। হাফিজার রহমানের স্ত্রী বৃদ্ধা তামবিয়া বিবি (৯০) এর ৫ ছেলে ও ১ মেয়ে। তার ছোট ছেলে আ. হামিদ পুলিশের চাকরি করে আর একমাত্র মেয়ে ছামিনা আক্তার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা ।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, বৃদ্ধা মা‌কে বড় ছেলে ব্যবসায়ী আব্দুল আওয়াল ও ছোট ছেলে আঃ হামিদ দেখভাল ক‌রেন। এই ১৮ শতকের জমির মধ্যে ১০ শতক জমি মেঝ ছেলে আলিম ও ছোট ছেলে হামিদকে বৃদ্ধা মা লিখে দেয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে বৃদ্ধা তামবিয়াকে ভাত দেয়া থেকে বিরত রাখে বড় ছেলে আওয়াল। এরপর গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায়‘একা কেন ভাত দিব’এমন অভিযোগ তুলে বৃদ্ধা মাকে ছোট ছেলে হামিদের বাড়ির গেটের সিঁড়ির উপর রেখে আসে মেঝো ছেলে আলিম। এরপর দীর্ঘ সময় সিঁড়িতে বসে থাকে অসহায় মা। পরে আবার মেঝ ছেলে গ্রামবাসীর চাপের মুখে ওই রাতেই মাকে বাসায় নিয়ে আসে।

আরও পড়ুন:  শ্রমিক লীগ নেতা তুফান সরকারের ভাবি বিদেশি পি*স্তল ও গু*লিস*হ গ্রে*প্তার

গ্রামবাসীরা জানায়, বিষয়টি নিয়ে রাতেই সমঝোতা বৈঠক বসে। কিন্তু বৈঠকে বার বার ডাকা সত্ত্বেও তার ছেলেরা উপস্থিত হয়নি। এ ঘটনায় রাতে উভয় পরিবারের মধ্যে তুমুল ঝগড়া বিবাদ শুরু হয়। এতে আঃ হামিদ ও তার বড় বোন উপজেলার ‌কিচক ভাকুন্দাহার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা ছামিনা আক্তার মার‌পিটের শিকার হন।

এ ব্যাপারে ছামিনা বলেন, আমার ছোট ও মেঝ ভাই সু-কৌশলে অন্ধ মা‌য়ের কাছ থেকে ১৩ শতক জমি লিখে নিয়ে এখন আর তাকে দেখাশোনা করে না।

তিনি আরো বলেন, গতকাল রাতে আমার অন্ধ মা তার বাড়িতে গেলে জোরপূর্বক তাকে বাগানের ময়লা আবর্জনায় নিক্ষেপ করে।

আরও পড়ুন:  ভয়ঙ্কর প্র*তারণার ফাঁ*দ,লাখ টাকা দিলেই তারা দিতেন ভু*য়া সার্টিফিকেট

এ ব্যাপারে ছেলে আঃ হামিদ মার‌পি‌টের বিষয়‌টি অস্বীকার ক‌রেন।

এ বিষয়ে মোকামতলা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মো. মিজানুর রহমান বলেন, অভিযোগ তদন্ত করে দেখা গেছে, পুলিশ কন্সটেবল ছোট ছেলেকে জমি রেজিস্ট্রি করে দেয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে মেঝ ছেলে তার বাড়ি থেকে এনে ছোট ছেলের বাড়ির গেটের সিঁড়িতে তাদের মাকে রেখে যায়। তার মাকে নির্যাতন বা বাড়ির বাইরে ফেলে দেবার কোন ঘটনা তদন্তে পাওয়া যায়নি।

মোকামতলা ইউপি চেয়ারম্যান মোকলেছার রহমান বলেন, বিষয়টি আমি জেনেছি। জমি সংক্রান্ত বিরোধে এমন ঘটনা ঘটেছে। বৃদ্ধা মাকে নির্যাতন বা বাইরে ফেলে দেবার ঘটনা আমি শুনিনি।

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি