প্রচ্ছদ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

জোরকদমে শুরু হয়েছে চাঁদ ও মঙ্গলে ঘরবাড়ি বানানোর কাজ

107
পড়া যাবে: 2 মিনিটে

চাঁদ, মঙ্গলে ঘর’বাড়ি বানানোর প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে জোরকদমে। তবে ইট, সিমেন্ট, বালি, চুনসুরকি দিয়ে নয়, সেই সব ঘরবাড়ি বানানো হবে মূলত ছত্রাক দিয়ে। বলা ভাল, মাটির নীচে থাকা ছত্রাকের যে অংশটিকে আমরা দেখতে পাই না সাধারণত, মূলত সেই মাইসেলিয়া দিয়ে। আসলে যেটা ছত্রাকের মূল অংশ। ক্যালিফোর্নিয়ার সিলিকন ভ্যালিতে না’সার এমস রিসার্চ সেন্টারে মাইকো-আর্কিটেকচার প্রজেক্টের প্রিন্সিপাল ইনভেস্টিগেটর লিন রথসচাইল্ড জানিয়েছেন, চাঁদ আর মঙ্গলে নতুন বসতির সেই সব ঘরবাড়িতে মানুষ একাই থাকবে না। থাকবে অন্য জীবও। এখন যেমন ফ্ল্যাটে, বাড়িতে মা’ছের অ্যাকোয়ারিয়াম থাকে, চাঁদ-মঙ্গলের ঘরবাড়িতেও তেমনই রাখা থাকবে নানা ধরনের অণুজীব।

কী না পারে ছত্রাকের মাইসেলিয়া! যারা বাঁচার প্রয়োজনে শুষে নেয় সৌরশক্তি। আর তা দিয়ে পানি ও বিষাক্ত কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাসকে বদলে দেয় অক্সিজেনে। কার্যত বায়ু*মণ্ডলহীন চাঁদ, মঙ্গলে শ্বাসের বাতাস হয়ে উঠবে সেই অক্সিজেনই। পানি ও বিষাক্ত কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাসকে ভেঙে সেই অণুজীবরা বানাতে পারে আরও কিছু পদার্থ। যা খেয়েদেয়ে তারা বেঁচে থাকবে। তাই এদের সায়ানো’ব্যাকটেরিয়াও বলা হয়। পৃথিবীতে ধাতুর ব্যবহারই সভ্যতার রথের চাকাকে তড়তড়িয়ে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছে। কিন্তু পৃথিবীর বাইরে আমাদের বসতি বানাতে ধাতুর ব্যবহার যতটা কম করা যায়, সে কথা মাথায় রেখেই কাজ শুরু করে দিয়েছে না’সা। আর তার জন্যই শুরু হয়েছে ছত্রাক নিয়ে কাজ। যা চাঁদ, মঙ্গলকেও করে তুলবে সবুজ থেকে সবুজতর।

রথসচাইল্ড জানিয়েছেন, ছত্রাকের ক্ষেত্রে কয়েকটি সুবিধা রয়েছে। পৃথিবীর বাইরে যেতে সুদীর্ঘ পথ পেরনোর সময় ছত্রাকের কোনও ক্লান্তি আসবে না! ছত্রাক মরে যাবে না। সেগুলি নি’স্তেজও হয়ে পড়বে না। এমনকী, চাঁদ বা মঙ্গলের মাটিতে পা ছোঁয়ানোর পর আমরা সুযোগসুবিধা মতো ছত্রাকের মাইসেলিয়াকে বাড়িয়ে নিতে পারব। যাতে আমরা নামার পর সেই ছত্রাক সেখানে আমাদের আস্তানা বানিয়ে দিতে পারে। দেখা গিয়েছে, মঙ্গলের অ’সম্ভব রুখুসুখু পরিবেশে দিব্য বেঁচে থাকতে পারে সেই ছত্রাক। বেঁচে থাকতে পারে চাঁদেও, বায়ুমণ্ডলের অভাবে যেখানে প্রতি মুহূর্তেই আছড়ে পড়ছে সূর্য থেকে ছুটে আসা বিষাক্ত কণা, রশ্মি, মহাজাগতিক রশ্মিও। শুধু তাই নয় ছত্রাকের বেঁচে থাকার জন্য যা প্রয়োজন হয় না, সেই অক্সিজেন আম’রা টেনে নিতে পারব। আর বিষাক্ত কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাস টেনে নেবে ছ’ত্রাক।

এমনকী, আমাদের জৈব বর্জ্য বস্তুগু’লিও খেয়ে নিতে পারবে ছত্রাক। বা সেই আ’স্তানায় থাকা ব্যাকটেরিয়াগু’লি। ফলে, চাঁদ, মঙ্গলের পরিবেশ দূষিতও হবে না। রেফ্রিজারেটরে রাখা অনেক দিনের খাবারদাবারেও ছত্রাক জন্মায়। আম’রা বলি ছাতা পড়েছে। যে জৈব যৌগগুলি থেকে পেনিসিলিনের মতো অ্যান্টিবায়োটিক বানানো হয়, অনেক দিন রাখা থাকলে সেই যৌগ*গুলির উপরেও জন্মায় ছ’ত্রাক। রথসচাইল্ডের কথায়, ছত্রাকের চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ তার মাইসেলিয়া অংশটি। এই অংশটিই পরে মাশরুম তৈরি করে। ঠিক মতো তাপমাত্রা, পরিবেশ পেলে তারা আরও বড় কাঠামোও তৈরি করতে পারে। চাঁদ আর মঙ্গলে এই মাইসেলিয়া দিয়ে আমরা যে নতুন বসতি বানানোর পথে এগচ্ছি, তার ঘরবাড়ি’গুলি শুধুই যে চার দেওয়ালের হবে, তা নয়; সেগুলি একই সঙ্গে রক্ষা করবে বাস্তুতন্ত্রকেও।

জানা গেছে, সেখানে বাড়িগুলো হবে তিন তলা বা তিন স্তরের। গম্বুজের মাথাটা দেখা যাবে চাঁদ বা ম’ঙ্গলের পিঠে। জমাট বাঁধা ওয়াটার আইস দিয়ে। সেই ওয়াটার আইস অসম্ভব ক্ষতিকারক তীব্র বিকিরণের হাত থেকে বসতিগু’লিকে বাঁ’চাবে। আর সেই পানি নীচে গড়িয়ে পড়ে পৌঁছে যাবে বসতির দ্বিতীয় তলা বা স্তরে থাকা ছত্রাক ও অণুজীবগুলির কাছে। যাতে সৌরশক্তি দিয়ে সেই পানিকে ভে’ঙে তারা তাদের প্রয়োজনীয় খাবারদাবার পেতে পারে। আবার মানুষের বেঁচে থাকার জন্য ছাড়তে পারবে অক্সিজেনও। পারবে তারও নীচের স্তর বা তলায় থাকা ছত্রাকের মাইসেলিয়াকে টিঁকে থাকার রসদ জো’গাতে।

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

  • 79
    Shares