প্রচ্ছদ ধর্ম ও জীবন

ঈমানদারের জন্য শীতকাল ইবাদতের বসন্তকাল

61
পড়া যাবে: 2 মিনিটে

ঈমানদারের জন্য শীতকাল বি’শেষ গুরুত্বের। হাদিস শরিফে আছে, শীতকাল মুমিনের জন্য ইবাদতের বসন্তকাল। ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, শীতল গণিমত হচ্ছে শীতকালে রোজা রাখা। (তিরমিজি, হাদিস : ৭৯৫) শীতকালে দিন থাকে খুবই ছোট। তাই শীতকালে রোজা রাখলে দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকতে হয় না। সুতরাং শীতকালের অ’ন্যতম করণীয় হলো, কারও যদি কাজা রোজা বাকি থাকে, তাহলে শীতকালে সেগুলো আদায় করে নেওয়া। নফল রোজা রাখারও এটি ভালো সময়। শীতকালে মুমিন বান্দাদের আরেকটি কর্তব্য হচ্ছে শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁ’ড়ানো।

ষড়ঋতুর দেশ বাংলাদেশে বছর ঘুরে আসে শৈত্যপ্রবাহ। হাড়-কাঁপানো শীতে দরিদ্র ও ছিন্নমূল মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে ওঠে। পবিত্র কুরআন মাজীদে আছে, তারা আল্লাহর প্রেমে উ’জ্জীবিত হয়ে দরিদ্র, এতিম ও বন্দিদের খাদ্য দান করে। (সুরা : দাহার, আয়াত : ০৮) রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, যে মুমিন অন্য বি’বস্ত্র মুমিনকে কাপড় পরিয়ে দিল, মহান আল্লাহ ওই ব্যক্তিকে জান্নাতের সবুজ কাপড় পরিয়ে দেবেন। (তিরমিজি, হাদিস : ২৪৪৯) শীত’কালে রাত অনেক লম্বা হয়। কেউ চাইলে পূর্ণরূপে ঘুমিয়ে আবার শেষ রাতে তাহাজ্জুদ পড়তে সক্ষম হতে পারে।

মহান আল্লাহ ঈমানদারদের গুণাবলি সম্পর্কে বলেন, তাদের পার্শ্ব শ’য্যা থেকে আলাদা থাকে। তারা তাদের রবকে ডাকে ভয়ে ও আশায় এবং আমি তাদের যে রিজিক দিয়েছি, তা থেকে ব্যয় করে। (সুরা : সাজদাহ, আয়াত : ১৬) শীতকালে অজু ও গোসলের ব্যাপারে সচেতন হওয়া জরুরি। শীতকালে মানুষের শ’রীর শুষ্ক থাকে। তাই যথাযথভাবে ধৌত না করলে অজু-গোসল ঠিকমতো আদায় হয় না। আর অজু-গোসল ঠিকমতো আদায় না হলে নামাজ শুদ্ধ হবে না। তাই এ বিষয়ে বিশেষভাবে যত্নবান হতে হবে।

এমনকি শী’তের মৌসুমে গরম পানি দিয়ে অজু করলেও সওয়াবে কমতি হবে না। অজুর গুরুত্ব সম্পর্কে মহানবী (সা.) ইরশাদ করেছেন, আমি কী তোমাদের এমন কিছু শিখিয়ে দেব না, যার কারণে আল্লাহ পাপ মোচন করবেন এবং জান্নাতে তোমাদের মর্যাদা বৃদ্ধি করবেন? সাহাবারা বললেন, জি হ্যাঁ, হে আল্লাহর রাসুল! মহানবী (সা.) বললেন, ওই কাজগুলো হলো, মন না চাইলেও ভালোভাবে অজু করা, বেশি প’দক্ষেপে মসজিদে যাওয়া এবং এক নামাজের পর অন্য নামাজের জন্য অপেক্ষা করা। (মুসলিম, হাদিস : ২৫১)

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

  • 84
    Shares