প্রচ্ছদ স্বাস্থ্য

হঠাৎ নাক কান বা গলায় কিছু ঢুকলে যা করবেন

412
পড়া যাবে: 3 মিনিটে

অনেক’সময় খেলতে গিয়ে বাচ্চারা না বুঝেই কিছু জিনিস নাকে কানে বা গলায় দিয়ে ফেলে। ঠিক তখনই বাচ্চার সঙ্গে অভি’ভাবকদেরও বিপদে পড়তে হয়। অনেক সময় তা অনেক বেশি বি পজ্জ নকও হতে পারে। তাই জেনে নিন নাকে কানে কিংবা গলায় কোনও বস্তু আ টকে গেলে কী করবেন-কানে কিছু ঢুকলে বাচ্চাদের কৌতু’হলের শেষে নেই। তাই খেলতে খেলতে কোনও বস্তু কানে ঢুকিয়ে দিতে বাচ্চা’রা দুবার ভাবে না। আর সেখানেই কেলে ঙ্কারি। শুধু বাচ্চা নয়, বড়’দের ক্ষেত্রেও একটি ঘটনা ঘটতে পারে। এই পরিস্থিতিতে সময় থাকতে থাকতে সঠিক সি’দ্ধান্ত নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। কানের ফুটোর মধ্যে পোকামাকড়, মশা-মাছি প্রভৃতি ঢুকে আটকে পড়ে, সে ক্ষেত্রে বাড়িতে নিজেরা খোঁচা’খুঁচি করলে সমস্যা আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা থাকে। শিশু ছাড়াও বড়’দের কানের ভিতরে পোকা’মাকড়, মশা-মাছি অনেক সময় ঢুকে যায়।

এক্ষেত্রে জরুরি ভিত্তিতে শিশুকে অথবা আক্রান্ত ব্যক্তিকে চিকিত্সকের কাছে নিয়ে যেতে না পারলে বাড়িতে প্রথমেই বুঝতে চেষ্টা করুন, কানের মধ্যে যে জিনিস’টি ঢুকেছে, সেটি জীবন্ত কিছু না কি জড় পদার্থ। জড় পদার্থ ঢুকে থাকলে চিকিত্সকের কাছে যেতে সামান্য দেরি হলেও অ’সুবিধা নেই। কিন্তু কানে মশা-মাছি, তেলা’পোকা, পিঁপড়ে বা অন্য কোনো জীব ঢুকে পড়লে সেটিকে মে রে ফে লতে চেষ্টা করতে হবে, না হলে কানের ভেতরে আটকা পড়া প্রাণীটির নড়া’চড়ার কারণে শিশুর কানে ব্যথা ও অ’স্বস্থি হতে থাকবে। নিজেরা চেষ্টা করলে অনেক সময় কানের পর্দা ছিদ্র হয়ে যায় অথবা কানের ভিতরে ক্ষত হয়ে যায়। এমন সমস্যার ক্ষেত্রে হাতের কাছে পাতলা যে’কোনো ধরনের তেল (অলিভ ওয়েল অথবা নারিকেল তেল) ধীরে ধীরে ফোটায় ফোটায় কানের মধ্যে দিন। বাড়িতে এর বেশি কিছু করার প্র’য়োজন নেই। এরপর যত দ্রুত সম্ভব, শিশুকে হাস’পাতালে নিয়ে যাওয়া উচিত।

আবার উদ্ভিজ্জ বস্তু ঢুকে গেলে যেমন ধরুন মটর’শুঁটি সেই বস্তুর কানের ভিতরে বেড়ে ওঠার ভয় থাকে। এক্ষেত্রে মটরশুঁটি কানের ঘাম ও আবহাওয়ার কারণে ফুলে যেতে পারে। ফলে কানের ব্যথা বাড়ে। সেই বস্তু’টিকে বের করার সময়ও বেগ পেতে হয়। তাই এক্ষেত্রে এক’দণ্ড সময় নষ্ট না করে বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকের কাছে আনতে হবে। এর আগে অবশ্য নি’র্দিষ্ট কানে দুই-এক ফোঁটা গ্লিসা’রিন দেওয়া দর’কার। কানে গ্লিসারিন দিলে উদ্ভিজ্জ বস্তুটি আকারে ছোট হয়ে যাবে। কমবে ব্যথা। আবার বেশ কিছু মানুষ কানে জল ঢোকার সমস্যার অভিযোগ করেন। তবে সত্যি বলতে, কানে ঢোকা জল আপনা থেকেই বেরিয়ে আসা বা উবে যাওয়া দর’কার। তাই বেশি চিন্তা নয়। কিছুক্ষণ অপেক্ষা করলেই সমস্যা মিটে যাবে। চাইলে কানে গরম সেক দিতে পারেন। তবে বারং’বার কানে জল ঢুকে যাও’য়ার ঘটনা ঘটার অর্থ হতে পারে কানের পর্দায় ছিদ্র রয়েছে। তাই বার’বার এই ঘটনা ঘটলে একবার অন্তত চিকিত্সকের কাছে আসতে হবে।

নাকে কিছু ঢুকলে; নাকে কোনও কিছু ঢুকলে, সম’স্যার শেষ থাকে না। যদি দেখেন যে বস্তুটি নাকে ঢুকে গেছে তা ধারালো কোনও বস্তু নয়, গোল বস্তু নয় বা বস্তুটি বের করার মতো অবস্থায় রয়েছে তা আঙুল বা চিমটে দিয়ে বের করে নিতেই পারেন। তবে সাব’ধান থাকতে হবে। খেয়াল রাখবেন, বাচ্চা’রা অনেক সময় কোনও বস্তুকে নাকের ভিতর ঠে লতে ঠে লতে অনেক গ ভীরে নালীর মধ্যে ঢুকিয়ে ফেলে। এমন অবস্থায় খালি চোখে নাকের ভিতরে সেই বস্তুটিকে আর দেখা সম্ভব হয় না। এখানে মনে রাখার বিষয় হল, নাকে কোনও বস্তু ঢুকলে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সেই নাকে সর্দি হয়। জল পড়ে টপ’টপ করে। তখন নাকে বস্তু ঢুকে রয়েছে বলে ধরে নিয়ে চিকিত্সকের কাছে যাওয়ার ভালো। নাকে কী আছে তা ডাক্তারেরা এক্সরে করে নিশ্চিত হন। ধাতব বাদে অন্য ধরনের কোনও বস্তু হলে নাকের মধ্যে ক্যামেরা’যুক্ত নল ঢুকিয়ে দেখেন ডাক্তা’রেরা। বস্তু এবং তার অবস্থান সম্বন্ধে নি’শ্চিত হওয়ার পর বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকরা বিভিন্ন যন্ত্র ব্যবহার করে সেই বস্তুটিকে বাইরে বের করে দেন। তাই নাকে কিছু আ’টকে গেলে দেরি না করে অব’শ্যই চিকিত্সকের কাছে যান।

গলায় ঢুকলে; গলায় কাঁ টা ঢু কলে অনেকেই নানা কিছু করার পরা’মর্শ দিয়ে থাকে। তাতে খুব এখটা কাজ দেয় না। ভুক্ত’ভোগী মাত্রই জানেন, বিষয়টা ঠিক কতটা অস্বস্তিকর। তবে ভাত, কলা, রুটির মতো খাদ্যবস্তু খেলে কাটা নেমে যেতে পারে। সত্যি বলতে, কিছু ক্ষেত্রে এই পদ্ধতি অব’লম্বন করে কাঁটা নেমে যায়। তবে মুশকিল হল, এই পদ্ধতির কারণে বেশির’ভাগ সময়ই কাঁ’টা গলার আরও ভিতরে ঢুকে যায়। তখন সেই কাঁটা বের করে আনাও ততো’ধিক কঠিন হয়ে পড়ে। তাই প্রথমেই এসব ধারণা থেকে দূরে সরে আসুন। তবে শুধু মাছের কাঁটা নয়, মাংসের টুকরো, ধানের তুষ সহ আরও হাজারো জিনিস গলায় গেঁথে যেতে পারে। সাধারণত টনসিলে বা জিভের পিছনের দিকেই এই বস্তু’গুলি গেঁথে যায়। এক্ষেত্রে প্রাথমিকভাবে হাত দিয়ে বের করার চেষ্টা করা যেতে পারে। জল’পান করেও দেখা যেতে পারেন। জলপানে সাধারণত আটকে থাকা বস্তু না বেরলেও, সেই বস্তু কোথায় আটকে রয়েছে, তা বোঝা যায়। ঢুকে থাকা বস্তু না বেরিয়ে আসলে অবশ্যই চিকিত্সকের কাছে আসতে হবে। বাচ্চা’দের ক্ষেত্রে আরেকটি বড় সমস্যা হল তা অনেক সময়ই পেনের ক্যাপ, খেলনার টুকরো গলায় আটকে ফেলে। তাই অভি’ভাবকদের দের না করে বাচ্চাকে নিয়ে চিকিত্সকের কাছে যাওয়া দর’কার।না হলে বিপদ বাড়তে পারে।

বাংলা ম্যাগাজিন /এসপি

সাম্প্রতিক খবর আপনার মুঠোফোনে পেতে এখনি প্লে-স্টোর থেকে Bangla Magazine সার্চ করে ডাউনলোড করুন বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান নিউজ ম্যাগাজিন অ্যাপটি। অথবা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন এখানে। ভালো লাগলে অবশ্যই রেটিং দিয়ে উৎসাহী করুন।

  • 61
    Shares